ব্রেকিংরাঙামাটি

রাঙামাটি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত ঘোষণা

রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত বৃহত্তর বনরুপা এলাকাটি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের অর্ন্তভূক্ত। এ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা হয়ে আসছে এবং এখানে মাদকসেবি ও মাদক ব্যবসায়িদের আনাগোনা ছিলো বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিনের উদ্যোগে গৃহীত পদক্ষেপে এই ওয়ার্ডটিতে এখন মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা নেই, এমন দাবি করে ওয়ার্ডটিকে ‘মাদকমুক্ত’ ঘোষণা করেছেন ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন।

তিনি প্রায় গত একমাস ধরে ওয়ার্ডের তরুন যুবকদের সাথে নিয়ে এলাকাতে পাহাড়া দেন, এসময় মাদকসেবী বা মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা হচ্ছে এমন কোন অভিযোগ পেলে তিনি সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করেন। যার ফলে এ এলাকার মাদকব্যবসায়িরা ঘর ছাড়া হয়ে আছেন র্দীঘ দিন ধরে। এমনকি মানবসেবীরাও আর আসতে পারছে না এই এলাকায়।

৭নং ওয়ার্ড ধোপাপাড়ার বাসিন্দা পার্থ সেন বলেন, আমাদের এ এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে দুই মাদক ব্যবসায়ির জন্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে আসছিলো। এ এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারতো না তাদের জ¦ালায়। এরা রোজ এখানে উচ্চস্বরে কথা বলতো এবং প্রায় মারামারি করতো। এছাড়া অনেকে মোটর বাইক নিয়ে এলাকাতে আসতো বলে উচ্চস্বরে হরণ বাজাতো, এতে করে এলাকার বৃদ্ধ লোক ও বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়া ছেলে মেয়েদের সমস্যা সৃষ্টি হতো।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিনের এ জ¦ালা থেকে আমাদের ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র আমাদেরকে মুক্ত করেছে। তিনি রোজ রাতে এখানে পাহাড়া দিতেন বেশ কিছু ছেলে মিলে। যার কারণে এখন আর মাদকসেবীরা এখানে আসতে পারে না। আর যারা মাদক ব্যবসা করে তারা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্যানেল মেয়রের এমন প্রসংশনীয় কাজের জন্যে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন এই বাসীন্ধা।

৭নং ওয়ার্ডের অন্য এক বাসিন্দা মোহাম্মদ জহির বলেন, আমি ৭নং ওয়ার্ডের দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছি। এলাকায় মাদকসেবি ও মাদক ব্যবসায়িদের আখড়া ছিলো । তারা প্রতিদিন এখানে মাদকসেবন করে বিশৃঙ্খলা করতো। এতে করে আমাদের ছেলে মেয়েদের যেমন পড়ালেখায় ক্ষতি হতো, ঠিক তেমনি এখানে শান্তিও নষ্ট হতো। অতিষ্ট ছিলাম তাদের কর্মকান্ডে, কিন্তু আমাদের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীনের সহযোগিতায় এবং তার একান্ত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে এলকায় এখন আর মাদকসেবী ও ব্যবসায়িরা ডুকতে পারে না। এতে করে আমরা এখন শান্তিতে বসবাস করছি। আশা রাখবো আগামীতে তিনি জনকল্যাণে এমন কাজ অব্যহত রাখবেন।

প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিনের সাথে রোজ মাদক নিয়ন্ত্রণ কাজে নিযুক্ত থাকা জাবেদ উদ্দিন বলেন, আমরা প্যানেল মেয়রের সাথে অত্র এলাকা মাদকমুক্ত রাখার জন্যে প্রতিদিন রাতে পাহারা দিই, যারা মাদক ব্যবসায়ি ছিলো তারা ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আর যে সকল মাদকসেবীরা আসতো তারা চলে যেতে আমাদের অবস্থান দেখে। প্যানেল মেয়রের উদ্যেগে এমন কর্মকান্ডের ফলে এলাকা বর্তমানে মাদক মুক্ত রয়েছে।

রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জামাল উদ্দিন বলেন, ৭নং ওয়ার্ডের ধোপা পাড়া এলাকায় সুমন ও সজল নামের দুই মাদক ব্যবসায়ির জন্যে এলাকার মানুষ অতিষ্ট ছিলো। তাদের কাছে প্রতি নিয়ত মাদকসেবীরা আসতো, সে জন্যে এলাকার মানুষের ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নানান সমস্যা সৃষ্টি হতো। এ সংবাদ জানান পরে আমি প্রতিদিন রাতে এখানে পাহারা দিতে শুরু করি এলাকার মানুষদেরকে নিয়ে। সবাইকে সচেতন করার মাধ্যমে এলাকার মানুষ এখন ভয় না পেয়ে প্রতিরোধ করা শুরু করেছে। এতে করে সম্পূর্ণ ৭নং ওয়ার্ডের মানুষ এখন সচেতন হয়েছে এবং এ ওয়ার্ডে মাদক মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে।

এ কাউন্সিলার আরো বলেন, মাদক হচ্ছে যুব সমাজকে নষ্ট করার মূল কাজ। আমরা মত সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিলারা যদি এমন করে ব্যবস্থা গ্রহন করে তবে প্রতিটি ওয়ার্ড মাদক মুক্ত হবে এবং যুব সমাজ মাদক থেকে রক্ষা পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে প্রতিটি কাউন্সিলারের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রশাসনকে তিনি আহ্বানও জানান।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

  1. অভিনন্দন।
    তবে সব ওয়াডে’ মাদক মুক্ত
    কায্য’ক্রম চালু করা দরকার।
    আমরা প্রথম ৪ং ওয়াড’ এলাকার ওয়াপদা কলোনি,পোস্ট অফিস কলোনি ও অফিসাস’ কলোনির জন গন মাদকের বিরুদ্বে অবস্হান নিয়।
    আসুন সবাই মিলে মাদক-কে না বলি

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: