খাগড়াছড়িব্রেকিং

রামগড় পৌরসভার ৪৩ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

শ্যামল রুদ্ররামগড়
খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার বিদ্যুৎ বকেয়া বিল ৪৩ লাখ সত্তর হাজার দুইশত আটাশ টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(বিপিডিবি) রামগড় অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। বারবার চিঠি দেওয়ার পরেও বিল পরিশোধের কোন উদ্যেগ নিচ্ছেনা পৌর কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রামগড় পৌরসভা। কাগজে কলমে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা এটি। পৌরসভার ১২টি আলাদা বৈদ্যুতিক মিটার রয়েছে। সে হিসাবে ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ২২৮ টাকা। সবগুলোর বকেয়া বিল বাকী। বিপিডিবি জানায়, রামগড় পৌরসভার কাছে ১২টি মিটারের অনুকুলে হিসাবে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পৌরসভার পানি সরবরাহ, সড়ক বাতি, ভবন ইত্যাদিতে ব্যবহারের জন্য ১২টি আলাদা বিদ্যুতের মিটার রয়েছে। কয়েকমাস আগে বিদ্যুৎ বিলের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে পৌর কর্তৃপক্ষ ৫ লাখ টাকা দিয়ে পুনরায় সংযোগ চালু করে এবং বকেয়া বিল পরিশোধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) রামগড়ের আবাসিক প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৩ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে জনগণকে দুর্ভোগে পড়তে হবে। আর এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া কিছু করার থাকবে না।

পৌরসভার বকেয়া বিলেরর কথা শুনে জনমনে নানাধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জনপরিসরে এনিয়ে চলছে সমোলোচনা। তাদের দাবি নিয়মিত পৌর কর আদায়ের পরেও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকা রহস্যজনক। রামগড় সদরের বাসিন্দা দেবু শর্মা জানান, পৌর কতৃপক্ষ নিয়মিত পৌর কর আদায় করে। পৌর কর ছাড়া ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে জাতীয়তাসনদ পর্যন্ত পাওয়া যায়না। সে জায়গায় পৌরসভার এমন বিল বকেয়া থাকা যথেষ্ট রহস্যজনক। পৌরসভায় বেশিরভাগ সড়কবাতিই নষ্ট। সেগুলো ঠিক করার ও উদ্যেগ নেয়না কর্তৃপক্ষ।

রামগড় পৌরসভার আবাসিক প্রকৌশলী আল ইমরান হোসেন জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কোন চিঠি তিনি পাননি। রামগড় পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহাজাহান রিপন জানান, ‘বিভিন্ন সরকারি এবং আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিল বাবদ পৌরসভা অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। তারা না দিলে তো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব না। তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

রামগড় পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র রফিকুল আলম কামাল জানান, ‘বর্তমান মেয়রেরর উচিত দায়িত্ব ছাড়ার আগে আগে বকেয়া বিল পরিশোধ করা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নগরবাসী হয়রানির শিকার হবে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + two =

Back to top button