ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি পৌরসভা : আশায় আশায় দিন গুনছেন মনোনয়ন প্রার্থীরা

তফশিল ঘোষণা হয়নি এখনো। তবে ঘোষিত হতে পারে যেকোন দিন। ইতোমধ্যেই দুইদফার ঘোষিত তফশিলে রাঙামাটি না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে,এরপরের তফসিলে সম্ভবত থাকছে পার্বত্য জেলার সবচে গুরুত্বপূর্ণ এই পৌরসভাটির নাম।
ফলে একদিকে তফসিশ ঘোষণার জন্য প্রতীক্ষা আর অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় দেশের প্রধান দুই দলেরেএই পৌরসভার মনোনয়ন প্রার্থীরা।
রাঙামাটি আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের ১১ জন নেতা বায়োডাটা জমা দিয়েছেন প্রার্থী হতে। এদের মধ্যে বাছাই করা প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে ইতোমধ্যেই কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন দলটির জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম আছে তা নিয়ে টেনশনে আছে দলটির হয়ে নৌকার প্রার্থী হতে আগ্রহী ১১ নেতা।
মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা বর্তমান মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেছেন-‘ যদ্দুর শুনেছি,ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা কেন্দ্রের কাছে জমা দিয়েছেন আমাদের জেলার শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকেই হয়তো তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমান মেয়র হিসেবে এবং আমার মেয়াদের সামগ্রিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আশাবাদি আমি। দল যে সিদ্ধান্তই নিক,মাথা পেতে নিব আমি। দলের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য।’
আলোচনায় এগিয়ে থাকা আরেক প্রার্থী,সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান বলেছেন, শুনেছি প্রার্থী তালিকা কেন্দ্রে জমা পড়েছে। সেখান থেকেই ঘোষনা আসবে। আমি আশাবাদী, আমার অতীত সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।’
আশাবাদের কথা জানালেন দলটি থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী অন্য নেতারাও। তবে এনিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ জেলার দায়িত্বশীল নেতারা।

অন্যদিকে বিএনপিতে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র নির্বাচন করতে আগ্রহী ১৩ জন নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। সেইসব আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম। পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো। তিনি বলেছেন,‘ আমি রাঙামাটি বিএনপির হয়ে প্রথম মেয়র এই পৌরসভায়। এবং আওয়ামীলীগের ভোট ডাকাতির নির্বাচনেও নির্বাচন শুরুর আড়াই ঘন্টার মধ্যে ভোট বর্জন করেও চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী ছিলাম সর্বশেষ নির্বাচনে। সঙ্গত কারণেই আমার দলের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ^াস আছে,দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে।’ বিএনপির হয়ে ১৩ জনের প্রার্থীতা গ্রহণের বিষয়টিকে ‘অদুরদর্শিতা’ হিসেবে মন্তব্য করে ‘ঠোঁটকাটা’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা বলেন, ‘অতীতে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার দলীয় অনুরোধ উপেক্ষা করে পালিয়ে থাকা অনেককেও দেখলাম,এবার মেয়র হতে মনোনয়ন নিয়েছে, বিষয়টি হাস্যকর!’
বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বলেছেন,‘ আমার বিশ^াস ও আস্থা আছে আমার দলের উপর। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তবে অবশ্যই আমাকেই মনোনয়ন দিবে। দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়ের জন্য শতভাগ আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়েই মাঠে নামব আমি।’
মেয়র পদে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলেছেন-‘ আমি মনে করি, দলের জন্য আমার কমিটমেন্ট এবং নেতাকর্মীদের মাঝে আমার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে আমাকেই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিবে দল। আশা আশাবাদী।’
কে পাবেন দেশের প্রধান দুই দলের দলীয় প্রতীকের অধিকার মেয়র পদে প্রার্থী হতে,সেটা এখনই জানা যাচ্ছেনা নিশ্চিত। দুটি বড় দলই ভেতরে ভেতরে নিজেদের প্রস্তুতি শেষ করে রাখছে। ধারণা করা হচ্ছে,এই প্রস্তুতি শেষ করে তফসিল ঘোষণার পরপরই ঢাকা থেকেই আসবে এই দুই দলের প্রার্থীদের নামের ঘোষণাও। সেই পর্যন্ত আশায় আশায় আছেন প্রার্থীরা। প্রার্থীদের মতো আশায় আশায় আছেন পৌরশহরের বাসিন্দারাও। প্রত্যাশিত ঘোষণা আসা অবধি প্রতীক্ষায় থাকতে হবে তাই সবাইকেই, আপাতত।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button