ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

শক্তিমানকে নিয়ে যা বললেন সাংবাদিক প্রভাষ আমিন

নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে হত্যা করার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তার স্মৃতিচারণ করেছেন এটিএন নিউজ এর বার্তা প্রধান ও শক্তিমান চাকমার সহপাঠি প্রভাষ আমিন। তিনি লিখেন-
`অফিসে এসেই শুনছিলাম দুর্বৃত্তের গুলিতে রাঙামাটিতে এক উপজেলা চেয়ারম্যান নিহত হয়েছেন। আর দশটা খুনের ঘটনার মতই নিয়েছি সংবাদটি। তখনও নিহতের ছবি আসেনি। নামটাও খেয়াল করিনি। হঠাৎ স্ক্রল দেখে চমকে গেলাম- শক্তিমান চাকমা। দ্রুত চেক করলাম, ততক্ষণে ছবিও চলে এসেছে। সেই শক্তিমানই, নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান। জনসংহতি সমিতির একটি অংশের সহ-সভাপতি। কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে গেল। কত হাজার স্মৃতি। ভিক্টোরিয়া কলেজে আমাদের সাথে বেশ কয়েকজন চাকমা পড়তো। আমার মত তারাও নিউ হোস্টেলে থাকতো। শক্তিমান তাদের একজন। চাকমা বন্ধুদের মধ্যে জ্ঞানজ্যোতি ইঞ্জিনিয়ার। দীপুল সম্ভবত ৮৬ সালেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল, আর ফিরে আসেনি। রাজিব রাঙামাটিতে থাকে। শক্তিমান রাজনীতি করতো। ৮৭ সালের পর শক্তিমানের সাথে আর দেখা হয়নি। দুয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে। তার খবর পেতাম রাজিবের কাছে। রাজিব আমাদের পুনর্মিলনীতে আসে। গত সপ্তাহেও ঢাকায় এসেছিল। ডা সোহেলের আশুলিয়ার বাড়িতে যাওয়ার সময় রাজিব ছিল আমার গাড়িতে। তখনও শক্তিমানকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। চাকমাদের সাথে মিশে আমার মনে হয়েছে, তারা সহজ সরল, কিন্তু গোয়ার। শক্তিমান ছিল তেমনই। নামের মত তার শরীরও ছিল শক্তিশালী। আমি প্রায়ই তার হাতে ঘুষি মেরে শক্তি পরীক্ষা করতাম। শক্তিমান হাসতে হাসতে তার হাতের পেশী ফুলিয়ে বলতো, মার দেখি। শক্তিকে ঘুষি মারতে গিয়ে উল্টো নিজেই ব্যথা পেতাম। আর শক্তি হাসতো। আমার এই প্রিয় বন্ধুটির মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আহারে, পাহাড়ে কবে যে শান্তি ফিরবে?’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button