রাঙামাটি

লকডাউনে ছায়াহীন ছাতার কারিগরের সংসার !

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের সোহাগ

কাপ্তাই প্রতিনিধি 
কাপ্তাইয়ে দীর্ঘ ৩০ বছরে ব্যবসায়, অথচ এমন ধস নামেনি কখনো ছাতার কারিগর সোহাগের কাজে। কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসার আর চলছেনা। কোন দিন একশ’ টাকা আয় হয়, আবার কোন দিন হয়না। প্রায় দু’বছর যাবৎ মহামারি করোনা ভাইরাস ও  লকডাউনের কারণে ছাতার কারিগর সোহাগের উপার্জনে মারাত্বক ধস নামে।
আলাপকালে সোহাগ জানায়, দীর্ঘ ৪০ বছর আগে ভিটেমাটি হারিয়ে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থেকে তার বাবা ছাতার কারিগর মোস্তফা কাপ্তাই লগগেইটে পাহাড়ের নীচে এসে তার মা’কে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই তাদের ৬ বোন ৩ ভাইয়ের জন্ম। বাবা পুরাতন ছিড়া-ফাটা ছাতা সেলাই, ভাঙা ছাতার রট, ডাট লাগানো এবং মেরামত করত কাপ্তাই নতুন বাজারের মের্সাস আল মদিনা ফার্মেসি ও জনতা ব্যাংকের এক কোণে বসে। যা আয় হত, তা দিয়েই   তাদের সংসার চলত। বাবা অন্য কোন কাজ করতে জানতো না।
সংসারের বড় সন্তান হওয়ায় বাবার সাথে বাজারে এসে   তাকেও ছাতা মেরামতের কাজ  শিখতে হতো। বাবা আজ কয়েক বছর যাবৎ অসুস্থ বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে আছে। সংসারের হাল শেষমেশ তাকেই ধরতে হয়েছে। এরমধ্যে সকল বোনদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনিও বিয়ে করেছেন। সংসারে তার ২ ছেলে রয়েছে। সোহাগ জানান, দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ ছাতি মেরামত করে সংসার পরিচালোনা করছেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে গড়ে প্রতিদিন হাজার ১২শ’ ‘টাকা আয় হত। তা দিয়ে সংসার ভালই চলত। ছয় মাস আয় করলে বাকি ছয়মাস বাড়তি আয়ের টাকা দিয়ে সংসার চলত।
সোহাগ আরো জানায়, ৩০ বছরের মধ্যে এরকম মন্দা ব্যবসা আর হয়নি। করোনা ভাইরাস আসার পর এবং লকডাউনের ফলে মানুুষ বাইর হয়না, কেউ ছাতা মেরামত করতে আসেনা। বাজারে এসে বসে থাকি, আবার লকডাউনে বন্ধ থাকে। কখনও কেউ অতি প্রয়োজনে বাইরে এলে সেই সুবাধে ভাঙ্গা ছাতা মরামত করলে দিনে কখনও ১শ’ ‘টাকা আয় হয়, আবার কখনও হয়না। এভাবে আর সংসার চলছেনা। বহু কষ্টে সংসার চলছে। এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
প্রতিবেদককে মামা সম্মোধন করে বলেন,  তাদের জন্য কিছু লেখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আর চলতে পারছিনা, সংসারও চলছে না।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button