রাঙামাটি

রাঙামাটির মন্দিরে মন্দিরে ব্যানার ঝুলিয়ে প্রতিবাদ

দেশের বিভিন্নস্থানে হামলা ভাংচুরের ঘটনায়

সুহৃদ সুপান্থ
দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বসতবাড়ি,মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেপরোয়া হামলা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পার্বত্য শহর রাঙামাটির হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শহরের ১৪ টি মন্দিরের পূজামন্ডপের বাইরে প্রতিবাদী ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়া হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেতেই।

ব্যানারে লেখা হয়-‘হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মঠ মন্দিরে সাম্প্রদায়িক হামলা,ভাংচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,সাম্প্রদায়িক হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’। রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে এইসব ব্যানার ঝোলানো হয়।

সংগঠনটির নেতা স্বপন মহাজন বলছেন-‘ আমরা এই নীরব প্রতিবাদ করা ছাড়া আর কিইবা করতে পারি। এখন শান্তিপূর্ণভাবে পূজাটা শেষ করাটাই আমাদের কাছে সবচে বড় চ্যালেঞ্জ।’

তরুন বাচিকশিল্পী লিটন দেব বলেন-‘ এটা আমাদের ক্ষুদ্র প্রতিবাদ। এর মাধ্যমে বুকের বেদনার পুরোটার প্রকাশ হয়ত হচ্ছেনা,কিন্তু প্রতিবাদটা তো অন্তত জানাতে পারলাম।’

রাঙামাটির মন্দিরে মন্দিরে ব্যানার ঝুলিয়ে প্রতিবাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অন্য শহরের বাসিন্দারাও।

খাগড়াছড়ির সাংবাদিক অপু দত্ত নিজের শহরে এমন প্রতিবাদও না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন-‘এই শহরে একটা ব্যানার লাগানোর হেডম কারো নাই, একটা ব্যানারে হয়তো কিছুই হতোনা। অন্তত প্রতিবাদটুকুতো দেখা যেত!। ভেতরের কষ্ট, ক্ষোভের প্রকাশ অন্তত ঘটতো। অথছ এই শহরে এই জেলায় ঘটনার প্রতিবাদে একটা ব্যানার লাগানোর জন্য কোন সংগঠন নাই, কোন নেতা নাই। সবাই অন্যদের কাছে মেরুদন্ড বন্ধক রেখেছে। এই শ্রেণীর লোকের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধও বিসর্জন দিয়েছি।’

চট্টগ্রামের সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরী লিখেছেন-‘স্যালুট প্রতিবাদের জন্য, চাঁটগাইয়া হিন্দু নেতাদের সে সাহসও নাই।’

শুধু মন্দিরেই নয়,একই রকম একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউ কোর্ট বিল্ডিং এলাকায়ও, যেনো দায়িত্বশীলদের কাছে নিজেদের বিষাদ,বেদনা কিংবা ক্ষোভের বার্তা পৌঁছে দিতে !

অনেককেই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এইসব ব্যানার ঝোলানোর ছবি পোস্ট করে ইতিবাচক ও প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। দল মত নির্বিশেষে সবাই এমন বর্বর আচরণের বিচার দাবি করেছেন এবং নেপথ্য কূশীলবদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button