নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাঙামাটির সেন্ট ট্রিজার্স স্কুলের  এ কেমন ইতিহাস জ্ঞান!
parbatyachattagram

রাঙামাটির সেন্ট ট্রিজার্স স্কুলের  এ কেমন ইতিহাস জ্ঞান!

রাঙামাটির একটি বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় শোক দিবস নিয়ে ভুল তথ্য ও অসত্য তথ্য দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবলছড়ি অবস্থিত সেন্ট ট্রিজার স্কুলের ফেসবুক পেইজে ১৫ আগস্ট ইংরেজিতে বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেয় যেখানে দেখা যায় জাতির জনকের মৃত্যু দিবস থেকে শুরু করে অসংখ্য ভুল ও অসত্য তথ্য দেয়া আছে। এমনকি স্ট্যাটাসের এক জায়গায় বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর পরিবারেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে!

বঙ্গবন্ধু হত্যার তারিখ কোথাও ৮ তারিখ আবার কোথাও ৭ তারিখ উল্লেখ করা হয়। ধানমন্ডির ১২নং এর বাসভবনে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হয় স্ট্যাটাসে। স্ট্যাটাসে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়সহ মোট বিশ জন মারা গেছে বলা হয়। স্ট্যাটাসের একটি অংশে শেখ রেহানাকে শেখ হাসিনার পুত্র হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রতিবছর দেশের বাইরে থাকার কারণে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বেঁচে গেছেন বলেও উল্লেখ করা ইংরেজিতে লেখা স্ট্যাটাসে।

শহরের ঐতিহ্যবাহী স্কুলে এমন ভুল ও অসত্য তথ্য আর অশুদ্ধ ইংরেজি বাক্য গঠন লেখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। বিদ্যালয়টির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অনেকে বিদ্যালয়টিকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছন।

স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পর কমেন্টেসে এটিএম শোয়েব চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি লিখেন, জাতির পিতার ৪৪তম শোক দিবসকে উদ্দেশ্য করে লেখায় তাঁর শাহাদাত দিবসের তারিখ এলোমেলো ভাবে ৭ ও ৮ই আগস্ট, হত্যাকান্ডের স্থান ১২নং ধানমন্ডি ও নিহতের সংখ্যা ২০ জন উল্লেখসহ আরো অনেক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান করা হয়েছে। এমনকি জাতির পিতা তার পরিবারের সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে পোস্টটিতে বলা হয়েছে যা হয়তো বাক্য গঠনের দুর্বলতাও হতে পারে। একটি স্কুলের পেইজে পোস্ট করা লেখায় এমনটা অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক। এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা জাতির পিতা সম্পর্কে কি জানতে পারে তা সহজে অনুমেয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

স্ট্যাটাসে মৃণাল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা লিখেন, ইংরেজি ব্যাকরণগত ভুল হতেই পারে, কিন্তু তারিখ, ঠিকানা ভুল করা সেটা কাম্য নয়। চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

একই স্ট্যাটাসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান মন্তব্য করেন, আমার শিক্ষা জীবন শুরু এই সেন্ট ট্রিজার্স স্কুল থেকে(স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল সেন্ট তেরেজা স্কুল)। সেই সময়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী এখনও বেঁচে আছেন আর তাঁরা এখনও মা এবং তাঁর সহকর্মীদের স্মরণ করেন। কিন্তু বর্তমান সেন্ট ট্রিজার্স স্কুল তাঁদের স্কুলের কোন ম্যাগাজিন বা লেখাতেও সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করে না। অথচ তৎকালীন সময়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরেই এই স্কুলের সুনাম ছিল। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বোধ হয় ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে চায় না(স্কুলের সাথে সম্পৃক্ত সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি)। ‘ধান …শিবের গীত’ হয়ে গেল নাকি?

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা মুঠোফোনে বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক, এভাবে ইতিহাস বিকৃতি করা কোনভাবেই ঠিক না, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানাচ্ছি।

সেন্ট ট্রিজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৌরিকা গোমেজ মুঠোফোনে বলেন, পেইজটি আমাদের স্কুলেরর শিক্ষকরা চালায় আমি বিষয়টি দেখছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: খোরশেদ আলম বলেন, স্কুলটির সাহস কিভাবে হয় এমনভাবে মন্তব্য করার, স্কুলটি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তাই আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি কি করা যায়।

রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা বলেন, আমি আপনার কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি এখনই বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করব।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অস্ত্রের মুখে রুমায় ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ 

বান্দরবানের রুমায় অস্ত্রের মুখে ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।  রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে পুলিশ …

Leave a Reply