রাঙামাটিলিড

রাঙামাটি : কমছে সংক্রমন,বাড়ছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি

অরণ্য ইমতিয়াজ
সংক্রমনের নিম্নগতি আর আক্রান্তের পরিসংখ্যানে করোনার ভয়াবহতা থেকে দৃশ্যত সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। ফলে জেলায় স্বস্তি বাড়ছে,বাড়ছে মাস্ক না পড়া ও স্বাস্থ্য বিধি না মানার প্রবণতাও। সনাক্তে উদ্বেগ কমে আসলেও তাই স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে উদ্বেগ।

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৩ জন, বুধবার ২ জন, মঙ্গলবার ৩ জন, সোমবার ৯ জন, এর আগের দিন ৩ জন নতুন করে কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন রাঙামাটি জেলায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা,যাদের প্রায় সবাই পিসিআর টেস্টে এবং কেউ কেউ এন্টিজেন টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, পার্বত্য রাঙামাটি জেলায় এই পর্যন্ত কোভিড পজিটিভ হয়েছেন ৪ হাজার ১৯৯ জন,যা মোট পরীক্ষার ১৬.৯৭ শতাংশ। জেলায় ২৪ হাজার ৭১৯ জন ব্যক্তি কোভিড পরীক্ষায় এই ফলাফল এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৪ জন। সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর একজন মারা যান কাপ্তাই উপজেলায়।

এদিকে জেলার টিকা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে বেশ ভালোই। জেলার প্রায় সোয়া ছয়লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে এযাবত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ১১৫জন,দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৭৪ জন।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা: মোস্তফা কামাল পুরো পরিস্থিতিকে ‘সন্তোষজনক’ বললেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ডা: মোস্তফা কামাল জানাচ্ছেন, ‘ আমাদের জেলায় আক্রান্তের হার এখন খুবই কম এবং জেলায় টিকা প্রদানের হারও বেশ ভালো। বিষয়টি আমাদের জন্য সুখবর। তবে সবাই যেনো স্বাস্থ্যবিধি ন্যুনতমও উপেক্ষা না করে। অবহেলা করলেই আবার বিপদ বাড়তে পারে।’

প্রসঙ্গত, দেশের সর্বশেষ জেলা হিসেবে করোনা সংক্রমিত হয় পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমনের ৬০ দিন পর ৫ মে ৬৪ তম জেলা হিসেবে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। ওই বছরের ২৯ এপ্রিল আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। সেখান থেকে ৫ মে করোনা পজিটিভ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এদের মধ্যে একজন শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার, দুইজন হাসপাতাল এলাকার ও একজন দেবাশীষ নগর এলাকার ছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে ছিলেন রাঙামাটি হাসপাতালের একজন নার্স ও একটি নয় মাসের শিশু । প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম থেকে পরীক্ষা করাতে হলেও পরে রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পর এখানেই পরীক্ষা করা হচ্ছে সন্দেহভাজন সংক্রমিতদের।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button