ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রূপসী-জয়তুন আর জয়া’র জয়ের লড়াই !

রাঙামাটি পৌর নির্বাচন সংরক্ষিত আসন-০১(ওয়ার্ড ১, ২ ও ৩)

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা পর থেকে দৌঁড়-ঝাপ সৃষ্টি হয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে আগ্রহীদের মাঝে। যদিও নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার আগ থেকেই অনেকেই নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলো।

রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত, যার মধ্যে ৩টি ওয়ার্ড মিলে একজন সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। তাই পুরুষ কাউন্সিলর থেকে কোনভাবে পিছিয়ে নেই সংরক্ষিত মহিলা আসনের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীগণের দৌঁড়ঝাঁপ।রাঙামাটি পৌরসভার ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড মিলে একজন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। তাই এ এলাকাগুলো থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী সম্ভাব্য ৩ জনের নাম শুনা যাচ্ছে সর্বত্র।

তার মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর রূপসী দাশ গুপ্ত আবারও নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন, অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইতোমধ্যে মাঠ গুছাচ্ছেন সাবেক দুই দুইবারের কাউন্সিলর জায়তুন নুর বেগম। এছাড়া পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জয়া দে মহিলা কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।

বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনে আবারও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রূপসী দাশ গুপ্ত জানিয়েছেন, ‘আমি গত ৫ বছরে মানুষের জন্য মাঠে ময়দানে ছিলাম ও আছি। এ পাঁচ বছরে কি করেছি তা জনগণ ভালো ভাবেই জানেন, সব কাজের মধ্যে কিছু কাজ বাকি থেকে যায় যা সম্পূর্ণ করতে আমি আবারও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হলাম।

তিনি জানান, বেশি কিছু নয় গত ২০২০ সালের সারা বিশ্বে যে রোগটি নিয়ে মাতামাতি ছিলো সে করোনা ভাইরাসের লকডাউনের সময় আমি আমার দায়িত্ব থেকে পিচপা হয়নি। মৃত্যুর ভয় না পেয়ে লকডাউনে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সাহায্য সহযোগিতা পৌঁছিয়ে দিয়েছি। সব সময় আমার এলাকাবাসী খোঁজ-খবর রেখেছি। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও ব্যক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। শুধু আমি নই আমার পরিবারের সদস্য আমার স্বামী, দেবর ও সন্তানও এ সময় আমাকে সহযোগিতা করেছে মানুষের পাশে থাকার জন্য। আমার স্বামী, দেবর ও পুত্র মিলে লকডাউনে যখন সাধারণ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য কোন ডাক্তার ও ঔষধ পাওয়া যাচ্ছিলো না, সে সময় তারা ডাক্তার ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসীর। এমন কি বাড়ি গিয়ে অন্যান্য রোগের রোগী দেখা ও ঔষধ পৌঁছিয়ে দেয়া সহ সার্বিক কাজ করেছেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য।’

রূপসী আরও বলেন, ‘আমি গত পাঁচ বছরে এলাকা উন্নয়নে পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে কাজ করে গেছি। আমি অসা¤প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে সব সময় কাজ করছি। আমার কাছে যখনই যারা এসেছেন আমি সবার কাজ করে দেয়ার ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। কোন ধরণের সা¤প্রদায়িকতা মনোভাব নিয়ে আমি কাজ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না। আমার কাছে আমার এলাকাবাসী এটাই সবার পরিচয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আবারো নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী এই বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।

গত দুই দুইবারের মহিলা কাউন্সিলর জায়তুন নুর বেগম, যিনি কি না ১৯৯৯ ও ২০১১ সালের নির্বাচনে মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৫ সালের নির্বাচনে হেরেছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি গত ২০১৫ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি, তবে এবার ২০২১ সালের নির্বাচনে আবারও তিনি নির্বাচন মাঠে নেমেছেন।

জাইতুন নুর বেগম জানান, ‘আমি আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোক হলেও আমার এলাকার সকল দলের মানুষের ভালোবাসায় গত দুইবার নির্বাচিত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। আমি আশা করি এবারও আমার এলাকাবাসীর ভালোবাসায় আসন্ন নির্বাচনে আমি সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, নারীরা তাদের প্রতি নির্যাতনের কথা স্বাভাবিক ভাবে সবাইকে বলতে পারে না, তারা চায় একজন নারীর কাছে গিয়ে তা বলবে। আমি বিগত সময়ের মত নারীদের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায় সহ সার্বিক কাজে সহযোগিতা করবো। সরকারি যে কোন সাহায্য-সহযোগিতা সঠিকভাবে এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করবো।

এ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিগত সময়ের মতই আবারও নির্বাচিত হয়ে মানুষ পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদী। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচন মাঠে বর্তমান ও সাবেক এ দুই কাউন্সিলরের মধ্যে জমে উঠবে নির্বাচন লড়াই। তবে কোনভাবে পিছিয়ে নেই পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জয়া দে। নিজের দলীয় পরিচিতির ওপর নির্ভর করে তিনিও নির্বাচন মাঠে ফ্যাক্ট হিসেবে দাঁড়াতে পারেন।

জয়া দে জানান, আমি একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করছি, তাই আমার ভালোই পরিচিতি আছে সর্বত্র। আশা করছি আমার পরিচিতি ও আমি এতদিন ধরে যে মানুষের সুখেদুঃখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম সেটার ওপর নির্ভর করে আমি সবার ভোটের মাধ্যমে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নির্বাচনে পাবো।

তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবো আমার এলাকাবাসীর জন্য। এছাড়া পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে এলাকা উন্নয়নে কাজ করবো বলেও জানান তিনি।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ কাউন্সিলর প্রার্থীদের। শেষ হাসি কে হাসবেন তাই দেখার জন্য দৃষ্টি এখন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button