ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটির মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় নানাবিধ আলোচনা

রাঙামাটিতে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা, জেলা সদরে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সভার শুরুতেই গত মাসের সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এসময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রতিনিধি জানান, জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে এ পর্যন্ত ৪৪ জন শিক্ষকের ডেপুটিশন বাতিল করা হয়েছে। তারা এখন স-স বিদ্যালয়ে পাঠদান করাচ্ছেন। জেলায় আর কোনো শিক্ষক ডেপুটিশনে নেই বলে জানানো হলে, জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী আফিসারগণকে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত জেলা প্রশাসক জানাতে নির্দেশ দেন মামুনুর রশিদ।

সভায় রাঙামাটি জেলার সড়ক উন্নয় কাজের প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহীন রোকসানার দৃষ্টি আকর্ষণ করে হলে তিনি বলেন, একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেতে আরও প্রায় ৩ মাস সময় লাগে তাই কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সহসাই সড়ক উন্নয়নের কাজে হাত দেয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, গত বছর প্রবল বর্ষণে সড়কের যে ক্ষতি হয়েছে তা যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয়। বিশেষ করে ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা গত বছরে যে কাজ করেছিলাম এখনও সেটা সে অবস্থাতেই রেয়ে গেছে এটা দুঃখজনক। আর কিছুদিন পর বর্ষা শুরু হলে এই সড়ক রক্ষা করা যাবে না। এসব কাজে কেন এতো দীর্ঘসূত্রিতা এটা ঠিক বুঝতে পারছিনা।

এসময় জেলা প্রশাসক শহরে যে কার্পেটিং কাজ করার কথা সেটা কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ইতিমধ্যে সকল উপকরণ চলে এসেছে। কাজ শুরু হয়ে যাবে, ডিসেম্বরেই এই কাজ শেষ হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাস্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এলজিইডি প্রতিনিধি বলেন, সার্ভে শেষ হয়েছে, আশা করি ২০ সালের প্রথম দিকেই দরপত্র আহ্বান করতে পারবো।

এসময় রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হাজী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় চলমান এলজিইডির সড়কের কাজে নি¤œমানের ইটসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মানসম্মত কাজ হচ্ছে না। এর জবাবে এলজিইডি প্রতিনিধি বলেন, এ ব্যাপারে লোকাল অফিসকে অবহিত করলে ভালো হবে। তবে এটার তদন্ত হচ্ছে প্রমাণিত হলে হয়তো উপজেলা প্রকৌশল অফিসের অনেকেই ফেঁসে যেতে পারেন।

সভায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় বারবার উচ্ছেদের পরও তাদের অফিসের সড়ক বারবার দখল হয়ে যাচ্ছে। তবে এবার এর সাথে যুক্ত হয়ে ট্রাকে পণ্য বোঝাই কাজ, ফলে অফিসে যাতায়াতই দূরহ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে তিনবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। এবার পৌর মেয়র আমাকে অফিসিয়াল চিঠি দিলেই আবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবো।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ট্রাক লোডের ব্যাপারটি আমি দেখবো।’ তবে উচ্ছেদের ব্যাপারে কিছু বলেননি মেয়র !

সভায় পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, মাদক ও অপরাধ রাঙামাটিতে একেবারেই কম। তারপরও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কারা কারা মাদকের সাথে জড়িত তাদের তালিকাও আমাদের কাছে আছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, রাঙামাটি পর্যটন নগরী কিন্তু সে অনুপাতে সেবার মান বাড়েনি, সব ক্ষেত্রই আমাদের আরো কাজ করতে হবে। তবে আমি আশা করি, ২০১৭ সালের পরে রাঙামাটি পর্যটন শিল্প যে ধাক্কা খেয়েছিল ১৯ সালে এসে সেটা কেটে যাবে। এবার প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আগের থেকে অনেক বেশি কাজ করছে। এ মাসে তারা ৪৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে। বেশ কিছু সফলতা আছে, তবে আজ কোর কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে রাঙামাটিতে মাদকের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অধীনে অবিযান পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগের মত আমাদের চুপ করে থাকার সুযোগ নেই। সব বিষয়ে আমাদেরও জবাবদিহিতা করতে হয়, তাই সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সব কাজের তদারকি করার নির্দেশ দেন তিনি। মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবরে রাঙামাটিতে অপরাধ কমেছে। যেখানে সেপ্টেম্বরে সর্বমোট ৫৭ অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো। অক্টোবরে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৫১ টিতে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button