রাঙামাটিলিড

রাঙামাটির আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সেতু !

জিয়াউল জিয়া

কাতার বিশ্বকাপের রেশ পৌঁছে গেছে পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতে। ৩২ দলের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও সমর্থনের দিক থেকে বাংলাদেশ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চেয়েও কম যায় না। ফুটবলপ্রিয় এই জাতির বেশিরভাগ মানুষ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে মুহূর্তেই বাক্যবাণে জড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে ছাদে পতাকা কিংবা পুরো ভবনটিই প্রিয় দলের পতাকার রঙে আঁকিয়ে তুললেও, রাঙামাটিতে রয়েছে এরচেয়েও বড় ব্যতিক্রম। শহরের দুইটি সেতুর রং আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙানোর কারণে সেতু দুইটি পরিচিতি পেয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সেতু নামে। আর এখানেও সেতু নিয়ে যথারীতি বিভক্ত সমর্থকরাও। সেতুগুলোর প্রকৃত নাম ভুলে ভক্তরা আপাতত মেতে আছেন সেতুগুলোর গায়ের রঙের সাথে মিলিয়ে নামকরণে !

রাঙামাটি শহরের কাছেই রয়েছে দুইটি সেতু। একটি আসামবস্তি ব্রাহ্মণটিলা ও অন্যটি রির্জাভবাজার ঝুলুক্যাপাহাড় এলাকায় ওয়াই আকৃতির সংযোগ সেতু। সেতুটির তৈরি করার পর কর্তৃপক্ষ রং আকাশি সাদার কারণে আর্জেন্টিনা সেতু হিসেবে পরিচিতি পায়। শহরের মানুষ সেতুটিকে আর্জেন্টিনা সেতু হিসেবে এক নামেই চিনে। বিকেল হলেই নানান বয়সী ছেলেমেয়েদের আড্ডায় প্রাণবন্ত হয়ে সেতুর পুরো অংশ। বিশ্বকাপের ডামাঢোলে আপাতত যে নামেই ডাকা হোক না কেনো, প্রকতঅর্থে এই সেতুটির অফিসিয়াল নাম ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ সেতু।’

এদিকে কম যায় না ব্রাজিল সমর্থকরাও। আর্জেন্টিনা সেতুর নামকরণের পর থেকে শহরের ‘আসামবস্তি সেতু’টি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙাতে দাবি তোলেন ব্রাজিল দলের সমর্থক। তাই পৌরসভা থেকে সেতুটি হলুদ-সবুজ রঙে রাঙিয়ে দেয়। এরপর থেকে আসামবস্তির এই সেতুটিও ব্রাজিল সেতুর তকমা পেয়ে যায়।

আসামবস্তি এলাকার আরো একটি সেতু ব্রাম্মনটিলা সেতু। এই সেতুটিকেও রাঙানা হয়েছে আর্জেন্টিনা পতাকার রঙে। ফলে  এই সেতুটিকেও লোকজন আর্জেন্টিনা সেতু নামে ডাকছে।

প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে ছাদে পতাকা লাগাচ্ছেন। আবার এদিকে দুই সেতুর রং ও নামকরণ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে যেমন রয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তেমনি একে-অন্যের সেতু নিয়ে টিপ্পনি কাটতেও ভুল করেন না। ব্রাজিলের সমর্থরা বলছেন, সেতুর রং আকাশি-নীল করতে হবে এমন তো কোনও বাধ্যবাধকতা নেই, তারপরও আকাশি-নীল করার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিপরীত দিকে আসামবস্তি সেতু হলুদ-সবুজে রংয়ের আস্তর পড়ায় একে ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা।

আর্জেন্টিনা সমর্থক নাছির উদ্দিন সোহেল বলেন, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। বাংলাদেশ না থাকায় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক আমি। রাঙামাটিতে আমরা যারা আর্জেন্টিনা সমর্থক আছি তারা সবাই খুব গর্বিত কারন এই শহরে দুটি সেতুর রং আর্জেন্টিনা পতাকার রংয়ের সাথে মিল হয়েছে। এবং স্থানীয় ভাবে এই দুটি সেতু আর্জেন্টিনা সেতু হিসেবে বেশি পরিচিত। আর কয়েকদিন পর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হবে। আমরা আমাদের পছন্দের দলকে সমর্থনে বড় পর্দায় খেলা দেখবো।

আর্জেন্টিনা দলের আরেক সমর্থক লাবনী রায় বলেন, আসামবস্তি সেতুটি আগে অন্য রঙে ছিল। ইদানিং দেখছি এটি ব্রাজিলের পতাকা রঙে রাঙানো হয়েছে। এটি কোনভাবে কাম্য নয়। আমার মনে হয় এটি ষড়যন্ত্র।

ব্রাজিল দলের সমর্থক শহরের দুটি আর্জেন্টিনা সেতু থাকলেও সেখানে দশর্ণীরা সেভাবে যায়না। ব্রাজিল সেতুতে লোকজনের আগমন বেশি ঘটে। তাহলে বুঝে নিতে হবে। কোন দলের সমর্থক বেশি। আমি আরও বেশি আনন্দিত হবো এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিল নিলে।

ব্রাজিল দলের আরেক সমর্থক মো. বাবর আলী বলেন, যারা এই সেতুটিকে ব্রাজিলের রঙে রাঙিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। ব্রাজিল দলের খেলাগুলো এই সেতুতে দেখবো বড় পর্দায় আমরা দেখবো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বলেন, সংযোগ সেতুতে আকাশি সাদা রংয়ের করানোর কারণে অনেকে মনে করছেন আমরা আর্জেন্টিনা সমর্থক। স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকদের দাবির কারনে কিছু সেতু হলুদ-সবুজ রং করার চিন্তাও করছি আমরা।

রাঙামাটি পৌরসভা পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধূরী বলেন, রাঙামাটিতে প্রায় সমান সমান আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের সমর্থক আছে। শহরের যেহেতু দুটি আকাশি সাদা রঙের সেতু আছে। যা আর্জেন্টিনা সেতু হিসেবে পরিচিত। ফুটবল বিশ^কাপ সামনে রেখে ব্রাজিল দলের সমর্থকরা আমার কাছে আসামবস্তি সেতুটি হলুদ-সবুজ রঙে রাঙিয়ে দেয়ার দাবি উঠে। তাদের দাবির কারনে আসামবস্তি সেতুটি হলুদ-সবুজ রঙে রাঙিয়ে দেয়া হয়।দাবির মুখে আসামবস্তি সেতুটি ব্রাজিলের পতাকার রংকরন করলেও আমি ব্রাজিল সমর্থক হয়ে যাইনি, আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবেই আছি, বলছেন পৌর মেয়র।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + sixteen =

Back to top button