ব্রেকিং নিউজ
নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / রামগড় চা বাগানের ভোগ দখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ
parbatyachattagram

রামগড় চা বাগানের ভোগ দখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ

বংশ পরস্পরায় শ্রমিকদের ভোগদখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ার হুমকির মুখে রামগড় চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ চা শ্রমিকেরা শনিবার বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে। চা কারখানার সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ মালিক কর্তৃপক্ষকে অমানবিক ও অন্যায় এ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার আহবান জানান।

ইতিপূর্বে নেওয়া মালিক পক্ষের বাগান বন্ধের ঘোষনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সহ¯্রাধিক নারী-পুরুষ চা শ্রমিক প্রধান কারখানার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পাঁচ নম্বর লেন-গার্ডপাড়া-বাগানবাজার হয়ে পুনরায় কারখানার সামনে এসে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন, বাগান পাঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মদন রাজগড়, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মুন্ডা, চট্টগ্রাম ভ্যালি সভাপতি নিরঞ্জন নাথ, সাধারণ সম্পাদক যতন কর্মকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিন্টু দে, সাবেক সভাপতি অধিক লাল দে, সাবেক ভ্যালি সাধারণ সম্পাদক পরিমল দে, পঞ্চায়েত সদস্য, হিরা ত্রিপুরা, বাসিকী উরাং, শিল্পী রানী প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, বাজার টিলা ত্রিপুরা পাড়া সংলগ্ন দেড় শতাধিক একর জমিতে সপ্তাহ খানেক আগে বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ প্রজেক্ট করার উদ্যোগ নেয় বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে বাগানের শ্রমিকদের চাষযোগ্য জমি কমে যাবে। বাধা দিলে মালিকপক্ষ একগুঁেয়মি করে সম্পূর্ণ একতরফা ভাবে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই বাগান বন্ধ ঘোষনা করে। শ্রমিকদের কাজের গোড়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এতে নিরীহ চা শ্রমিকেরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে।

বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মদন রাজগড় ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মুন্ডা জানান, চা বাগানে মৎস্য চাষ প্রকল্প কিংবা নারিকেল বাগান করার বিষয়ে চা-শ্রম আইনে বিধি নিষেধ আছে। কিন্তু এই বাগানে বিশাল মাছের প্রজেক্ট ও নারিকেল বাগান করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ভাবে কোটি টাকার মাছ এখান থেকে চট্টগ্রাম শহরে চালান হয়। তারপরও নতুনভাবে আরো মৎস্য প্রজেক্ট করতে চায় বাগানমালিক কিন্তু এতে বাগানের নিরীহ শ্রমিকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর প্রতিবাদ করায় মামলা ও পুলিশী ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম ভ্যালি সভাপতি নিরঞ্জন নাথ ও সাধারন সম্পাদক যতন কর্মকার বলেন, বাগানে বর্তমানে ৮শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। এদের পরিবার-পরিজনসহ ৫ সহ¯্রাধিক মানুষের ন্যায্য অধিকারকে পাশ কাটিয়ে বাগান বন্ধ রেখে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে মালিক পক্ষ। অচিরেই বাগান খুলে দেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।

জানতে চাইলে বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার জাহাঙ্গির আলম বলেন, বাগান সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিলে শ্রমিকেরা বাধা দেয়। প্রতিবছর ক্রমান্নয়ে বাগান বাড়ানোর আইন আছে। কিন্তু শ্রমিকেরা এটা মানছে না। মৎস্য চাষের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। বর্ষায় ফেনী নদীর পানিতে বাগানের প্রায় ২০ শতাংশ নিচু ভূমি তলিয়ে যায় এ কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে চাইলে নেতাদের প্ররোচনায় শ্রমিকরা উৎপাদন ও কাজ বন্ধ করে বেআইনীভাবে ধর্মঘট এবং কর্মকর্তার অফিস ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের কাজ করতে বললে ধর্মঘট চালু রাখায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাগান সম্পূণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, একশ বছরেরও বেশি পুরোনো রামগড় চা বাগানটি মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে ১৮ এপ্রিল থেকে বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিকেরা বিক্ষোব্ধ হয়ে মিটিং মিছিলসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

‘জঙ্গিপনা যে অশুভ ছায়া ফেলছে তার বিরুদ্ধে মৈত্রী বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে’

মৈত্রীপূর্ণ চিন্তা চেতনা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার আহবান …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

six + three =