নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাঙামাটি পার্ক নিয়ে আন্দোলনকারীদের উচ্ছ্বাস
parbatyachattagram

জেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা

রাঙামাটি পার্ক নিয়ে আন্দোলনকারীদের উচ্ছ্বাস

ষাটের দশকে কাপ্তাই বাঁধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আশ্রয় নিয়েছিল পাহাড়ের চুড়ায়। তখন রিজার্ভ ফরেস্টেও কিছু লোক ঝাড়-জঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি গড়ে তোলে। রিজার্ভ বাজারের প্রবেশমুখে পাহাড় কেটে করা হয় খেলার মাঠ। পরে পাশে আরেকটি খেলার মাঠ তৈরি হলে এটি লোকজনের বিনোদনের জায়গায় পরিণত হয়। প্রাকৃতিকভাবে এখানে কিছু গাছ থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় এখানে নানা জাতের গাছের চারা রোপণ করে এবং জায়গাটিও তারা দেখভাল করতো। এভাবে এটি পৌর পার্ক হিসেবেই রাঙামাটিতে পরিচিত হয়ে উঠে। গাছ-গাছালিতে ভরপুর এই পার্কটি ছিল শহরবাসীর বিনোদনের অন্যতম স্থান। ২০০৫ সালের দিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি একটি কমিউনিটি সেন্টার করার উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। ১কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কের দুই তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের কাজও শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের আন্দোলন ও মামলার কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। কেটে যায় অনেকটা বছর। সকল চড়াই উতরাই পেরিয়ে অবশেষে পার্কটি শিশুদের জন্যই উন্মুক্ত করে প্রশাসন। একই সাথে দীর্ঘদিন ধরে যে পার্কটিকে রাঙামাটিবাসী পৌর পার্ক হিসেবে জানতো; কাগজপত্রে দেখা মিলে এটি জেলাপ্রশাসনেরই মালিকানাধীন পার্ক। ফলে জেলা প্রশাসনও বেদখলমুক্ত করে এটিকে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। পার্ক করার দাবিতে আন্দোলনকারীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সরাসরি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে না পারলেও আন্দোলনের নেপথ্যে কাজ করেছিলেন রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ধুমধাম করে পার্কের সকল গাছ কেটে এখানে কমিউনিটি সেন্টারের কাজ শুরু করা হলো। রাতদিন কাজ করে অনেক পিলারও বসানো হলো। আবার মামলার কারণে সে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে সেসব পিলারও সরানো হলো। মোট কথা সরকারি টাকা অপব্যবহারের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছিল এটি। পার্কটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে যখন কমিউনিটি সেন্টার করা হচ্ছিল তখন শহরের একদল তরুন আন্দোলনে নেমেছিল, তারা মামলাও করেছিল। তাদের সাথে সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত থাকতে না পারলেও তাদের আন্দোলনের পক্ষেই আমার নৈতিক সমর্থন ছিল। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে তাদের পক্ষেই মতামত দিতাম। তিনি বলেন, পার্কটি শিশুদের জন্য চালু করা হয়েছে-এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ। যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। তাই এটি খুবই জরুরী ছিল। দীর্ঘদিন পরে হলেও তা আলোর মুখ দেখেছে।

