পাহাড়ের অর্থনীতিরাঙামাটি

লকডাউন উপেক্ষা করেই রাঙামাটি ছাড়ছে মানুষ

কাজে যোগ দিতে

মিশু মল্লিক 
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ চলমান রয়েছে গত ২৩ জুলাই থেকে। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ থাকলেও রোববার থেকে গার্মেন্টস সহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলছে। এই কারণে কাজে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে রাঙামাটি ছাড়ছেন মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ফিসারী বাঁধ সংলগ্ন স্পিড বোট চালক সমিতির অফিসের সাথে লাগোয়া স্পিড বোট ঘাটে ভিড় করে আছেন রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মানুষজন। কথা বলে জানতে পারা যায় তাঁরা অধিকাংশ মাইনী এবং লংগদু থেকে এসেছেন চট্টগ্রাম এবং ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তাঁদের অনেকেই রাঙামাটি পর্যন্ত আসতে নির্ধারিত ভাড়ার অনেক বেশি ব্যয় করে এবং নানা ভোগান্তি সয়ে আসার কথাও বললেন ক্ষোভের সাথে।

গার্মেন্টসকর্মী যুথী আক্তার জানান, আগামীকাল থেকে আমাদের গার্মেন্টস খুলছে। চাকরি বাঁচানোর জন্য হলেও আমাদের কাজে যোগ দিতে হবে। তাই এত কষ্ট করে রাঙামাটি পর্যন্ত আসলাম। এখন রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম যেতে আরো কত ভোগান্তি পোহাতে হবে তা আল্লাহই জানেন।

আরেক গার্মেন্টসকর্মী মোখলেসুর রহিম বলেন, লকডাউন না উঠিয়ে এবং যারা ঈদে বাড়ি এসেছিল তাঁরা পুনরায় কিভাবে কর্মস্থলে ফিরবে সেই চিন্তা না করেই সরকার গার্মেন্টস খুলে দিল। এখন আমাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এবং ভোগান্তি সয়ে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। রাঙামাটি থেকে মাইনী পর্যন্ত ভাড়া ৫০০ টাকা ছিল আগে, কিন্তু আমি আসলাম ৮০০ টাকা দিয়ে। এবার ঢাকা পর্যন্ত যেতে আরো কত খরচ করতে হবে তা খোদা জানে।

স্পিডবোট চালক ইলিয়াস মিয়া বলেন, ২৩ তারিখ থেকে এখনো পর্যন্ত আমরা চালকরা একটা টাকা উপার্জন করতে পারিনি। পেটের তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই বোট নিয়ে বের হয়েছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, আগে একটি বোটে যাত্রী নিতাম ৮ থেকে ১০ জন, এখন দূরত্ব বজায় রাখার জন্য যাত্রী নিচ্ছি ৫ থেকে ৬ জন, তাই আমরা আগের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা করে বেশি নিচ্ছি।

এদিকে স্পিড বোট চালক সমিতি থেকে বোট চলাচলের অনুমতি নেই বলে জানালেন কিছু চালক।

দিন যতই বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার দিকে আগাচ্ছে ততই রাঙামাটির সড়কে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিএনজি এবং ব্যাক্তিগত গাড়ি চলাচল। সরেজমিনে দেখা গেছে, আসনসংখ্যা অনুযায়ী যাত্রী পূর্ণ করে শহরের বনরুপা, ভেদভেদী, ফিসারী বাঁধ থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি ছেড়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। জনপ্রতি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাওয়া এক সিএনজির চালক আব্দুল ওয়াহাব বললেন, আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রাঙামাটি এসেছিলাম এখন চলে যাচ্ছি, যাওয়ার সময় কিছু যাত্রী পেয়েছি তাই নিয়ে যাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্টে বাঁধা দেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওখানে এন্ট্রি করে এসেছি।

দূরপাল্লায় যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি শহরের অভ্যন্তরেও বেড়েছে শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজি চলাচল। জেলা প্রশাসনের নজরদারীকে ফাঁকি দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে চালকরা। এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরেশ মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম সিরিয়ালের কিছু গাড়ি রাঙামাটি থেকে যাত্রী পরিবহন করছে। এরা আমাদের সমিতির আওতাভুক্ত নয়, সুতরাং ওদের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। আর রাঙামাটির যেসব চালক লকডাউন উপেক্ষা করে চলাচল করছে তাঁরা নিজেদের ঝুঁকিতে চলছে। আমাদের সমিতি থেকে গাড়ি বের না করার নির্দেশনা দেয়া আছে। যদি কেউ সেটা না মানে এবং প্রশাসন গাড়ি আটক করে তাহলে সমিতি তাঁর দায়ভার নিবে না।

এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মামুন বলেন, বিধিনিষেধ কার্যকরে জেলা প্রশাসনের ৫টি মোবাইল কোর্ট টিম প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত মানুষজনের রাঙামাটি ছাড়ার ঘটনাটি আমাদের চোখে পড়েনি, তবে আমি এই ব্যাপারে এবং শহরে সিএনজি চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়দের নির্দেশনা দিয়ে দিব।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button