করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘রেড জোনে’ রাঙামাটি: বিধিনিষেধ মানাতে কঠোর প্রশাসন

নভেল করোনাভাইরাস

সৈকত বাবু

রাঙামাটিকে ‘রেড জোন’ ঘোষণার পর করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে করণীয়নির্ধারণ করার লক্ষে জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনে সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করা, শপিংমল রাত ৮টা ও খাবারের হোটেল রাত ১০টার মধ্যে বন্ধের র্নিদেশনা দেয়া হয়। এছাড়াও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অর্ধেক লোক সমাগমের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নির্দেশনা না মানলে গুনতে হবে জরিমানা।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর মোদাছছের হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানান, ৩ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এ সাত দিনে করোনা শনাক্তের শতকরা হার ছিল ১০ শতাংশ, তাই এই রেড জোনের আওতায়। কম সংখ্য টেস্ট হবার কারণে এমনটি হচ্ছে। তবে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। যেখানে ডিসেম্বর মাসেই আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ২৬ জন জানুয়ারির ১৪ দিনেই সে সংখ্যা ২৬ জন। এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৮৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রীকে করোনার টিকা প্রদান করা হয়েছে। যা গড় তুলনায় ৭৩ শতাংশ। সাধারণ টিকা প্রদানের ক্ষেত্রেও রাঙামাটি সারা দেশের তুলনায় এগিয়ে আছে। যাহা গড় শতাংশে ৫৩। দুর্গমতার কারণে সকলের সম্মলিত প্রচেষ্ঠায় এ লক্ষ্যমাত্র অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মোতাবেক সারাদেশে গড় টিকা প্রদানের হার ৪৫ শতাংশ। রাঙামাটিতে মোট করোনা আক্রান্ত ২৬ জন যার মধ্য থেকে ১জন আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি অছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেন, পুলিশ আগের মতো বিধি নিষেধ মানাতে শতভাগ কাজ করবে। একই সাথে পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হবে। সর্বক্ষেত্রে সকল বিধিনিষেধ মানতে হবে। যারা বিধিনিষেধ মানবে না তাদের জরিমানা করা হবে প্রয়োজনে জেলও দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রেড জোন ঘোষনায় আতংকিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আমাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা মানাতে মোবাইল কোর্ট নিয়মিত করা হচ্ছে। সকল মসজিদ থেকে সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হবে। এসময়ে তিনি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা, পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী নেতদের নিয়ে বিভিন্ন বাজার এলাকা পরির্দশন করেন। এসময় তারা সকলকে সচেতন হতে আহবান জানান।

অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধিনিষেধ মানাতে সকাল থেকে রাঙামাটিতে পরিচালিত হচ্ছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। শহরের তবলছড়ি. বনরুপা, রির্জাভ বাজার, কলেজ গেইট, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মাঠে রয়েছে । বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে বিধি-নিষেধ মানাতে চারটি মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button