করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি : আক্রান্ত ৭০,সুস্থ ৩২

৬ মে থেকে ৫ জুন, এক মাসের চিত্র

গত ৬ মে প্রথমবারের মতো দেশের সর্বশেষ জেলা রাঙামাটিতে ৯ মাসের শিশুসহ ৪ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর গত ৩০ দিনে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭০ জনের। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৩২ জন। বাকি ৩৮ জন লড়ছেন মরনব্যাধি ভাইরাস কোভি৬-১৯ এর বিরুদ্ধে।

রাঙামাটির আক্রান্ত ৭০ জনের মধ্যে সর্বাধিক রয়েছেন চিকিৎসক,নার্স,আয়া,স্বাস্থ্যকর্মী। এরপর রয়েছেন কাপ্তাই অবস্থিত নৌবাহিনী ও রাঙামাটির মানিকছড়ি এবং কাউখালীর বেতবুনিয়ায় কর্মরত পুলিশ সদস্য। আক্রান্তদের মধ্যে সর্বনিন্ম ৯ মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে আছেন ৭০ বছর বয়সীও। গত ৬ মে প্রথম করোনা রোগি শনাক্ত হওয়ার পর সর্বশেষ ৪ জুন রাতে শহরে আরেকজনের করোনা শনাক্ত হয়। সবমিলিয়ে জেলায় এখন অবধি মোট শনাক্ত ৭০ জন।

তবে আশার কথা হলো,রাঙামাটির আক্রান্তদের প্রায় সবারই শারীরিক অবস্থা ছিলো স্বাভাবিক,খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন ছিলোনা একজনেরও। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রাঙামাটির সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা বলেছেন-‘ সারাবিশ্বের মতো রাঙামাটিও বিপদাপন্ন, এটাই বাস্তব সত্য। তবে সারাদেশে আক্রান্ত যখন অর্ধলক্ষ পেরিয়ে গেছে,তখন দেশের সবচে বড় জেলায় সংখ্যা এখনো ৭০,এটা হয়তো স্বস্তিরও। সেই সাথে এখন পর্যন্ত খুব ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন পেশেন্ট’র পাইনি আমরা। এটা ভালো খবর। তবে এটা নিয়ে আত্মতুষ্ঠির কোন সুযোগ নেই। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে,স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বিপদ একেবারেই কেটে যাবে বা গেছে,এমন ভাবনা ভাবার সময় এখনো অনেক দূর। যতদিন ভ্যাকসিন আসবে না, ততদিন এই কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমেই লড়াই করতে হবে।’
রাঙামাটিতে এখন অবধি টেস্ট বেশি করাতে না পারার হতাশার কথা জানিয়ে জেলার এই সর্বোচ্চ চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন-‘ এখন আমরা রিপোর্ট পাঠিয়ে অন্তত৭/১০ দিন অপেক্ষা করতে হয়,রিপোর্ট সময়মতো হাতে না পাওয়ায় আমরা শনাক্তদের সতর্ক থাকার বা রাখার নির্দেশনাও ঠিকমতো প্রদান ও বাস্তবায়ন করতে পারছিনা। জেলায় যদি ল্যাব থাকতো,তবে এই সমস্যাটি হতো না।’

তবে আশাবাদের কথা জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেছেন, রাঙামাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী স্যার,জেলায় ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে খুবই আন্তরিক,তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছেন,আশা করছি খুব শীঘ্রই ভালো একটা খবর দিতে পারব আমরা।তখন হয়তো সংকট কেটে যাবে।’

এদিকে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, জেলায় এখন পর্যন্ত যে ৭০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে রাঙামাটি শহরে ৩৭ জন,লংগদু উপজেলায় ৫ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন,বিলাইছড়িতে ২ জন,রাজস্থলীতে ১ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১১ জন,কাউখালী উপজেলায় ৭ জন,নানিয়ারচরে ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিলাইছড়ি,জুরাছড়ি এবং রাজস্থলীর ৯ জনই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। রাঙামাটি শহরের ৩৭ জনের মধ্যে ১৪ জন সুস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে জেলার দুই ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ি এবং বরকলে এখনো কেউ আক্রান্ত হয়নি।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা: মোস্তফা কামাল এইসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র আরো জানিয়েছেন, আয়তনে দেশের সবচে বড় এই জেলায় এখন পর্যন্ত ২,৯০৪ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিলো। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৬৭১ জন কোয়ারেন্টিন শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এখনো কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৩৩ জন। জেলার মোট ১২০৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো, এদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে ১০২০ জনের। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে এখনো আছেন ১১ জন। করোনায় এখন অবধি কেউই মারা যায়নি এই জেলায়। করোনা উপসর্গ নিয়ে একজন উপজেলা প্রকৌশলীসহ ৫ জন মারা গেলেও,মৃত্যু পরবর্তী সময়ে আসা রিপোর্টে এদের করোনা উপসর্গ পাওয়া যায়নি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button