ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি শহরে বৃষ্টিভেজা সড়কে অবাক কার্পেটিং !

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই বৃষ্টিভেজা সড়কে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বনরূপায়  কার্পেটিং করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তবে বৃষ্টির মধ্যে সড়ক সংস্কারের ঘটনায় অসন্তোষ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গাড়ি চালক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সম্প্রতি টানা বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের মাঝে গর্তের সৃষ্টি হয়। টানা বর্ষণের পর থেকেই গর্ত ও খানা-খন্দে ভরা সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে পর্যটন শহর রাঙামাটির প্রাণকেন্দ্র বনরূপা বাজারের এই রাস্তাটি খানা-খন্দে ভরে পড়ে আছে আরও অনেক আগে থেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টির পর এ সড়কে আরো বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমেই রাস্তায় পাশের ফুটপাত ও ড্রেনের কাজ শুরু করায় সরু হয়ে গেছে রাস্তাটি। প্রায় সময়েই এই সড়কে জ্যাম লেগে থাকে। ফুটপাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাস্তার ওপর দিয়ে জনসাধারণের হাঁটাচলা করায় বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকেই এ সড়কের খানা-খন্দ ও গর্ত সংস্কারের কাজ শুরু করে সওজ। সকাল ১১টার দিকে প্রবল বৃষ্টির পর সড়কের সংস্কার উপযোগী বিভিন্ন স্থানের গর্তে পানি ঢুকে থাকে। কিন্তু তবুও সড়ক বিভাগ বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায় বিটুমিন দিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ চালায়। এসময় মাঝারি মানে বৃষ্টির মধ্যেও সংস্কার কাজ বন্ধ করেনি সড়ক বিভাগ। খানা-খন্দে জমা পানির ওপর কার্পেটিং করতেও দেখা গেছে।

দুপুরে বনরূপা বাজারে আসা মো. সবুজ উদ্দিন বলেন, এভাবে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে রাস্তা কখনোই বেশি দিন টিকবে না। আমার তো মনে হচ্ছে সড়ক বিভাগ বৃষ্টির মধ্যে লোক দেখানো সংস্কার কাজ করছে। এভাবে তাদের লোক দেখানো কাজ না করলেই হয়। বৃষ্টিতে কাজ করার ফলে দুই-একদিনের মধ্যেই আপনারা দেখবেন সড়কের গর্ত আবার গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে করে সরকারের টাকা অপচয় হবে ঠিকই, কিন্ত জনসাধারণ সুফল পাবে না।

পথচারী সুবল চাকমা বলেন, শুকনো সময়ে সংস্কার কাজ না করে এভাবে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার কোনো মানে হয় না। বৃষ্টিতে সংস্কারের কাজ করলে কয়েকদিন পর রাস্তাটি আবার নষ্ট হয়ে যাবে। আবারো পুরান দশায় আমাদের দুর্ভোগই পোহাতে হবে। এভাবে রাষ্ট্রের টাকা নষ্ট করা উচিত নয়।

অটোরিকশা চালকরা জানান, সড়ক বিভাগ রোদের দিনে সংস্কার কাজ না করে এখন কাজ শুরু করেছি। এই রাস্তাটি অনেক আগে থেকেই খানা-খন্দে ভরা। তাদের কী এতদিন চোখে পড়েনি। এখন তারা বৃষ্টির দিনে কাজ করছে। এখন সংস্কার কাজ করলেও এটা বেশিদিন টিকবে না।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুছা বলেন, ‘আমরা সকালে যখন কাজ শুরু করি তখন বৃষ্টি ছিলো না। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু গেছে। এটি সংস্কারের কাজ এবং খুব জরুরি। সড়কের মাঝে বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি চলাচল পারে না। এখন সংস্কারের জন্য যে মালামাল নিয়ে আসা হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার না ফেরত নিলে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সংস্কার কাজ করা হয়েছে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button