ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটি আওয়ামীলীগে ‘মেয়র দৌড়’ শুরু!

প্রার্থীতায় নেই একজন পাহাড়ীও !

মনোনয়নের জন্য সিভি জমা দিচ্ছেন সম্ভাবনার দৌড়ে সবচে এগিয়ে থাকাদের একজন,রাঙামাটি পৌরসভার একমাত্র সাবেক মেয়র হাবিব,যিনি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন
আওয়ামীলীগের দু:সময়ের নেতা হিসেবে পরিচিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির অধিকার আন্দোলনের নেতা অমর কুমার দে সিভি জমা দিচ্ছেন
ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পরাজিত জাকির হোসেন সেলিম সিভি জমা দিচ্ছেন মেয়র পদের জন্য
রক্তে মাংসে শ্রমে ঘামে আওয়ামী রাজনীতির পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে পরিচিত জেলা যুবলীগ সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ কাজলও আছেন মনোনয়ন দৌড়ে
সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য, তেল ব্যবসায়ি মনিরুজ্জামান রানা নিজের ভাই সদর উপজেলা চেয়ারমান শহীদুজ্জামান রোমানকে সাথে নিয়ে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে
ফের মনোনয়ন পেতে চান বর্তমান মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীও। তাই সিভি জমা দিয়েছেন এই জেলা যুবলীগ সভাপতি,যিনি মনোনয়ন দৌড়ের অন্যতম প্রার্থী
শ্রমিক রাজনীতির পরীক্ষিত মুখ শামসুল আলমও আছেন মেয়র হওয়ার দৌড়ে,জমা দিয়েছেন বায়োডাটা
বনরূপা ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি,সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান পৌর আওয়ামীলীগের নেতা আবু সৈয়দও আছেন মেয়র হওয়ার দৌড়ে
পরিবহন ব্যবসায়ি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মঈনুদ্দিন সেলিমও চান মেয়র পদে মনোনয়ন,তাই জমা দিয়েছেন নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত বায়োডাটা
পৌর আওয়ামীলীগের বারবার নির্বাচিত সভাপতি তিনি,প্রতিবছরই পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে নাম শোনা যায় তার,কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মনোনয়ন পান না শেষাবধি ! এবারও চাইছেন তিনি মনোনয়ন,তাই ফের জমা দিয়েছেন সিভি !

আসছে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনে জেলার সবচে প্রেস্টিজিয়াস ‘রাঙামাটি পৌর মেয়র’ পদে বসতে তোরজোর শুরু হয়েছে রাঙামাটি আওয়ামীলীগে। সাধারন সম্পাদক মুছার ফেসবুক আহ্বানে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার দুপুর বারোটার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই ইতোমধ্যেই মনোনয়নের জন্য বায়োাডাটা জমা দিয়েছেন দশ জন সম্ভাব্য প্রার্থী ! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,এদের মধ্যে পুরোনো মেয়র হাবিব কিংবা বর্তমানের আকবর,হালের রানা কিংবা পরীক্ষিত অমর , সিনিয়র সেলিম অথবা তরুণ কাজল, শ্রমিকলীগের শামসু কিংবা পৌর আওয়ামীলীগের সোলায়মান,আবু সৈয়দকে নেই ! যেনো মেয়র হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন সবাই !
মূলত: সোমবার সকালের পর থেকেই একের পর এক মনোনয়নের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত বায়োডাটা জমা দিতে শুরু করেন আওয়ামীলীগ নেতারা। একেকজন জমা দিচ্ছেন আর তাদের সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড করতে শুরু করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। তার ব্যক্তিগত ওয়াল থেকেই মূলত: কে বা কারা মনোনয়ন নিয়েছেন সেই তথ্য জানতে শুরু সাধারন মানুষ।
তবে মনোনয়ন যারা নিয়েছেন,তাদের মধ্যে নেয়ারই কথা এমন ২/৪ জন প্রার্থী থাকলেও,বাকিদের নেয়াটা বেশ চমকে দেয়ার মতোই। বিশেষত শ্রমিকলীগ সভাপতি শামসু এবং যুবলীগ সম্পাদক কাজলের মনোনয়নের জন্য সিভি জমা দেওয়ার তথ্যে বিস্ময় জানিয়েছেন অনেকই,আবার খুশিও হয়েছেন অনেকই। কারণ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এরা দুজনই পোড় খাওয়া এবং পরীক্ষিত। সাবেক মেয়র হাবিব,বর্তমান মেয়র আকবর,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী মনোনয়ন চাইবেন স্বাভাবিকই এটা,চাওয়ার কথা বাতাসে ভাসছিলো মনিরুজ্জামান মহসিন,অমর কুমার দে,জাকির হোসেন সেলিম এরও।
আওয়ামীলীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,মঙ্গলবার সকাল দশটা পর্যন্ত সময় ও সুযোগ আছে মনোনয়নের জন্য সিভি জমা দেয়ার। এরপর দুপুর বারোটার দিকেই এইসব বায়োডাটা নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হবেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। সেখানেই আছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ‘দাদা’ দীপংকর তালুকদার। দুই নেতাই ‘সম্ভবত’ এসব সিভি জমা দিবেন কেন্দ্রের নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের কাছে,সেখান থেকেই আসবে প্রার্থীতার চূড়ান্ত ঘোষণা।
এদিকে আওয়ামীলীগের একের পর এক নেতার মনোনয়ন চাওয়ার ঘটনায় হতবাক সাধারন নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থীর সমর্থনে স্ট্যাটাসবাজি শুরু করলেও বেশিরভাগই ‘শুভকামনা’তেই থমকে দাঁড়িয়েছেন মন্তব্যের ঘরে !
একটু আগ বাড়িয়ে কেউবা লিখেছেন ‘নৌকা যার,আমরা তার’ !
তবে সকল বিশ্লেষন শেষে,কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড কার নাম ঘোষণা করবে,সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র জানাচ্ছে, প্রার্থীদের বায়োডাটা সেই বোর্ডের হাতে পৌঁছানোর আগেই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা সম্ভাব্য এই প্রার্থী ‘আমলনামা’ পৌঁছে গেছে সেখানে। একই সাথে জেলা আওয়ামীলীগের ‘সুপারিশ’ কিংবা ‘ প্রস্তাবনা’ও থাকবে সেই টেবিলে। সব কিছু বিশ্লেষন করেই হয়তো ঘোষণা আসবে কে হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী। যদিও ‘অতিআত্মবিশ^াসী’ কোন কোন প্রার্থী ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন নির্বাচনী মেকানিজম, তৈরি করছেন পছন্দের রিটার্নিং ও পোলিং অফিসারদের তালিকা,যোগাযোগ করছেন নানান ‘গোপন নিয়ন্ত্রক’দের ঢেরায় !
কিন্তু বাস্তবতা হলো,যুদ্ধ প্রেম আর রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই ! ফলে অতি ধুরন্ধর কিংবা কূশলী খেলোয়ারও ছোট্ট নুড়িপাথরে ওষ্ঠা খেয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন,বিষাদে কিংবা হতাশায়! কে সেই ? তারজন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকটা দিন…

 

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button