নীড় পাতা / ফিচার / খেলার মাঠ / রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা : চার বছরে প্রথম বার্ষিক সাধারন সভা আজ !
parbatyachattagram

রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা : চার বছরে প্রথম বার্ষিক সাধারন সভা আজ !

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,যাত্রা শুরু করার চারবছর পর আজই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রথম বার্ষিক সাধারন সভা। অথচ জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া সবচে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এই সংস্থাটির গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রতিবছরই সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু নিজেদের জাতীয় ক্রিড়া পরিষদ নির্ধারিত গঠনতান্ত্রিক নিয়ম নিজেরাই লংঘন করেছে সংস্থাটি !

বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর (২০১৪-১৮) চার বছর মেয়াদে এটিই বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সাধারন সভা বা এজিএম। বার্ষিক সাধারন সভা প্রতি বছর হবার কথা থাকলেও আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সাধারন সভা।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর কার্যনির্বাহী কমিটির (২০১৮-২২) নির্বাচন হবার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে।

বার্ষিক সাধারন সভা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে খেলার মান ও ক্লাবগুলো যেমন গতিশীল হতো ঠিক তেমনি জেলাক্রীড়া সংস্থাও আরো অনেক বেশী ক্রীড়ার মান উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারতো বলে মনে করেন ক্রীড়া সংগঠকরা।

এই প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় উইন ষ্টার ক্লাবের প্রতিনিধি রাঙামাটি জেলা দলের সাবেক ক্রিকেটার বেনু দত্ত বলেন, চার বছরে একটি বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হওয়া খুবই দু:খজনক। প্রতি বছর বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হলে ক্রীড়ার সাথে জড়িত সকলে অনেক উপকৃত হতো।

বার্ষিক সাধারন সভা না হওয়াতে হতাশা প্রকাশ করে অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাবের কর্মকর্তা ও রাঙামাটি জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাছির উদ্দিন সোহেল বলেন, বার্ষিক সাধারন সভায় সাধারনত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তাই এমন সভা নিয়মিত না হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে। যার ফলে খেলাতে ধীরগতি চলে আসে। রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতার প্রধান কারণও এই সাধারন সভা নিয়মিত না হওয়া।

প্রগতি ক্লাবের প্রতিনিধি মিথুল দেওয়ান বলেন, বার্ষিক সাধারন সভা প্রতি বছর করার নিয়ম, তবে তা নির্ভর করে কমিটির সদিচ্ছার উপর। মাঠে খেলাই নাই, তাই হয়তো কমিটি কখনো বার্ষিক সাধারন সভা করেনি, কারন সেখানে জবাব দিতে হবে কেন খেলা হচ্ছে না? যেহেতু মেয়াদ শেষ তাই সাধারন সভা করতে হবে, সে জন্যই করছে তারা। নিয়মিত বার্ষিক সাধারন সভা হলে ভুল ত্রুটি সংশোধন করে খেলার মান আরো বাড়নো যেতো।
রিজার্ভ বাজার ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধি শফিউল আজম বলেন, প্রতি বছর বার্ষিক সাধারন সভা হওয়া খুবই জরুরী, কারণ এ সভার মাধ্যমে সাধারন সভার সদস্যদের মাঝে কার্যনির্বাহী কমিটি কি করছে তা অবহিত করা যায়। সাধারন সভায় সবার আলোচনার মাধ্যমে সকল ভুল ত্রুটি সংশোধন করা যায়। এর ফলে যে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে বর্তমানে তাও থাকতো না।

ক্রিকেটার্স ক্লাবের প্রতিনিধি রোমেল বড়ুয়া বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রতি বছর সাধারন সভা করার নিয়ম রয়েছে। চার বছরে একবার সাধারন সভা করলে অনেক অপূর্ণতা থেকে যায়। সাধারন সভা আয়োজন অনেক বড় করে করতে হবে তেমনটি নয়। প্রতি বছর করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান খুব সহজেই হয়ে যেত। নিয়মিত সাধারন সভা করতে না পারাকে কমিটির ব্যর্থতা হিসেবেই উল্লেখ করেন তিনি।

তবে সাধারন সভা না হওয়ার জন্য নিজেদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাকেই গুরুত্ব দিলেন সাধারন সম্পাদক। এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার বরুন বিকাশ দেওয়ান বলেন, একটি বার্ষিক সাধারন সভা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার তেমন কোন আয় নাই, তাই আমরা চাইলেও প্রতি বছর সাধারন সভা করতে পারি না। তবে আমাদের কমিটি খেলাধুলার জন্য খুবই আন্তরিক ছিলো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়,বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের পদভারে। একুশে ফেব্রুয়ারীর টানা তিনদিনের …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten + seven =