ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগ : সম্মেলন হলো,কাউন্সিল হলো না !

রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভা শেষে কাউন্সিল শুরুর আগেই জেলা সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে ‘পালিয়ে যাওয়া’র অভিযোগ করে তাদের দুজনকে ‘অবাঞ্ছিত ঘোষণা’ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। শনিবার রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন শুরু হয় সকালে শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা। প্রথম অধিবেশন সুন্দরভাবে শেষও হয়। এসময় আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কাউন্সিলে যেনো ‘বহিরাগত’ কাউকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা না হয়, সেই নির্দেশনাও দেন। আলোচনা সভা শেষে দুপুরের খাবারের বিরতির জন্য আধঘন্টা বিরতি দেয়া হয়। এরপরই কাউন্সিল শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু কাউন্সিলর এবং কাউন্সিল মনিটরিং এর দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামীলীগ নেতাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সম্মেলন স্থল ত্যাগ করে চলে যায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ও সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা। দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করে এবং নানাভাবে যোগাযোগ করেও সভাপতি ও সম্পাদককে না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন কাউন্সিলর ও সভাপতি-সম্পাদক পদের প্রার্থীরা। তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করে সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে কাউন্সিল থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনেন তারা এবং বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিট কমিটির সম্মেলনের কার্যক্রমকে প্রত্যাখ্যান করে সভাপতি-সম্পাদককে রাঙামাটিতে ‘অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা।

প্রকাশ-সুজনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি শুরু থেকেই নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সমালোচিত

সম্মেলনের মঞ্চেই অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কলেজ ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পা,সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ এবং জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ। তারা অভিযোগ করেন, ‘ সভাপতি পদে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ছাত্রদল থেকে আসা দীপংকর দে কে নির্বাচিত করাতে পারবে না জেনেই সভাপতি-সম্পাদক কাউন্সিল না করে পালিয়ে গেছে। এটা কাপুরুষোচিত কাজ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তারা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদককে ‘ব্যর্থ ও অযোগ্য’ দাবি করে অবিলম্বে এই জেলা কমিটিকে বিলুপ্ত করে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে।

প্রকাশ-সুজন ‘উধাও’, তবুও তাদের প্রতীক্ষায় কাউন্সিলররা এবং আওয়ামীলীগের সহসভাপতি চিংকিউ রোয়াজা…….কিন্তু ওদের দেখা নেই…তাই হল রুমেই ঝিমোচ্ছেন তারা….

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা,অন্যদল থেকে আসা কাউকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া যাবেনা,এমন অবস্থানটি জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা কাউন্সিলের পূর্বে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেই বিপত্তি দেখা দেয়। সভাপতি-সম্পাদক তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করিয়ে আনতে পারবেন না বুঝেই,কৌশলে পালিয়ে গেছেন। আমরা ধারণা করছি,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা দুজনে মিলে কলেজ ছাত্রলীগের পকেট কমিটি ঘোষণা করতে পারে। যদি এমন কিছু হয়,তবে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবেনা।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে সভাপতি সুজন ও সাধারন সম্পাদক প্রকাশকে রাঙামাটি জেলায় ‘ অবাঞ্ছিত ’ ঘোষণা করে তাদের যেখানে পাওয়া যাবে,সেখানেই প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয় এবং তাদের অধীনে আর কোন ইউনিটের সম্মেলন করতে দেয়া হবেনা বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

সভাপতি সুজন ও সাধারন সম্পাদক প্রকাশকে রাঙামাটি জেলায় ‘ অবাঞ্ছিত ’ ঘোষণা করে তাদের যেখানে পাওয়া যাবে,সেখানেই প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয় এবং তাদের অধীনে আর কোন ইউনিটের সম্মেলন করতে দেয়া হবেনা বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

সুলতান মাহমুদ বাপ্পা

একসময় সভাপতি সুজনের ঘনিষ্ঠজন ও বন্ধু হিসেবে পরিচিত, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পা বলেছেন, ‘ অন্য দল থেকে আসা নিজের পছন্দের একজনসহ নিজেদের প্যানেলের নিশ্চিত পরাজয় জেনে,তারা কাপুরুষের মতো পালিয়েছে। আমরা এই জঘণ্য কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই ধরণের কাপুরুষোচিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার প্রয়াস অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ।’

আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ

সংবাদ সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ বলেন, ‘ আমরা বুঝতে পারছি, জেলার সভাপতি সম্পাদক নিজেদের পছন্দের সভাপতি সম্পাদকের নামেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করবে। আমরা বিষয়টি আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে অবহিত করেছি। এই ধরণের যেকোন অপতৎপরতা আমরা রুখে দাঁড়াব।’

সাইফুল আলম রাশেদ

জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ জানিয়েছেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদক মনোনীত হওয়ার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রাণপ্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার যেসব কাজ করে আসছে,তারই সর্বশেষ কাজ হলো কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনের কাউন্সিল না করে পালিয়ে যাওয়া। আমরা তাদের দুজনকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করছি এবং তাদের অধীনে আর কোন ইউনিটের সম্মেলন হবেনা বলেও আপনাদের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছি।’

এই বিষয়ে কাউন্সিলের দায়িত্বে থাকা প্রধান অতিথি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি চিংকিউ রোয়াজা জানিয়েছেন, ‘ প্রথম অধিবেশন সুন্দরভাবে শেষ হওয়ার পর কাউন্সিল শুরু হওয়ার আগে সভাপতি-সম্পাদক কিছু প্রার্থীর বায়োডাটায় সমস্যা আছে এবং তা যাচাই বাছাইয়ের সময় নেই জানিয়ে কাউন্সিলস্থল ত্যাগ করে। পরে তাদের সাথে কথা বললে তারা জানায় দাদা( দীপংকর তালুকদার) আসলেই এই বিষয়ে তারা ওনার সাথে বসে সমাধান করবেন।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কাউন্সিল হওয়া উচিত ছিলো’, না হওয়াটা দু:খজনক।’

তবে ‘পালিয়ে আসা’র অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা জানিয়েছেন, সভাপতি সম্পাদক পদে যাদের বায়োডাটা জমা পড়েছে,তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নানান সময় নানা অভিযোগ আছে, এদের কারো কারো ছাত্রত্ব নেই এবং নানা কিছুতে অভিযুক্ত। তাই এসব যাচাই বাছাই করার জন্যই আমরা কাউন্সিল করিনি। যাচাইবাছাই শেষে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর কোন প্রভাব বর্তমানে চলমান ছাত্রলীগের অন্যান্য ইউনিটের সম্মেলনে পড়বে না বলে জানিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘ কোন বিশেষ প্রার্থীকে সভাপতি করতেই তারা এমনটা করেছেন বলে যে দাবি,সেটা সত্য নয়।’ প্রকাশ চাকমা সংবাদ সম্মেলন করা ছাত্রলীগ নেতাদের ‘সাবেক’ মন্তব্য করে বলেন, তাদের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তারা আর ছাত্রলীগের কেউ নয়, তাদের কথায় কিছু যায় আসেনা।’ রাঙামাটি সরকারি কলেজে এই মুহুর্তে ছাত্রলীগের কোন কমিটি বা কার্যক্রম নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে কলেজ ছাত্রলীগের কাউন্সিল পন্ড হওয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, ছাত্রদল থেকে আসা দীপংকরকে সভাপতি না করার জন্য আমাদের নির্দেশনার পরই তারা দুজন ‘ঠুনকো’ অজুহাতে সম্মেলনস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এটা অন্যায় করেছে। আমরা জেলা আওয়ামীলীগের নেতারাও সেখানে ছিলাম,আমাদের কোন কথাও তারা শুনেনি। এই বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগ আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে এবং সেই পদক্ষেপ বেশ কঠিন হবে বলেই ইঙ্গিত দিলেন জেলার প্রভাবশালী এই নেতা। একই সাথে এইসব ঘটনার অন্তরালের ক্রীড়নক হিসেবে সহযোগি সংগঠনের একজন নেতা,যিনি আবার জনপ্রতিনিধিও,তার দিকেই আঙ্গুল তুলেছেন মুছা মাতব্বর।

ছাত্রদল থেকে আসা দীপংকরকে সভাপতি না করার জন্য আমাদের নির্দেশনার পরই তারা দুজন ‘ঠুনকো’ অজুহাতে সম্মেলনস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এটা অন্যায় করেছে। আমরা জেলা আওয়ামীলীগের নেতারাও সেখানে ছিলাম,আমাদের কোন কথাও তারা শুনেনি।…মুছা মাতব্বর

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button