গ্লোবাল ভিলেজের নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী বলেন, পর্যটন শহর রাঙামাটির একমাত্র শিশু পার্কটি কমিউনিটি সেন্টার করার নামে পুরোটাই ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছিল। আমাদের প্রস্তাব ছিল-পার্কের পিছন থেকে কমিউনিটি সেন্টার হোক আর সামনে পার্কটি শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। কিন্তু সেসময় পৌর কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই প্রস্তাবে রাজি হলেও কিছুদিন পরে পার্কের সব গাছ কেটেই পুরোদমে কাজ শুরু করে। আমরা মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান করি। কিন্তু আমাদের নৈতিক আন্দোলনে তারা বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। পরে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি। এরপর বন্ধ হয়ে যায় কাজ আর বিশ^ ব্যাংকও পরিবেশ তাদের দেয়া অর্থ ফিরিয়ে নেয়। এরপর পার্কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে আসে নানা প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি। আমরা আমাদের নৈতিক অবস্থানে স্থির ছিলাম এবং আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলাম। আজ দীর্ঘ বছর পর পার্কটি শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলো। এটা নিঃসন্দেহে আন্দোলনের ফসল। এই পার্কটিকে শিশুদের জন্য যুগোপযোগী খেলার সরঞ্জাম সংযোজন করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ পার্কের অভ্যন্তরে যেসব স্থাপনা এখনো রয়েছে সব উচ্ছেদ করে পার্কটিকে পুরোপুরি বেদখলমুক্ত করার।’ ফজলে এলাহী পার্ক আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ গ্লোবাল ভিলেজের প্রতিটি সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে বলেন,ওইসব শিশু কিশোর তরুণ তরুণীরা ঝুঁকি নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে হাতে হাত শক্ত করে ধরে রাখার কারণেই আজকের এই পার্ক……আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে,ভালোবাসার সাথে,কৃতজ্ঞতার সাথে আমার বন্ধু ও গ্লোবাল ভিলেজের সেইসব সদস্যদের স্মরণ করতে চাই আজকের এই দিনে।’ তিনি বলেন, একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, এ পার্করক্ষার আন্দোলনে আগে পরে অনেকেই ছিলেন,সুযোগ বুঝে অনেকেই সরে গেছেন,কেটে পড়েছেন, কিন্তু একমাত্র গ্লোবাল ভিলেজের কর্মীরাই শেষপর্যন্ত ছিলো এবং আছে।’ পাশাপাশি রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল,শামসুল আরেফিন,মানজারুল মান্নান এবং অবশ্যই মামুনুর রশীদ স্যারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সাথে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো ভাইয়ের যে নিখাত আন্তরিকতা সেটা ভোলার নয়,তার প্রচেষ্টাতেই পার্কের সেই অর্ধনির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়।’ সেই সাথে আরো একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, রাঙামাটির দুই প্রবীন কিংবদন্তী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে’কে আমরা সবসময়ই এই আন্দোলনে ছায়াবৃক্ষ হিসেবে কাছে পেয়েছি।

পার্ক আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ গ্লোবাল ভিলেজের প্রতিটি সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে বলেন,ওইসব শিশু কিশোর তরুণ তরুণীরা ঝুঁকি নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে হাতে হাত শক্ত করে ধরে রাখার কারণেই আজকের এই পার্ক……আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে,ভালোবাসার সাথে,কৃতজ্ঞতার সাথে আমার বন্ধু ও গ্লোবাল ভিলেজের সেইসব সদস্যদের স্মরণ করতে চাই আজকের এই দিনে।’ তিনি বলেন, একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, এ পার্করক্ষার আন্দোলনে আগে পরে অনেকেই ছিলেন,সুযোগ বুঝে অনেকেই সরে গেছেন,কেটে পড়েছেন, কিন্তু একমাত্র গ্লোবাল ভিলেজের কর্মীরাই শেষপর্যন্ত ছিলো এবং আছে।’

গ্লোবাল ভিলেজের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হেফাজত-উল বারি সবুজ বলেন, আজ থেকে ১৫ বছর আগে যখন আন্দোলন শুরু করেছিলাম তখন অনেকেই বিষয়টা বুঝতে পারেননি। তাই আমাদেরকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিলেন এবং আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু আজ দেড় দশক পরে এসে তারাও বুঝতে পারছেন আমাদের আন্দোলন সঠিক ছিল। দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল আজকের পার্কটি চালু হওয়ায় নিজের মধ্যেও ভাল লাগছে। আশা করব-আর কোনো অপশক্তির কারণে যেন এটি বন্ধ হয়ে না যায় এবং এটি শিশুদের জন্যই ফিক্সট রাখবেন প্রশাসন এবং চালুও রাখবেন।

গ্লোবাল ভিলেজের কোষাধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, পার্ক চালু হয়েছে এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ। পার্কটি উন্মুক্ত করে দেয়ার পর অনলাইন-অফলাইনে মানুষের যে অনুভুতি ও উল্লাস তা দেখেই অনুমান করা যায়-এই পার্কটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল রাঙামাটিবাসীর জন্য। রাঙামাটিতে বড়দের যাওয়ার অনেক জায়গা আছে কিন্তু ছোটদের জন্য স্পেশালি কোনো জায়গা নেই। শিশুদের বিনোদনের জন্য একমাত্র এই পার্কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শেষোবধি এটি ছোটদের জন্য থাকে নাকি বড়রাই দখলে নিয়ে নেয়-সেটাই এখন শংকার বিষয় ‘

Micro Web Technology

আরো দেখুন

তবলছড়ি কালিমন্দির পরিচালনার দায়িত্বে আশীষ-পংকজ-অরূপ

রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহি শ্রী শ্রী রক্ষা কালিমন্দির এর নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক …

Leave a Reply