করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটির ফুটবলারদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউই 

করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো ক্রীড়াঙ্গন। সারা বছর মাঠ মাতিয়ে রাখে নিজেদের ক্রীড়া নৈপুণ্যে খেলোয়াড়রা । বিশ্বে বিভিন্ন দেশে যখন খেলোয়াড়রা একজন আরেকজনকে সহায়তা করছে নিজেদের। অন্যদিকে রাঙামাটি জেলা দলের ফুটবলাররা করোনায় অনেকটা অভিবাবকহীন হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় ফুটবলারদের খবর নিচ্ছে না জেলা ক্রীড়া সংস্থা, রাঙামাটি জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এমনকি কোন কোন খবর রাখছে না জেলা খেলোয়াড় সমিতিও।

করোনার করুন সময়টা পার করছেন খেলোয়াড়রা অসহায় ও কষ্টের মধ্য দিয়ে। অনেক খেলোয়াড় শুধুমাত্র ফুটবল খেলেই সংসার চালায়। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে যে আয় হয় তা দিয়েই চালাত সংসার। খেলা বন্ধ তাই আয়ও বন্ধ খেলোয়াড়দের। এ সময়ে জেলা ক্রীড়া কর্তারা খেলোয়াড়দের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিবেন তেমনটাই প্রত্যাশা করেছে মাঠের মধ্যমনিরা। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্লেট পর্বের চ্যাম্পিয়ন হয় রাঙামাটি জেলা ফুটবল দলের এই খেলোয়াড়দের হাত ধরেই।

ফুটবলারা অভিযোগ করেন এমন কঠিন সময়ে তাদের পাশে কেউ নাই। কেউ কোন ধরনের সহায়তাতো দূরের কথা ফোন করেও খোঁজ খবর নিচ্ছে না আমাদের কেমন আছি সেটিও জানতে চাচ্ছে না। অনেকে বলছেন রাঙামাটি জেলা দলে অনেক সময় কোন ধরনের টাকা না নিয়েই খেলি কিন্তু এমন সময়ে যদি তাদের কাছ থেকে আমরা কোনধরনের সহযোগীততা না পাই তাহলে আমরা কোথায় যাব?

রাঙামাটি জেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় মো: হানিফ বলেন, আমরা অনেক কষ্টে আছি কেউ আমাদের খবর নেয় না। কাউকে মুখ খুলে কিছু বলতেও পারছি না। আমি একবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদককে ম্যাসেজ দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি কোন উত্তর দেন নাই।

আরেক ফুটবলার মো: শফিক বলেন, ফুটবল খেলে যা আয় হয় তা দিয়েই আমার সংসার চলে এখন খেলা নাই খুব কষ্টে আছি আজ পর্যন্ত কেউ খবরও নেয় নাই। এমন কঠিন সময়ে সহযোগীতা পেলে অনেক উপকার হতো।

আরেক ফুটবলার মুন্না আসাম বলেন, খুব কষ্টে আছি। ডিএফএ, জেলাক্রীড়া সংস্থা, খেলোয়াড় সমিতি কেউই কোন খবর বা সহযোগীতা করছে না। খেলা বন্ধ কোন আয় নাই। আমরা সদ্য বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ান হয়েছি। এসময় আমাদেরকে সহযোগীতা করা খুবই জরুরী।

রাঙামাটি খেলোয়াড় সমিতির সাধারন সম্পাদক রতন বড়ুয়া বলেন, আমাদের সংগঠনে তেমন কোন টাকা নাই তাই ইচ্ছা থাকলেও খেলোয়াড়দের জন্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারছি না। তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ডিএফএ বড় সংগঠন তারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। আশা করবো সবাই এসময়ে খোলায়াড়দের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি ও সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় বরুন বিকাশ দেওয়ান বলেন, এ সময়ে খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করা খুবই জরুরী। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। খেলায়াড়দের পাশে সবাই দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

তবে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মো: শফিউল আজম তেমন অসহায় খেলোয়াড়  পাচ্ছেন না জানিয়ে বলেন, ‘আমি মেয়রের সাথে কথা বলেছিলাম, আমরা ধারনা করেছি রাঙামাটি শহরে প্রায় ত্রিশ হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছে সরকার, সেখান থেকে হয়তো খেলোয়াড়দের পরিবাররাও পেয়েছে। তারপরও যদি খেলোয়াড়দের একটা তালিকা পাই, চেষ্টা করবো কিছু সহযোগীতা করার।’

রাঙামাটি জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, বাফুফে  খেলোয়াড়দের জন্য কোন সহায়তা আমাদের পাঠায় নাই। আমার কাছেও খুব খারাপ লাগছে, এসময়ে তাদের জন্য কিছু করতে পারছিনা। তবে আমি করোনার কারনে চট্টগ্রামে আটকে আছি, তাই তাদের পাশে সরাসরি দাঁড়াতে পারছি না। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে রাঙামাটির ফুটবল খেলোয়াড়দের আমরা সহযোগিতা প্রদান করবো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button