বান্দরবানলিড

র‌্যাবের অভিযান বড়থলিতে বিপুল অস্ত্রশস্ত্রসহ ১০ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে র‌্যাবের অভিযানে নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’র ৭ জন এবং পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সস্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ৩ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় র‌্যাব সীমান্তবর্তী একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও ধংস করেছে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পোষাক এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পাহাড়ে জঙ্গী ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। পাহাড়ে ৫০টিরও বেশি জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের তৎপরতার তথ্য রয়েছে। চলমান অভিযানে ইতিমধ্যে ১টি জঙ্গী প্রশিক্ষন ক্যাম্প ধংস করা হয়েছে। র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলমান অভিযানে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবোচনায় স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে সেটি সামগ্রিকভাবে নয়। রুমা ও রোয়াংছড়ি দুটি উপজেলার দুর্গম দর্শণীয় স্থানগুলোতে সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অভিযান শেষে খুব শীগ্রই খুলে দেয়া হবে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নতুন করে কথিত হিজরতের নামে ঘরছাড়া তরুনরা জামাতুল আনসারের হয়ে পাহাড়ি এলাকার আস্তানায় আশ্রয় নেয়। এসব আস্তানায় হিজরত করা তরুনদের ভারি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় হিজরতের নামে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া ১৯ জেলার ৫৫ তরুণের তালিকা প্রকাশ করেছে র‌্যাব। পাহাড়ে এ অভিযানে সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার নেতৃত্বে র‌্যাব ৭ ও র‌্যাব ১৫ অভিযান পরিচালনা করেছে ১০ জনকে আটক করেছে। এরা হলেন- জঙ্গি সংগঠনের সৈয়দ মারুফ আহমদ, ইমরান হোসাইর, কাওসার, জাহাঙ্গীর আহমদ, ইব্রাহিম, আবু বক্কর সিদ্দীক, রুফু মিয়া এবং পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ’র সদস্য জৌথান সাং বম, স্টিফেন বম, মাল সম বম।

এসময় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে ৯টি বন্দুক, বন্দুকের ৫০ রাউন্ড গুলি, কার্তুজ কেইস ৬২টি, হাত বোমা ৬টি, কার্তুজ কেইস ১টি, কার্তুজ বেল্ট ২টি, দেশীয় পিস্তল ১টি, ওয়াকিটকি সেট ১টি, চার্জার ৩টি, কুকিচিং লিখা ১০ টি মানচিত্র এবং অস্ত্র গোলা বারুদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সস্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) প্রতিষ্ঠাতা নাথাং বম এর সাথে ২০২১ সালে নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’র আমিরের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পাহাড়ের সশস্ত্র সস্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর ছত্রছায়ায় আস্তানায় জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’র সদস্যদের ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি মোতাবেক জঙ্গি সংগঠন প্রতিমাসে কেএনএফ’কে ৩ লাখ টাকা এবং কেএনএফ’র সকল সদস্যের খাবার খরচ বহণ করতে জঙ্গী এ সংগঠনের অর্থদাতারা। জঙ্গীদের অর্থায়নকারী বেশকজনের নামও পাওয়া গেছে। খুব শীগ্রই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 4 =

Back to top button