অরণ্যসুন্দরীব্রেকিংরাঙামাটিলিড

লোকচক্ষুর আড়ালে উদ্ভিন্ন গিরি নির্ঝর

হ্রদ, পাহাড় আর ঝিরি-ঝরনার জনপদ পার্বত্য রাঙামাটি। দেশের এই পার্বত্য অঞ্চল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশী ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পাহাড়ের পর পাহাড় আর বিস্তৃত সবুজের সমারোহ আবেগপ্লুত করবেই যে কোনো ভ্রমণপ্রেমীকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বন-পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে দেশী-বিদেশী ভ্রমণপ্রেমীদের আগমন ঘটে এই জনপদে। কেউ কেউ ঘুরে বেড়ান হ্রদে-পাহাড়ের ভাজে দর্শনীয় স্থানে। কেউবা ছুঁটে যান উদ্ভিন্ন যৌবনা ঝরনায়।

রাঙামাটিতে এক সময় ঝরনার কথা শুনতেই উঠে আসতে সুবলং ঝরনার কথা। তবে এখন পাহাড়ের ভাজে ভাজে মানবকূল আবিষ্কার করেছে ছোট-বড় অসংখ্য ঝিরি-ঝরনার। তার একটিই-দেবতাছড়ি ঝরনা। তবে ঝরনাটির স্থানীয়ভাবে কোনো নাম নেই। স্থানীয় দেবতাছড়ি পাড়ায় অবস্থিত বলেই বলা হয়ে থাকে ‘দেবতাছড়ি ঝরনা’। লোকচক্ষুর আড়ালের এই গিরি নির্ঝরে পৌঁছানো এতটা সহজও নয়। পাড়ি দিয়ে হয় দীর্ঘপথ। তবে জনশূন্য থাকা এই ঝরনাটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রায় সময়ে ঝরনার শরীর ভেজাতে ছুঁটে চলছে তারুণ্যের দল।

সম্প্রতি দেবতাছড়ি ঝরনায় ঘুরে এলো আটজনের একটি ভ্রমণদল। ভ্রমণদলের সদস্য নিহার কবির জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলা শহরের অদূরে থাকা এই ঝরনাতে এখনো মানুষের নজর তেমনটা পড়েনি। এটি আবিষ্কারের পর থেকেই স্থানীয় ভ্রমণপ্রেমীদের সমাগম বাড়ছে, দিনদিন জনপ্রিয় উঠছে। আমরা বন্ধুরা মিলে ক’দিন আগে শুরু এসেছি। তবে অনেকটা দুর্গম পথ। তাই ঝরনাটি লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে আছে। বর্ষা কিংবা বর্ষা পরবর্তী সময়ে এমন ঝরনাগুলো প্রাণ ফিরে পায়। তবে প্রচারণার অভাবে জেলার অনেক অধিবাসীই এসব ঝরনার কথা জানেনই না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরে এই সময়টাতে পাড়ার ঝরনাতে দূরদুরান্ত থেকে মানুষ ছুঁটে আসছে। মানুষের সমাগম বাড়া দেখেও বলার অপেক্ষা রাখে না এটি যে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

দেবতাছড়ি ঝরনা থেকে ঘুরে আসা ভ্রমণপ্রেমী সাইফুল বিন হাসান জানান, এতদিন অনেকেই জেলা শহরের অদূরে পড়ে থাকা এই ঝরনার খবর জানতে না। এখন লোকমুখে শুনে শুনে অনেকেই এই ঝরনাটিতে আসছে। শরীর-মনকে ভিজিয়ে নিচ্ছে।

সাইফুল মনে করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি অন্যান্য জেলার থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে অনেক কিছুই করা সম্ভব। এখানে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠলে পাহাড় বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতি পাবে।

ঝরনায় যেভাবে যাবেন

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম দেবতাপাড়াতেই এই ঝরনাটির অবস্থান। জেলা শহর অদূরে এই ঝরনাটিতে যেতে হলে টানা ৪০-৪৫ মিনিটের মতো সড়ক পথে অটোরিকশা কিংবা বাসে যেতে হবে। ঘাগড়া-কাপ্তাই বড়ইছড়ি সড়কের ঘাগড়া বাজার থেকে কাপ্তাইয়ের পথে তিন কিলোমিটার পাড়ি দিলেই দেবতাছড়ি পাড়া। পাড়ায় প্রবেশের পথেই রয়েছে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান; যেটি বুইজ্জার দোকান নামেই পরিচিত। এই দোকানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ঝিরি পথে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে এই গিরি নির্ঝরের। জেলা শহর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নিলে ভাড়া পড়বে হাজার খানেক।

প্রয়োজনীয় তথ্য

ভ্রমণ যাওয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও পানীয় জল সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। কেননা মাঝখানে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা হাঁটাচলা করতে যেকোনো ধরণের কাটাছেঁড়া হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা অনেকটা প্রয়োজন। এছাড়া খালী পায়েও ঝিরি পথে হাঁটা যাবে না। আবার দীর্ঘ পাহাড়ি পথে হাঁটার পর ক্ষিদে ও পানির তৃষ্ণা লাগবে তাই শুকনো খাবার ও পানীয় জল সঙ্গে রাখা অতীব জরুরি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button