ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

লেকার্সের গৌরবের রজতজয়ন্তী

পিছিয়ে পড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর লোকজনের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এবং সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে যাত্রা শুরু করেছিল লেকার্স পাবলিক স্কুল। প্রথম দিকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মতই শুরু করা হয়েছিল কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই স্কুল আজ বিশালাকার ধারন করেছে। এর বৃপ্তি বেড়েছে, বেড়েছে চাহিদা আর তাইতো বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তবে এর জন্য কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি এর সাথে সংশ্লিষ্টদের। অনেক চড়াই উৎরাই পার করে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে এর কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার শুরুতেও নিন্দুকেরা নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছিল। আদৈ কি এখানকার মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে সেনা ছাউনির এই প্রতিষ্ঠান? কতদুরই বা এগোতে পারবে? কিন্তু নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে সগৌরবে এগিয়ে যায় লেকার্স। আর পথচলার অল্প সময়েই তিন জেলার সকল ধর্ম-বর্ণ ও জাতি গোষ্ঠীর লোকজনের কাছে আস্থা-ভালবাসা আর নির্ভরতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবছরই এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে বের হয়েছে জেলার সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই আজ দেশ-বিদেশের নামকরা সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, কেউ বা হয়েছেন নামকরা চিকিৎসক, কেউবা ইঞ্জিনিয়ার কেউবা স্ব স্ব কর্মে প্রতিষ্ঠিত আবার কেউ কেউ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

শুধু পড়ালেখায় নয়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জল সব অর্জন। হাঁটি হাঁটি পা পা করে পার করে ২৮টি বছর। নানাবিধ কারণে ২৫বছর পূর্তির সময় রজত জয়ন্তী কিংবা পুনর্মিলনীর মত অনুষ্ঠান আয়োজন করতে না পারলেও এবার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পর সেই দুঃসাধ্য কাজটিই করে দেখিয়েছেন অধ্যক্ষ নাজনীন নাহার। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন পরিবর্তন আনেন; তেমনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেও গ্রহণ করেন নানাবিধ পরিকল্পনা।


প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করতে না পারার কিছুটা বেদনাতো আছেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। কিন্তু সেই আক্ষেপটাই যেনো দায়িত্ব গ্রহণের পর বুঝেছিলেন অধ্যক্ষ নাজনিন নাহার। আর তাইতো দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়েই উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমবারের মত পূনর্মিলনী আর রজত জয়ন্তী উদযাপনের। অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারিদের নিরলস প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে এমন বিশাল আয়োজনের। এই আয়োজনের পিছনে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ প্রদান ও সাহস যুগিয়েছেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ গোলাম ফারুক। তাঁর পাশাপাশি কাজ করেছেন সেনা সদর জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ রেদওয়ানুল ইসলাম।

প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন জৌলুসপূর্ণ আয়োজনের কালের স্বাক্ষী হতে তাইতো দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন অনেকেই। হারিয়ে যাওয়া দুরন্ত কৌশরে ফিরে যাওয়ার এইতো সময়। তাই শত ব্যস্ততাকে পিছনে ফেলে ছুটে আসেন প্রিয় প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জল রজত জয়ন্তী ও পূনর্মিলনীতে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের শুরুতেই ছিল র‌্যালী। সকালে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালী বের হয়ে স্কুল প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। এরপর আসেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম রেঞ্জের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার। বেলুন উড়িয়ে শুভ সুচনা করেন বর্ণাঢ্য আয়োজনের। পরে অংশ নেন আলোচনায় সভায়।

এসময় গেস্ট অব অনার ছিলেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিপু সুলতান, জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, সেনা সদর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ রেদওয়ানুল ইসলাম, প্রবীন ব্যক্তি কুমার নন্দি রায়, ডা. এ কে দেওয়ান প্রমুখ।


প্রতিষ্ঠানের এমন বর্ণাঢ্য ও আনন্দ আয়োজন করতে গিয়ে ভুলে যাননি প্রতিষ্ঠানের শুরুতে যারা ছিলেন সেসব ত্যাগীদের কথা। আর তাইতো স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজনিন নাহার কৃতজ্ঞচিত্তে স্বরণ করেন প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল আহসান নাজমুল আমিনসহ সকলের কথা। তাঁর এই অনবদ্য উদ্যোগের স্মৃতিকে স্বরণ করে রাখার জন্য আয়োজন প্রথম বারের মত আয়োজন করেন মেজর জেনারেল আহসান নাজমুর আমিন স্মৃতি বৃত্তি। এতে করে প্রতিষ্ঠানের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিনামুল্যে পড়ার সুযোগ পাবে।

আর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই সকলে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আলোচনা সভা শেষের দিকে মঞ্চে তুলে নেন প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের। সাথে তাঁদের গর্বিত মা-বাবারাও। প্রাথমিক স্তরে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন রাফসানা মহসিন আর সৃজনশীলে সারাদেশে দ্বিতীয় হওয়া প্রিয়ম রায় এবং কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী শ্রেয়া চাকমা। মেধাবী সেই তিন শিক্ষার্থীদের সাথে মঞ্চে উপস্থিত হন তাদের মা-বাবা।

মেধাবী তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে রাফসানা মহসিন যখন ইংরেজিতে নিজের অনুভুতি আর প্রিয়ম ও শ্রেয়া নিজেদের আবেগের অনুভুতি জানাচ্ছিল তখন উপস্থিত সকলেই মর্হুমুহু করতালিতে তাদের অভিনন্দন জানাতে থাকে। শিহরণজাগা সেই মুহুর্তে অধ্যক্ষ নাজনিন নাহার ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মা-বাবার চোখ আবেগে-গর্বে ছলছল করছিল।

প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক লিটন দেব ও টিনা চাকমার উপস্থাপনায় আলোচনা সভা শেষে বিকেলে চলে স্মৃতি চারণ ও সম্মাননা প্রদান। এরপর সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নবীন ও প্রবীন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ভাঙ্গে রাতে। আবারো দেখা হবে কোনো এক পুনর্মিলনীর আয়োজনে এমন আশায় বুক বেঁধে বিদায় নেয় সকলে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

  1. গত ২৮/০২/২০১৮ বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ২ সদস্য আহত হয়ে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন
    তবে দুঃখের বিষয় হলো দুজন ই বাঙ্গালি,
    ১৬ জন সদস্য থাকা সত্বে ও তারা কোন অবাঙ্গালিকে মারধর করেনি,
    আরো দুঃখের বিষয় হলো কোন পত্রিকায় কোন তা কেন আসেনি?
    অথচ জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলে ও তা গুরুত্ব পায়নি
    অথচ নির্বাচন কমিশন স্মার্ট কার্ড বিতরণ স্থগিত করেছে

  2. শত শত লেকা’স এর ছাত্র আছে যারা আজ বিভিন্ন পেশায় সফলতার সাথে কাজ করছে, এই প্রোগ্রাম টা বন্ধেরদিন বা শনিবার করলে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারত। এভাবে সবাইকে বঞ্চিত করে রজতজয়ন্তী পালন করারটা ঠিক হয়নি 🙁 Lenin Dey

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: