করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড রোগীর সংখ্যা

জিয়াউল জিয়া
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও করোনা সংক্রমণের হারও বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্তের হার। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার মাস্ক না পরার দায়ে মোবাইল কোর্টে ৬ জনকে ২ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি (শনিবার) ৩১ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১১ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। ১৬ জানুয়ারি (রোববার) ৫৩ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১৫ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। ১৭ জানিুয়ারি (সোমবার) ১২০ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৩৫ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। ৩৫ জনের মধ্যে রাঙামাটি সদরে ১৪, কাপ্তাই ১৩, নানিয়ারচর ১, জুরাছড়ি ২, রাজস্থলী ২, বিলাইছড়ি উপজেলায় ২ জন।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র আরও জানা যায়, রাঙামাটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ৪ হাজার ৩৫২ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৩৪ জন। আইসোলেশনে ভর্তি আছে ১ জন। এখন পর্যন্ত করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯০জন, দ্বিতীয় ডোজ ২ লাখ ৯৯হাজার ৪৯৯ জন।

এদিকে, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। ‍কিন্তু তাতেও সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে ‘অনাগ্রহ’ লক্ষ্য করা যায়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন (মিঠু) ও সনজিদা মুশতারির নেতৃত্বে দুটি ভ্রাম্যমান আদালত বের করা হয়। সোমবার মাস্ক না পরার অপরাধে ৬ জনকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন (মিঠু)।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, গত নভেম্বর মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৮ জন, ডিসেম্বর মাসে ২৭ জন। জেলা সদরের পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে অনীহা। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে মোবাইল কোর্ট করে এই সংক্রমণ কমানো সম্ভব না।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখানে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি, মধ্যম ঝুঁকি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা ও রাঙামাটি জেলা সংক্রমণের ‘রেড জোন’ অর্থাৎ উচ্চঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে ৬ জেলা এবং কম ঝুঁকি অর্থাৎ সবুজ জোনে রয়েছে দেশের ৫৪ জেলা। উচ্চঝুঁকিতে থাকা ঢাকায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =

Back to top button