রাঙামাটিলিড

রাঙামাটির অটোরিক্সা চালকদের দু:সহ কষ্টের দিন রাত !

সমিতির তহবিলেও নেই পর্যাপ্ত অর্থ

অরণ্য ইমতিয়াজ

দেশের একমাত্র ‘রিকশাবিহীন শহর’ খ্যাত পার্বত্য শহর রাঙামাটির একমাত্র গণ পরিবহন অটোরিক্সা। ঘর থেকে বেরোলেই অটোরিক্সাই একক ভরসা ইঁতিউতিগামি শহরবাসির। কোন কারণে অটোরিক্সা বন্ধ থাকলেই বিপন্ন হয়ে পড়েন এই শহরের মানুষ। গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে সারাদেশে রিকশা কমবেশি চললেও রাঙামাটির একমাত্র বাহন অটোরিক্সা বন্ধ থাকায় এই শহরে লকডাউন চলছে সম্ভবত দেশের সবচে কঠোরভাবেই। কিন্তু আয়ের একমাত্র মাধ্যমটি বন্ধ থাকায় কেমন আছেন এই অটোরিক্সা চালকরা, এই ভাবনা এখন শহরবাসিরও। প্রায় নিত্যকার ‘খুঁটিনাটি’ বিষয়ে যাত্রী-চালকদের মধ্যে ‘খুঁনসুটি’ লেগে থাকলেও করোনার এই বিপন্ন কঠিন সময়ে সেই চালকদের নিয়ে নিজেদের উৎকন্ঠার কথা জানালেন অনেকেই।

শহরের রিজার্ভবাজার এলাকার বাসিন্দা সংবাদকর্মী শংকর হোড় বলছেন,‘ আমরা শহরবাসি ও অটোরিক্সা চালকরা পুরোটাই পরষ্পরের উপর নির্ভরশীল। করোনার শুরুতেই লকডাউনে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ার পর থেকেই অটোরিক্সা চালকরা বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন,সেটা আমরাও বুঝেছি। এখন তো একেবারেই বন্ধ চলাচল। তারা তো খুব স্বাভাবিক কারণেই বিপন্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য কিছু করা উচিত।’

অটোরিক্সা চালক মোহাম্মদ আনোয়ার বলছেন- সারাদিন টেক্সি চালিয়ে সব খরচ বাদ দিয়ে যে ৪০০/৪৫০ টাকা পাই,সেটা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আছে এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ। এখন তো আমরা একেবারেই অসহায় পড়ে পড়েছি। তিনবেলা খাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে চালকদের। আমাদের দেখারও কেউ নেই।’

আনোয়ার আরো বলছেন, ‘অনেক চালক আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরনো পেশাতে ফিরে গেছেন। কেউবা রাজমিন্ত্রী,রংমিস্ত্রি কিংবা দৈনিক দিন মজুরের কাজ করছেন। বেঁচে থাকাই অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।’

যদিও রাঙামাটি অটোরিক্সা চালক সমিতি শহরের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন। সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৪০০। শহরে বৈধ ৬৪০ টি এবং নাম্বারহীন আরো প্রায় ৩০০ অটোরিক্সা চলাচল করে। লকডাউনের শুরুতে গত বছর সমিতির পক্ষ থেকে সদস্যদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি ওজনের এক বস্তা চাল,৫ লিটার সয়াবিন এবং নগদ এক হাজার টাকা প্রদান করা হয়, এরপর আবার ২৫ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা প্রদান করা হয়। সর্বশেষ এই বছরে একবার নগদ ১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রায় ১৪০০ সদস্যের এই খরচ সংস্থান করতে গিয়েই সংগঠনটির খরচ হয়ে গেছে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। রাঙামাটির সাবেক জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ করোনার কঠিন সময়ে গত বছর সমিতির সদস্যদের জন্য আড়াই টন খাদ্যশস্য এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

অটোরিক্সা চালক সমবায় সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদার জানিয়েছেন, আমাদের তহবিল শূণ্য হয়ে গেছে চালকদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে। এখন আমরাও অসহায়। আমাদের ব্যাংকে এক কোটি টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট এবং ৮৬ লক্ষ টাকায় কেনা একটি জায়গা ছাড়া কিছুই নাই।’

পরেশ মজুমদার জানান, আমাদের চালকদের অবস্থা খুবই অসহায় পড়েছে। আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করছে। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। স্থানীয় প্রশাসন ও বিবেকবান স্বচ্ছল মানুষের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাতে চাই,আপনাদের সুখে দু:খের সাথি এই চালক ভাইদের পাশে দাঁড়ান।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − 2 =

Back to top button