ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাজ বনবিহারে চীবর বানানো শুরু

রাঙামাটি রাজবন বিহারে দু’দিনব্যাপী ৪৬ তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। দানোৎসব উপলক্ষে বেলা তিনটায় বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বেইনঘর উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

এ বছর রাজবন বিহারে ১৯৪টি বেইনে অন্তত ৫২০ জন মহিলা কর্মী অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া সুতা লাঙ্গানো, সিদ্ধ, রং, টিয়ানো, শুকানো, তুম করা, নলী করা, বেইন টানার কাজে আরো শতাধিক পুরুষ কর্মী অংশগ্রহণ করছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দুপুুর ১২টা পর্যন্ত চীবর সেলাই চলবে। রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্র্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবিরের ধর্মদেশনা শেষে বিকেলে বনভান্তের উদ্দেশ্যে চীবর দান করা হবে।

এটি পার্বত্যাঞ্চলে বৌদ্ধদের বৃহত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। এ দানোৎসবের দুইদিনের আয়োজনে প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে আশা করছে আয়োজক কমিটি।

গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় মহাউপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা রং করে কাপড় বুনে তা সেলাই করে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করে এই কঠিন চীবর দানের সূচনা করেন আড়াই হাজার বছর আগে। এই পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক, বাচনিক মানসিকভাবে অধিক পরিশ্রম হয় এবং অধিকতর পুণ্যলাভ হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) ১৯৭৪ সালে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহারের দায়ক-দায়িকাদের দিয়ে এই কঠিন চীবর দানোৎসবের পুনঃ প্রবর্তন করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে পার্বত্যাঞ্চলের সবচে বড় অনুষ্ঠানটি রাজবন বিহারে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাসব্যাপি এই কঠিন চীবর দানোৎসব এর শেষ আয়োজনটি হয় রাঙামাটির রাজবন বিহারে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
Close