পাহাড়ের অর্থনীতিব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি জেলা পরিষদের ৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। বুধবার পরিষদের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বাজেট ঘোষণা করেন। সংস্থাপন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয় মিলে মোট ১৪টি খাতে ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় তিন কোটি টাকা বেশি। তবে গত অর্থ বছরে ৭০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হলেও বছর শেষে বাজেটের তুলনায় আরো দুই কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে। সে হিসেবে গত অর্থ-বছরে পরিষদের মোট ব্যয় হয়েছে ৭২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। এতে মন্ত্রণালয় থেকে ৬৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা এবং নিজস্ব আয় হতে তিন কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় ৫৯ কোটি এবং সংস্থাপন ব্যয় ১১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া পরিষদের নিজস্ব আয় তিন কোটি বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে। ৭৩ কোটি টাকা বাজেটে সরকারি থোক বরাদ্দ ৭০ কোটি টাকা এবং পরিষদের নিজস্ব আয় তিন কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ১৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এরপর শিক্ষা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ১১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ রাখা হয়েছে পূর্ত খাতে। এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ টাকা, ধর্ম খাতে পাঁচ কোটি ৯০ লক্ষ; সমাজ কল্যাণ, আর্থ সামাজিক ও নারী উন্নয়ন খাতে ৫ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্য, পরিবারকল্যাণ ও সুপেয় পানি খাতে চার কোটি ৭২ লাখ টাকা; কৃষি ও মৎস্য খাতে দুই কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা; জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ খাতে এক কোটি টাকা ১৮ লাখ টাকা; ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে পাঁচ কোটি ৯০ লক্ষ; পর্যটন খাতে এক কোটি ১৮ লক্ষ টাকা; ত্রাণ ও পুনর্বাসন খাতে এক কোটি ৭৭ লক্ষ হাজার টাকা; ভূমি ও হাটবাজার ৫৯ লক্ষ টাকা, শিশু উন্নয়নে খাতে ৫৯ লক্ষ টাকা ও বিবিধ খাতে ৫৯ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

আবার গত অর্থ বছরে ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিবিধ খাতে সবচে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। এই খাতে গত অর্থ-বছরে বাজেটে রাখা হয়েছিল সর্বনি¤œ ৫৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু, বছর শেষে খরচ বিবরণীতে এই খাতে সবচে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা। যা বাজেটের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের সর্বোচ্চ বাজেট যোগাযোগ খাতে বাজেট ধরা হয়েছিল ১৪ কোটি ৬২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বছর শেষে এই খাতে ৮৭ প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। পূর্ত বিভাগের গত বছর বাজেট ছিল ৭ কোটি ২ লক্ষ টাকা। বছর শেষে এই খাতে খরচ হয়েছে ৪৭ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। যা বাজেটের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি। ধর্মীয় খাতে ৫ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা বাজেটে রাখলেও এই খাতে ৭১টি প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৭ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। এই খাতে বাজেটের চেয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে গত অর্থ বছরে ১১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও খরচ হয়েছে ৬ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। কৃষিতে বরাদ্দ ২ কোটি ৯২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা রাখলেও এই খাতে ব্যয় করা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এদিকে গত বছর পর্যটন খাতে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও গত অর্থ-বছরে এই খাতে কোনো খরচ করেনি জেলা পরিষদ।

বাজেট ঘোষণাকালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে জেলা পরিষদ উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে। জেলার অনেক কাজই জেলা পরিষদ করতে চাই, কিন্তু স্বাদ থাকলেও সাধ্যের কারণে আমরা সেগুলো হাত দিতে পারে না। তবে জেলার উন্নয়নে জেলা পরিষদ সবসময় কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

বাজেট ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার, পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক হোসেন, সদস্য হাজি মুছা মাতব্বর, রেমলিয়ানা পাংখোয়া, ত্রিদীব দাশসহ পরিষদের কর্মকর্তারাবৃন্দ।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button