বান্দরবানব্রেকিংলিড

রুমা সীমান্তে ২ শতাধিক শরণার্থীর অনুপ্রবেশ

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রানসা সীমান্ত দিয়ে মিয়ামারের জনগোষ্ঠীর দু’শতাধিক শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে!। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিয়ে সীমান্তের চাইক্ষাং পাড়ায় শরণার্থীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০৩ জনে। এরা সবাই বর্তমানে সীমান্তের চাইক্ষাং পাড়ায় খোলা জায়গায় ত্রিপল টেনে তাবুর মত করে বসবাস করছে। তীব্র শিতের মধ্যে শরনার্থীদের শিশু ও বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, মিয়ানমারের চীন রাজ্যের প্লাতোয়া জেলায় সম্প্রতি মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে সেদেশের সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সীমান্তের ওপারে খামংওয়া, তরোয়াইন, কান্তালিন, এলাকাগুলোর বিভিন্ন পাড়ায় ব্যাপিক গোলাগুলি এবং হেলিকাপ্টার থেকে বোমা বর্ষন করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ঘরে ঘরে তল্লাসী করে লোকজনদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনারা। আতঙ্কে শরণার্থীরা মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের চাইক্ষিয়াং পাড়া, নেপু পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় অবস্থানের জন্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। জেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রুমা উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী পাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষিয়াং পাড়ার অপরপ্রান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরো বিপুল মিয়ানমারের শরনার্থী অবস্থান করছে। তারাও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য অগ্রসর হচ্ছে। শরণার্থীদের পাশ্ববর্তী এলাকার পাড়াগুলো থেকে খাদ্য দিয়ে সহায়তা করছে স্থানীয়রা।

এদিকে সীমান্তের শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষন টিম পাঠানো হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষণটি টিমটি এখনো ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারেনি। তারা সীমান্তের পথে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টহল দল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বুধবার হেলিকপ্টারে করে সদস্যদের মায়ারমার সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টিম পাঠানো হয়েছে। শরণার্থীদের মনোভাব জানান পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত: গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সেখানকার শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদি গ্রুপ আরাকান আর্মি সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা করে। এরপর থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। অপরদিকে ২০১৭ সালের আগস্টে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক সংঘর্ষের পর সেখান থেকে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button