করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিডসম্পাদকীয়

রাঙামাটি পৌরসভার তিন ‘চ্যাম্পিয়ন কাউন্সিলর’

কভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধে দেশের বিভিন্ন জেলা ইতোমধ্যেই লকডাউনে, পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সরাসরি লকডাউন ঘোষিত না হলেও,দৃশ্যত চারপাশটা লকডাউন’ই । এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়াতে রাঙামাটির পৌরসভার কাউন্সিলররা কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির আওতায় আসা পর পথেকে দিন রাত এক করে মাঠে কাজ করছেন তারা। তবে এই ১২ জন কাউন্সিলরে মধ্যে তিন কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, কালায়ন চাকমা ও মিজানুর রহমান বাবু।
‘শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ফরেস্ট কলোনীর মো.সিরাজ নামে এক ভদ্রলোক হঠ্যাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার আগে থেকে কিডনির সমস্যা ছিল। একজন খবর দিল তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না, তখন সিএনজি ঠিক করে হাসপাতালে পাঠালাম। সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম রেফার করলে অনেক কষ্টে এ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে তাকে চট্টগ্রামে পাঠালাম এবং প্রশাসনকে পুরো বিষয়টা জানিয়ে বাসায় যখন ফিরেছি তখন রাত ১টা।’ এভাবেই প্রতিদিন রাঙামাটির বাসীর পাশে থেকে কাজ করছেন রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জামাল উদ্দিন।
প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণে সহায়তা থেকে ফায়ার সার্ভিসের বা পৌরসভার জীবানুণাষক স্প্রে ছিটানো সব ক্ষেত্রেই সব কার্যক্রমেই এই প্যানেল মেয়রের দেখা মিলেছে রাঙামাটি শহরে।
তিনি জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে শহরের জনগণকে সচেতন করতে  নানা বিধ কাজ করছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে আমার ওয়ার্ডের জন্য ছয়শত মাস্ক দেয়া হয়েছিল সেগুলোসহ নিজের অর্থায়নে আরো চৌদ্দশত মাস্ক আমার ওয়ার্ডে বিতরণ করেছি। জনসাধারণকে করোনা সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করেছি পৌরসভার পক্ষ থেকে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যানার লাগিয়েছি অনেকগুলো, প্রতিটি গলির মুখে জীবানুণাষক স্প্রে বোতল বসিয়েছি। ইতিমধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরে যে ৩১টি হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে ৭নং ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে ৩টি, পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে রিজার্ভ বাজারে ১টিসহ আরো ৮টি হাত ধোয়ার বেচিন স্থাপন করেছি।
সরকারি যেসব ত্রাণ সহায়তা তিনি পেয়েছেন তা তিনি ইতিমধ্যে বিতরণ করে দিয়েছেন, তার সাথে দুই থেকে আড়াইশত মানুষকে নিজের অর্থায়নে বিভিন্ন সময় ত্রাণ বিতরণ করেছেন বলে জানান।
এমনই অনেক কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি মনস্থির করেছেন করোনা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতার হার আরো প্রসারিত করবেন যাতে সকলে মিলে একসাথে করোনা মোকাবেলা করা যায়।
করোনা প্রাদুর্ভাব দেশে শুরুর পর থেকে যে লোকটি ৮নং ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি হলেন, সে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর পরিষদের ২ নম্বর প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা। প্রচারবিমুখ সাদামাটা এই লোকটি এলাকার তরুণ সমাজকেই ধন্যবাদ জানালেন করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করার জন্য।
তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে শিশু খাদ্য সহ যেসকল ত্রাণ ইতিপূর্বে আমার ওয়ার্ডের জন্য পেয়েছি তা আমি বিতরণের ব্যবস্থা করেছি। আমি চেষ্টা করছি সকলকে নিয়ে একসাথে করোনা মোকাবেলা করতে। যে সকল সেচ্ছাসেবক টিম ইতিমধ্যে নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের ত্রাণ সহযোগীতা করতে চাইছে তাদের আমি পরামর্শ দিব সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করে তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করতে। যার ফলে ত্রাণের সুষম বন্টন নিশ্চিত হবে।
রাঙামাটির পৌরসভার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের আহবায়কের দায়িত্বে থাকা এই কাউন্সিলর বলেন, আমরা পৌর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তারা যাতে কোন ভাবে অসুস্থ হয়ে না পড়ে। পাশাপাশি কোন জায়গা থেকে আবর্জনার স্তুপ তৈরি হয়েছে, খবর পেলে সেখানে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আবারো লোক পাঠাচ্ছি। পৌর এলাকাবাসীকে আহবান জানাবো, তারা যেন রাতে ময়লা ফেলে, তাহলে সকালে পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদি দিনের যে কোন সময় ময়লা ফেলে তা বার বার গিয়ে পরিষ্কার করা দুষ্কর। তিনি সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় এই মহামারি কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে মত ব্যক্ত করেন।

করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফনের কাজে জেলা প্রশাসন যখন সেচ্ছাসেবক খুঁজছিল তখন যার নাম সবার প্রথমে জমা পড়েছিলো তিনি হলেন রাঙামাটি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবু। এই কাউন্সিলর প্রতিদিন তিনি তার ওয়ার্ডে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, আমার ওয়ার্ডে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৫টি বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আমি যে সকল ত্রাণ সহায়তা সরকার থেকে পৌরসভার মাধ্যমে পেয়েছি তাও ৬ দফায় বিতরণ করেছি এবং বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে এলাকার নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে। ব্যক্তিগত ভাবে ১০টাকা কেজি দরে চাল কিনতে বেশ কিছু মানুষকে আর্থিক সহায়তা করেছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করেছি, জীবানুণাষক স্প্রে করেছি প্রত্যেক অলিগলিতে, আমার ওয়ার্ডে।
আমার ওয়ার্ডে সেসকল প্রবাসী আসছে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবেশ করেছিল তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছি। তাছাড়াও এলাকার যেসকল সেচ্ছাসেবী সংগঠন আমার কাছে সহযোগিতা চাইছে তাদের আমি সহযোগিতা করছি এবং করবো। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে করোনা কোন ভাবেই রাঙামাটিতে সংক্রামণ ছাড়াতে পাড়বে না বলে আমি মনে করি।

করোনায় পৌরবাসির পাশে থেকে সক্রিয় রাঙামাটি পৌরসভার সব কাউন্সিলরারই। কেউ এগিয়ে কেউ হয়তো কিছুটা পেছনে। আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় বলে প্রচারের আলোয়,আবার কেউ কেউ কাজ করেও প্রচারবিমুখ হওয়ায় জানছে না অনেকেই। পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম ১২ জন কাউন্সিলরের কাজের চুলচেরা বিশ্লেষন করেই বের করেছে সবার চেয়েও এগিয়ে আছেন এই তিন কাউন্সিলর। শুধু করোনাযুদ্ধেই নয়,এই বছরেই শেষ হতে যাওয়া পৌর পরিষদের মেয়াদকালেই নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় ছিলেন এলাকাবাসির প্রিয়মুখ এই তিন চ্যাম্পিয়ন কাউন্সিলর। আগামী নির্বাচনে জনতার ভোটে তারা বিজয়ী হবেন কিনা,সেটা রাজনীতির বিষয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় ইতোমধ্যেই বিজয়ী হয়ে গেছেন এই তিন তরুণ….ভোট সেখানে হয়তো কখনই বড় কিংবা শেষ কথা নয়।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button