করোনাভাইরাস আপডেটবান্দরবানব্রেকিংলিড

লামায় অন্তঃস্বত্তা নারীর প্রাণগেল করোনায়

আক্রান্ত বাড়ছে

লামা প্রতিনিধি
ম্যালেরিয়া ও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় উম্রানু মার্মা নামের এক অন্তঃস্বত্তা নারীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইশোলেশন ওয়ার্ডে শনিবার সকালে তিনি মারা যান। উম্রানু মার্মা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ধুঅং পাড়ার বাসিন্দা ধুংক্য মার্মার স্ত্রী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা মৃত নারীর সৎকার সম্পন্ন করেন।

এর আগে গত ৬ জুন একই ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ার গৃহবধূ আমেনা আক্তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এদিকে দিন দিন বেড়েই চলছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত উপজেলায় স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও এনজিওকর্মী মিলে মোট ১১২ জন করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার পর্যন্ত ৭৮ সুস্থ হয়েছেন।

মৃত গৃহবধূর স্বামী ধুংক্য মার্মা জানান, প্রচণ্ড জ্বর অনুভব হলে গত ৬ জুলাই উম্রানু মার্মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এসময় পরীক্ষায় তার শরীরে ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েড় রোগ ধরা পড়ে। এরপর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দায়িত্বরত চিকিৎসকরা উম্রানুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। সেখানে ভর্তির পর উম্রানু মার্মার নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পুনরায় সেখান থেকে নিয়ে উম্রানু মার্মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনেরা। শনিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে উম্রানু মার্মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানিয়ার মো. পারভেজ মাসুদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবীর একটি টিম স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার বিকালে ওই গৃহবধূর সৎকার কাজ সম্পন্ন করেন। এসময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা ও সদস্যসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দাফন সম্পন্নের পর মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

এ বিষয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানিয়ার মো. পারভেজ মাসুদ বলেন, মৃতের অন্তিম যাত্রায় মমতার পরশ বোলানোর লক্ষেই পরিচালিত হচ্ছে কোয়ান্টাম দাফন সেবা। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলায় দ্বিতীয় বারের মতো মমতার পরশে করোনায় মৃত গৃহবধূর সৎকার সম্পন করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী জানান, শুরু থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত উপজেলায় ৭৫৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেলেও ৭৮জন সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। বর্তমানে ১৬ জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইশোলেশনে ও ১৮জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এর মধ্যে শনিবার সকালে ‍উম্রানু মার্মা নামের এক নারী মারা গেছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − two =

Back to top button