নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাবিপ্রবি’র ৪ শিক্ষার্থীকে পেটালো তবলছড়ির ছাত্রলীগ কর্মীরা !
parbatyachattagram

দুই শিক্ষার্থীর বিরোধে জড়ালো বহিরাগতরাও

রাবিপ্রবি’র ৪ শিক্ষার্থীকে পেটালো তবলছড়ির ছাত্রলীগ কর্মীরা !

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে উঠা নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর তুচ্ছ কথা কাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চার ছাত্রকে পিটিয়ে জখম করেছে রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকার একদল ছাত্রলীগ কর্মী। এই ঘটনায় আহত ৪ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও একজন ভর্তি হয়েছেন রাঙামাটি সদর হাসপাতালে। আহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মাথায়,হাতে ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। আহত অন্য তিন শিক্ষার্থী হলেন, আকিব,লালসাং ও রিয়াদ। এই ঘটনায় রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মেহেদী হাসানের বন্ধু ও একই ব্যাচের শিক্ষার্থী আকিব মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আমাদের তৃতীয় ব্যাচের মেহেদীর সাথে প্রথম ব্যাচের সায়মন এর বাসে উঠা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সেটা তাৎক্ষনিক মিটেও যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসার পথে তবলছড়ি মসজিদের পাশের জুম ফুড রেস্টুরেন্টের সামনে আমার চার বন্ধু পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওই এলাকার বখাটে হিসেবে পরিচিত জোবায়ের হোসেন জুয়েল, বিএনপি নেতা সাবেক পৌর কমিশনার শহীদ চৌধুরীর ছেলে পারভেজ, যুবলীগের দিদার,ছাত্রলীগ কর্মী ও কয়েকদিন আগে যুবলীগ নেতা নাসির হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী মীর শাকিল, ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল এবং রুবেলসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এবং ব্যাপক মারধর শুরু করে। আমি শুরুতে প্রতিহত করার চেষ্টা করি,পরে পথচারিরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। ক্যাম্পাসে যার সাথে মেহেদীর তর্কাতর্কি হয়েছিলো সেই লংগদুর সাবেক বিএনপি নেতা ও আওয়ামীলীগে সদ্য যোগদানকারি হাজী ফয়েজুল আজিম এর ছেলে মিরাজুল ইসলাম সায়মন এই সময় উপস্থিত ছিলো এবং হামলায় অংশ নেয়।’

এই হামলার ঘটনার পর কোতয়ালি থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেছেন হামলায় আহত রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র মেহেদী হাসান। লিখিত অভিযোগ মেহেদী এই হামলার ঘটনার জন্য মোবাইল রিচার্জ ব্যবসায়ি দুই ভাই জুয়েল ও রুবেল,তবলছড়ি বাজারের দিদার, যুবলীগ নেতা নাসির হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী মীর শাকিল, পারভেজ ও সোহেলকে আসামী করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন।’ মেহেদী যাদের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করেছেন,তারা সবাই রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনার ভিন্ন বক্তব্য জানিয়ে থানায় পৃথক একটি জমা দিয়েছেন, রাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্র মিরাজুল ইসলাম সায়মন। তিনি থানায় দেয়া লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে আকিব,মেহেদী,লাল সাং পুই,রিয়াদ এবং মিকি তাকে কালিবাড়ি সংলগ্ন সড়কে আটকে তবলছড়ি ব্রীজের নীচে নিয়ে যায় এবং মারধর করে মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেয়। একই সময় তার গলা টিপে ধরে মারধর করে জখম করে।’ সায়মন রাবিপ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং লংগদু উপজেলার সাবেক বিএনপি নেতা ও বছর তিনেক আগে আওয়ামীলীগে যোগদানকারি হাজী ফয়েজুল আজিম এর পুত্র। সায়মন থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার সময় তার সাথে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ও তার অনুসারিরা উপস্থিত ছিলো বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

লিখিত অভিযোগে সায়মন আরো জানিয়েছেন, হামলাকারিরা তার মোবাইল ফোন ও সাত হাজার পাঁচশত টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

আহত মেহেদী বৃহস্পতিবার রাতে রাঙামাটি সদর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যকার সমস্যায় বহিরাগতরা যদি নাকগলায় এবং এভাবে হামলা করে তবে কিসের ভরসায় সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসবে ?’ তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের ও স্থানীয় এলাকাবাসির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধুদের উপর হামলাই যেনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর উপর শেষ হামলা হয়।’

মেহেদী এবং সায়মন এর দুটি অভিযোগই থানায় জমা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি এবং এই ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’ একই সাথে নাসির ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলার আসামী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুজন কি করে থানায় গেলো,এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানিয়েছেন, ‘ আমি থানায় ছিলাম না, তবে সে (সুজন) থানার ভেতরে প্রবেশ করেনি,বাইরে থেকে কথা বলে চলে গেছে বলে জেনেছি।’

ওই সময় থানায় উপস্থিত থাকা পুলিশের উপ পরিদর্শক ও নাসির হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানিয়েছেন, ‘ ‘ছাত্রলীগ সভাপতি থানায় প্রবেশ করেনি, তবে সে দুইবার কিছু কাগজ পাঠিয়েছিলো। যেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমি,তাই তার সাথে বসে চা খাওয়া বা খোশগল্প করার কোন সুযোগ নেই।’ নাসির ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলার তদন্ত কার্যক্রম যথানিয়মে চলমান আছে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে ক্যাম্পাসের দুই শিক্ষার্থীর নিজস্ব বিরোধের ঘটনায় বহিরাগতদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, এই ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিবেন এবং একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর যেসব বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ নিবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিপাকে পড়া মানুষের টিসিবি পণ্য সংগ্রহে ভিড়

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে বিপাকে পড়া মানুষের মাঝে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের …

Leave a Reply