ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি শহরে পরিত্যক্ত অবস্থায় টিসিবি’র পণ্য উদ্ধার !

চুরির অভিযোগ ডিলারের

মিশু মল্লিক
দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতির সময়ে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আশার একটি নাম টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য। চলমান ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে নিম্ন এবং মধ্যমআয়ের মানুষ যখন ন্যায্যমূল্যের পণ্য কিনে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে তখন রাঙামাটি শহরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে কয়েক লাখ টাকার টিসিবির পণ্য। শনিবার সকালে শহরের স্টেডিয়াম এলাকার স্টেডিয়ামের গ্যালারি নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা কোতয়ালী থানায় খবর দিলে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে পণ্যগুলো উদ্ধার করে।

টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্যের জন্য স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাড়িঁয়ে টাকা দিয়ে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলেও অর্ধেক মানুষের ভাগ্যেই পণ্য জুটে না। নিজের সিরিয়াল আসার আগেই পণ্য শেষ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পরিত্যক্ত অবস্থায় টিসিবি পণ্য উদ্ধারের ঘটনা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

মো. হানিফ নামের এক ব্যক্তি বলেন, সকাল হওয়ার সাথে সাথে আমরা দেখতে পাই, টিসিবি লেখা বস্তাগুলো এখানে পড়ে রয়েছে। তখন লোকজন কম থাকাতে অনেকেই তেল, পেঁয়াজ, চিনি, ডালসহ অনেক জিনিস নিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা এখানে ভিড় করতে শুরু করে। স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, নির্ধারিত মূল্য ৫০০ টাকা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে থাকার পরও আমরা টিসিবি পণ্য ক্রয় করতে পারিনা। আর এখানে এভাবে পড়ে আছে। এটা গরীবের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্টেডিয়ামের গ্যালারি নিচের অংশ নির্জন এবং অন্ধকারচ্ছন্ন হওয়ায় টিসিবির পণ্যগুলো দোকানে বিক্রি করার উদ্দেশে রাতের আঁধারে এখানে মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু সকাল হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় পণ্যগুলো ফেলে চলে যায় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে স্থানীয়রা।

রাঙামাটির টিসিবি পণ্য বিক্রয়কারী ডিলার ঝিল্লোল মজুমদার জানিয়েছেন, শনিবার সকালে আমি পণ্য উদ্ধারের ঘটনাটি জানতে পারি। তৎক্ষণাৎ আমি গোডাউনে গিয়ে দেখি গোডাউনের তালা ভাঙা। আমার গোডাউন থেকে কে বা কারা পণ্যগুলো চুরি করেছে সেই ব্যাপারে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি কোতয়ালী থানার ওসিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম টিসিবি কেন্দ্র থেকে আড়াই লাখ টাকার পণ্য কিনে এনে গোডউনে রেখেছিলাম আমি। শনিবার থেকে সেগুলো শহরে বিক্রির কথা ছিল।

পণ্য উদ্ধারের ব্যাপারে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানিয়েছেন, আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পণ্যগুলো উদ্ধার করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button