নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাঙামাটি সদর : অরুন নাকি শহীদুজ্জামান ?
parbatyachattagram

রাঙামাটি সদর : অরুন নাকি শহীদুজ্জামান ?

ভোটযুদ্ধ জমে উঠেছে পার্বত্য জনপদের রাজধানী খ্যাত পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে। দশ উপজেলা এই জেলার সবচে প্রেস্টিজিয়াস উপজেলা হিসেবে বিবেচিত রাঙামাটি সদর উপজেলা। এই উপজেলায় প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত শান্তিময় চাকমা। তাকে নৃশংস হত্যার পর তারই পুত্র মনিস্বপন দেওয়ান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর,চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একাধিকবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষক অরুন কান্তি চাকমা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এবার প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা,গতবারের মতো পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সমর্থন নিয়েই ভোটের মাঠে নেমেছেন এই নেতা। আর তার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতায় নেমেছেন বয়সে তারচে তরুণ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মোঃ শহীদুজ্জামান,যিনি রোমান নামেই পরিচিত। পেশায় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ি শহীদুজ্জামান আর অরুন কান্তি চাকমার ভোটের দ্বৈরথ বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।

ইতোমধ্যেই নিজ নিজ দলের সমর্থন ও কর্মী বাহিনী নিয়ে মাঠে প্রচারনায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। শহীদুজ্জামান আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হওয়ায় তার প্রতীক নৌকা এবং তার জন্য মাঠে নেমে কাজ করছে আওয়ামলীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। প্রতিদিনই উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন তারা। পোস্টার,ব্যানার,মাইকিং,উঠান বৈঠক,মতবিনিময় সভা,পথসভা আর প্রচারনায় বেশ এগিয়েই আছেন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন তিনি। তার জন্য আন্তরিকভাবেই মাঠে থেকে সামগ্রিকভাবেই কাজের তদারকি করছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মুছা মাতব্বর। মুছা মাতব্বরের সামগ্রিক নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শহীদুজ্জামান এর নির্বাচনী প্রচারণা। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হলেও রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ অনুপস্থিতিটা ঢাকার জন্য প্রানান্ত চেষ্টাই করছেন বাড়তি পরিশ্রম আর প্রচারনার মধ্য দিয়ে। ছাত্রলীগের তরুণ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবলীগ,শ্রমিকলীগ,মহিলালীগসহ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের মাঠে নামিয়েছেন তিনি নৌকার সমর্থনে। একই সাথে পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের নেতা হিসেবে পরিবহন শ্রমিকদের সর্বাত্মক সমর্থনও পাচ্ছেন তিনি।

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মোঃ শহীদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘আমার বিশ্বাস আমি নৌকার প্রার্থী হিসেবে এবং আমার পিতার ভাবমূতির কারণে ভোটাররা আমাকেই বেছে নেবে। কারণ আমি নির্বাচিত হলে নিজের জন্য নয়,রাঙামাটিবাসির জন্যই কাজ করব। আমার কিছু পরিকল্পনা আছে,যা বাস্তবায়ন করব,যদি নির্বাচিত হই।’ নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক ইশতেহারে নিজে নির্বাচিত হলে কি কি করবেন,তার একটি ধারণাও দিয়েছেন নৌকা মার্কার ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী।

ভোটের রাজনীতিতে এবং সামাজিকতার কারণে রাঙামাটি সদর উপজেলাবাসির কাছে বেশ পরিচিত মুখ অরুন কান্তি চাকমা। সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়ন থেকে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কাজ করার পর গতবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে। শিক্ষকতা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করা অরুন কান্তি চাকমা ব্যক্তিগতজীবনে বেশ সজ্জন ও সদালাপি এবং ভদ্র হিসেবেই পরিচিত। আচরণের কারণে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এই নেতা পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির সমর্থনে প্রার্থী হলেও তিনি দলটির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত নন। মূলত দলীয় শক্তিশালী প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করতে নিজের একটি শক্ত ঠাঁই হিসেবেই জনসংহতির সমর্থনে নির্বাচন করছেন অরুন,এমনটাই দাবি তার বন্ধু ও শুভাকাংখিদের। জনসংহতি সমিতির সমর্থিত প্রার্থী হলেও যেহেতু দলটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়,তাই তাদের দলীয় প্রতীকও নেই। তাই তাদের সমর্থিত হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনের মাঠে আছেন অরুন ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে। জনসংহতি সমিতির নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করলেও পাশাপাশি তিনি সমর্থন পাচ্ছেন শহরের নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সমর্থনও। শহরে আলোচনা রয়েছে, বিএনপির ভোটারদের নীরব সমর্থনও পাচ্ছেন অরুন। ফলে ভোটের মাঠে গতবারের মতো এবারও ফ্যাক্টর তিনিই।

ধারণা করা হচ্ছে,এবারের সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গতবারের চেয়েও বেশ জমজমাট হবে। কারণ আগের নির্বাচনে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের দুইদলের প্রার্থীই ছিলেন,এবার বিএনপি নেই,আছে শুধুই আওয়ামীলীগ। সেইক্ষেত্রে বিএনপির ভোটাররা আদৌ কেন্দ্রে আসবে কিনা, কিংবা আসলেও সেই ভোট কাকে দেবে,সেই সম্পর্কে কোন ধারণাই মিলছে না। যদি বিএনপি ভোট নৌকার বাক্সে যায়,তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বেশ এগিয়েই যাবেন,যদি বিএনপির ভোটাররা কেন্দ্রমূখী না হন ,তবে আনারস প্রতীকের সম্ভাবনাই বেশি, জয় পরাজয়ে এই দুই প্রজন্মের দুই প্রার্থীর একই নির্বাচনী রেসের দ্বৈরথে।

তবে বলা হয়ে থাকে,যুদ্ধ-প্রেম-রাজনীতি আর ভোটে শেষ বলে কিছু নেই। সব শংকা,সম্ভাবনা আর সমীকরণকে পাল্টে দিতে পারে একমাত্র জনরায়ই। ফলে ১৮ মার্চ শেষ বিকেলে কে হাসবেন বিজয়ের হাসি,অরুন নাকি শহীদুজ্জামান তার জন্য আপাতত প্রতীক্ষাই করতে হচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

এডিসি বাংলো এখন বখাটেদের আখড়া!

রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি পর্যটন রোডে এডিসি হিল বাংলো এখন মাদকসেবী আর বখাটেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − 19 =