রাঙামাটিলিড

রাঙামাটির জন্য নাড়ির টান অনুভব করি: পুলিশ সুপার

হেফাজত সবুজ ॥
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি প্রেমে টানে বা মায়ার বাঁধনে আটকা পড়েনি এমন মানুষ খুব কমই আছেন। হোক সে পর্যটন বা চাকরিসূত্রে আসা। তেমনই একজন সদ্য বদলি হওয়া রাঙামাটি পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর। সম্প্রতি তিনি বদলি হয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরে, সহসাই তিনি যোগ দিবেন নতুন কর্মস্থলে। তাই রাঙামাটির মাসিক এই আইন-শৃঙ্খলা সভাই ছিলো তার শেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় যোগদান। আর পদোন্নাতির কারণে তিনি আর জেলার আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নিয়ে আর আসা হবে না এমন সভায়। সে হিসাবে এটাই ছিল তার জীবনের জেলা সংক্রান্ত শেষ আইন শৃঙ্খলা সভা।

এ সভায় মোঃ আলমগীর কবীর বলেন, রাঙামাটি আসলেই একটি ভালোবাসার জায়গা, সারা দেশের মানুষের কাছেও ভালোবাসার স্থান, তাই তারা বারবার আসেন। আমরা এসেছি চাকরি করতে। সে সুবাদে এখানে এসে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পর্যটন বিকাশে কাজ করেছে, আপনার আমাকে সেজন্য সাধুবাদ দিয়েছেন, এটা পুলিশ বিভাগের প্রচেষ্টায় হয়েছে, তাই আমরা নত চিত্তে আপনাদের এই প্রশংসাকে গ্রহণ করছি। দায়িত্ব পালন কালের সময়টা আমার জন্য ছিল বেশ আনন্দের, কারণ এখানে এমন কিছু হয়নি যার কারণে এই জেলা তেমন একটা পত্রিকার শিরোনাম হয়নি, সে দিক থেকে আমি ভাগ্যবান। মূলত জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য সকলকে নিয়ে একটি টিম ওয়ার্কের কারণেই এই সফলতা বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, আমি অনেক জায়গায় চাকরি করেছি, সে সব স্থানের জন্য কোন অনুভূতি কাজ করে না, কিন্তু এখানকার বিষয়টি একেবারের ভিন্ন। রাঙামাটির জন্য নাড়ির টান অনুভব করি, চাইলেও এটাকে ভুলে থাকা যাবে না। মনে হয় বার বার আসতে হবে। আমার ছেলে বলছিল যতদিন রাঙামাটি থেকে গেলাম আর দশ বছর না আসলেও চলবে, তাকে বলেছি দেখো আগামী বছরই আসতে হবে। চাইলেও রাঙামাটিকে ভুলে থাকতের পারবে না। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা একটা এয়ারপোর্ট করেন, যাতে দ্রুত আসতে পারি। বর্তমানে তো আসা যাওয়ায় ১৪/১৫ ঘন্টা সময় লাগে, এটা আসলে অনেক কষ্টের।

তিনি বলেন, এখানে যা করেছি তা কর্তব্য থেকে করেছি ব্যক্তিগতভাবে না। আমি রাঙামাটিকে পৌর মেয়রকে প্রচুর জ্বালিয়েছি, অনেক কথা বলেছি, ওনার সাথে আমার আলাদা একটা সম্পর্ক আছে তাই অধিকার থেকে বলেছি। তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন, সে সকল উপাদান এখানে ছিল। আমি চাইতাম তিনি যাতে দেশের শ্রেষ্ঠ মেয়র হন, ওনার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাক, ওনার অনেক কিছুই করার ছিল, তাই অনেক বেশি কথা বলেছি। তবে ওনার কাছ থেকে আমি অনেক পেয়েছি, যা চেয়েছি তার চেয়ে বেশি পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি কাজ করতে গিয়ে যদি কাউকে কিছু বলে থাকি সেটা চাকরির করণে বলেছি, সেটা আবার দিনের শেষে ভুলেও গেছি। তবে কেউ যদি আমার ব্যক্তিগত আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে সেটা আমরা উভয়ে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবো। যাতে পরবর্তীতে দেখা হলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে পারি। আমরা চাকরি করার কারণে রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর চেয়ে কর্মক্ষেত্রের মানুষগুলোই আত্মাজন হয়ে যায়। আপনারা আমার সেই আত্মাজন। আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে সুস্থ থাকতে পারি। আজ এ সভায় আমার অপর ব্যাচমেট সাঈদ তারিকুল হাসানের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায়, রাঙামাটি পুলিশ পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। রাঙামাটির এ টান আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না, বারবার আমাকে আসতেই হবে।

জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভা শেষে পুলিশ সুপারের বদলি ও পদোন্নতির জন্য আগাম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button