করোনাভাইরাস আপডেটরাঙামাটি

লংগদুতে করোনা আক্রান্ত ৫০ ছাড়াল

লংগদু প্রতিনিধি
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় করোনাভাইরাসের থাবায় সংক্রমনের সংখ্যা ৫০ ছাড়াল। লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, বুধবার (২৮ জুলাই) শনাক্ত ৯ জনসহ মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬৬ জনের। সে হিসাবে আক্রান্তের হার ৩৩.৭৩ শতাংশ। বুধবার মোট ২০ জন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে ২০ জনের মধ্যে ৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। শনাক্ত ৯ জনের মধ্যে ৫ জন নারী, ২ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু রয়েছে।

লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ইউনিট ইনচার্জ তথাগত চাকমা জানান, কভিড-১৯ করোনাভাইরাসের প্রথম ধাপে লংগদু উপজেলায় মোট ২৫ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছিল। যাদের অধিকাংশ ছিল স্বাস্থ্যকর্মী। তবে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের ৫৬ জনের মধ্যে বেশির ভাগই রয়েছে সাধারণ মানুষ। এবং আক্রান্তদের বড় একটি অংশ নারী। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় লংগদু উপজেলায় কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে।

তিনি আরও জানান, কভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে লংগদুতে গত ৭ জুন প্রথম একজন সরকারি কর্মচারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৫২ দিনে ৫৬ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের কেউ এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।

এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ চাকমা বলেন, লংগদুতেও কভিডের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে এই পাহাড়ি উপজেলায় করোনা সংক্রমণের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ সচেতন না হলে তা আরো ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে। এখনো অনেকেই উপসর্গ নিয়ে ঘরে বসে আছেন। টেস্ট করাতে আসছেন না। নিজে ঝুঁকির মধ্যে আছেন এবং আশেপাশের সবাইকে ঝুঁকিতে ফেলছেন।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কভিডের তেমন কোনো চিকিৎসা নেই। মাত্র পাঁচজন রোগী ভর্তি করার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া অক্সিজেন আছে মাত্র ২০ সিলিন্ডার। মানুষ সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। অবশ্যই ঘরের বাইরে গেলে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। এছাড়া যাদের শরীরে সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিবে তাদের অবশ্যই করোনা টেস্ট করানো দরকার। কোভিড-১৯ এর মহামারীর এমন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button