ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি শহরের সড়কে গর্ত: পার্সেন্টিজ নাকি অন্য কিছু ?

জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়, এই প্রতিপাদ্যে রাঙামাটিতে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআরটিএ রাঙামাটি সার্কলের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শীল্পী বাণী রায়েরর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মইনুদ্দিন চৌধুরী, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহীন রোকসানা, রাঙামাটি বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক (অঃ দাঃ) শফিক-উল-ইসলাম, রোভার স্কাউট সম্পাদক আফসার উদ্দিন, রাঙামাটি অটোরিক্সা চালক সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদার, রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির, স্কাউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

পরেশ কান্তি মজুমদার বলেন, মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন এক সাথে কাজ করতে না পারলে সচেতনতা আসবে না, এখানে চালকরা ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা গাড়ি চালান, ফলে ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই মালিকদের চালকের প্রতি আরো সচেতন হতে হবে।

স্কাউট সম্পাদক আফসার উদ্দিন বলেন, রাঙামাটি শহরে সকালে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবহন করেন তার সকলেই হেল্পার, মালিক পক্ষ শত শত পরিবারের স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, যেন দেখার কেউ নাই। প্রশাসনের এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি আর বলেন, অটোরিক্সা চালকদের অন্তত আইডি কার্ড গলায় ঝুলাতে বাধ্য করার দাবি জানাচ্ছি। মালিকদের অতি লোভের কারণে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। কে গাড়ি চালাচ্ছেন তার বয়স কত বা তিনি কত ঘন্টা গাড়ি চালাচ্ছেন তার খবর তো আর প্রশাসন নিতে পারবে না, মালিকেই নিতে হবে। আপনার কারণে সাধারণ প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, এ দায় মালিকদের নিতে হবে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ইসমাইল বলেন, আমরা টেনশন লেস জব করি, রাঙামাটিতে ৫০% মোটর সাইকেল আরোহী নিয়ম মেনে গাড়ি চালান না, ফলে আমরা চরম ঝুঁকিতে থাকি, আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারি না, যদি করতে পারতাম তাহলে সড়কের শৃঙ্খলা আরো ফিরে আসতো। তবে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় রাঙামাটিতে দুর্ঘটনা অনেক কম। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছি।

অতিরিক্ত পুলিশ মইনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজকের দিনের প্রধান ব্যক্তি হলো চালক তারা এ সভায় উপস্থিতি নেই। আমাদের পলেসিতে ত্রুটি থাকার কারণ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হচ্ছে না। দুর্ঘটনার জন্য কয়েকটি কারণ জড়িত থাকে, প্রথমত চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতা, তারা গাড়িতে ওঠার পরে মনে হয় একটা জোস চলে আসে সে সবার আগে যাবে, ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। তিনি আরও বলেন, সড়কে খানাখন্দের কারণে যানবাহন চালাতে সমস্যা হয়। অনেক সময় এসব গর্তের কারণেও দুর্ঘটনা হয়। কেন এ গর্ত হয় তার কারণ খুঁজতে হবে। বিশ্বের অন্য দেশে তো এমন গর্ত হয় না, আমাদের দেশে কেন হয়? এর দায় কি সড়ক বিভাগ এড়াতে পারবে? রাস্তায় কার্পেটিং করার সময় হয়তো তারা সঠিক ভাবে মনিটরিং করেন না। অথবা পার্সেন্টিজের বিষয় থাকে, বা অন্য কিছু থাকতে পারে। তা না হলে তো সংস্কারের এভাবে দু’তিন মাসের মধ্যে কেন সড়কে আবার খানাখন্দর হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগর নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহীন রোকসানা দেশের সড়ক মহাসড়কের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, এখন দেশে ফোর লেইন সিক্স লেইন সড়ক হয়েছে, চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে সরকার সড়ক উন্নয়নে আর কাজ করবে যাথে মানুষের ভোগান্তি লাঘবের পাশাপাশি দুর্ঘটনা না ঘটে। তবে এই প্রকৌশলী রাঙামাটির বেহাল সড়ক সংস্কার বা সড়ক উন্নয়নে কোন ধরণের পদক্ষেপ নিবেন সে ব্যাপারে কিছু বলেননি।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক, মালিক, পথচারী সকলেই সচেতন হতে হবে। রাঙামাটি সড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সচেতন হওয়া অনুরোধ করে বলেন, কেউ যাতে হেলম্যাট ছাড়া মোটরসাইকেল চালাতে না পারে, সেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করতে না পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিন।

তিনি বলেন, মিজোরামের সড়ক আমাদের রাঙামাটির সড়কের থেকে অনেক সরু, তারপরও সেখানে চলাচলে কোন সমস্যা হয় না, কারণ তারা যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করতে পারে না, আমিও চাই আমাদের রাঙামাটিতে তেমনটা হোক।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button