ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটির ৭০৮ বিদ্যালয়ের ১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ

বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম এবং পরীক্ষা দিতে হচ্ছে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় এরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টির পাকা ভবন ও টিনসেডগুলো নষ্টগুলো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই ছাতা মাথায় নিয়ে পড়ালেখা চালাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। শুধু এই বিদ্যালয়টি নয়, জেলার ৭০৮টি, বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩৩টি বিদ্যালয় দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথামিক শিক্ষা অফিস। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমছে বলে জানান বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, আমার বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শতাধিকের বেশি ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু একটি টিনসেড ঘরে তিনটি রুমসহ একটি পাকা ঘরে দুটি রুমে মোট ৫টি রুমে চলে শিক্ষা কার্যক্রম। পাকা ঘরটির ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। টিনসেড ঘরটিতেও একই অবস্থা। কিছু দিন আগে টিনসেড ঘরটি কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। তারপরও বৃষ্টি শুরু হলেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়, অথবা ছাতা খুলে পড়ালেখা চালাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি একদম কমে যায়।

রাঙামাটি সদর ইউনিয়নের বালুখালী বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুপক চাকমা জানান, আমার বিদ্যালয়ের ছাদের বিম ফেটে গেছে, প্রায় সময় আস্তর খসে খসে পড়ে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বিদ্যালয়ের সবাই খুব আতঙ্কে থাকি। যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার তো আমাদের ওপর এসে পড়বে। তাই দ্রুতই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পূর্ব আমতলী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে। ২০১৫ সালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে একটি রুমে শ্রেণি কার্যক্রম এবং একটি রুমে লাইব্রেরি রুম রাখা হয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষক মো. মোস্তাফিজ। তিনি আরো জানান, আমাদের টিনসেড একটি ঘর আছে যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার স্থান না হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রাথমিক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সোনা মিত্র চাকমা জানান, ‘বাঘাইছড়ি উপজেলা অন্যান্য উপজেলা থেকে একটু বেশি দুর্গম এলাকা। দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে এখানো উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি। এই উপজেলায় মোট ১১৬টি বিদ্যালয় আছে যার মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৫ থেকে ২০টি।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, রাঙামাটি জেলায় মোট ৭০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে গত ২০১৭ সালে মার্চ মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউএনডিপি পরিচালিত প্রায় ৮১টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সেইসব বিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে। ইউএনডিপি পরিচালিত প্রায় ৮১টিসহ মোট ১৩৩টি বিদ্যালয় সবচেয়ে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শ্রেণী কার্যক্রম চলছে। আমরা এসব বিদ্যালয়েল তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button