ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটিতে রঙ ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া

রাঙামাটির সুবজ পাহাড়ি আকাঁবাকা পথের ভাঁজে ভাঁজে ডানা মেলেছে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া। শহরজুরে আম, জাম, সেগুনসহ নানা ফুল ফল ও পাহাড়ি বিবিধ গাছের মাঝ থেকে উঁকি দিচ্ছে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া। গ্রীষ্মের তাপদাহেও কৃষ্ণচূড়া তার রক্তিম মায়াবি রঙ ধারণ করে শোভা দিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিকে। আর কালবৈশাখির কালো ছায়াই রক্তিম পুষ্পবৃষ্টি ছড়িয়ে যাচ্ছে অবিরাম। ভোরের রাস্তায় বিছিয়ে দিয়ে যায় রক্তিম চাদর। কৃষ্ণচূড়া বসন্তের ফুল হলেও গাছটির সারা গায়ে প্রতি বছর রক্তিম রুপ ধারণ করে সাধারণত বৈশাখের মাঝ থেকে জোষ্ঠ্যের প্রথম দিকে। এই বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। রাঙামাটি শহরজুরে যে কয়টি কৃষ্ণচূড়া রয়েছে আর সবকটিই রক্তিম রুপ ধারণ করে চারপাশে শোভা ছড়িয়ে চলেছে।

শহরের প্রবেশ দ্বার মানিকছড়ি চেকপোস্টর সামনে সড়কের উভয় পাশে তিনটি করে ছয়টি কৃষ্ণচূড়া এই পর্যটন নগরীতে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রতিটি মানুষকে এই মৌসুমে তার শোভা ছড়িয়ে রক্তিম আহবান জানিয়ে যাচ্ছে অবিরত। আর বাতাসের প্রতিটি দোলাই প্রতিটি গাড়ির উপর ছড়িয়ে দিচ্ছে পুষ্প বৃষ্টি। যা শহরে প্রবেশ করা ও শহর থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় প্রতিটি মানুষের অন্তরে রক্তিম ছোঁয়া লাগিয়ে দিয়ে যায়। তেমনি ভাবে বিএডিসি ভবনের সামনে চারটি ও তার নিকটতেই আনসার ক্যাম্পে সাতটি এবং আর অপর পাশের রাস্তার ধারে দুইটি কৃষ্ণচূড়া স্থির দাড়িয়ে তার রক্তিমতার সুবাতাস যেমনি প্রবাহিত করে চলেছে তেমনি ভাবে রক্তিম পুষ্পে তার চারপাশ সবুজের মাঝে লাল করে তুলেছে।

সে সৌরভ উপভোগ করার পর তার আড়াইশত মিটারের মধ্যে আবার চোখে পড়বে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে উঁকি দেয় আরও প্রায় সাতটি কৃষ্ণচূড়া যার সবকটিতেই রক্তিমতার ছোয়া রয়েছে। সে রক্তিমতা আশপাশের সবুজকেও যেন ডাকা দিচ্ছে। তার পাশে সার্কিট হাউজের কৃষ্ণচূড়া গাছটিও চোছে পড়ার মতো পুষ্প ধারণ করেছে। আর প্রধান সড়ক ধরে আসলে চোখে পড়বে আরো ছোট ছোট বেশ কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছের দোলখাওয়া। তারপর জেলা নির্বাচন অফিসের পাশে দাড়িয়ে থাকা চারটি কৃষ্ণচূড়া যেন তার শোভা ছড়ানোর সব টুকু দিয়েই তার ডালপালা সবটুকুকেই সাজিয়ে রেখেছে। যারদিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায় রক্তিমতার ছোঁয়াই। তারই সাথে সাথে তার নিচে পাপড়ি ছড়ানো রক্তিম চাদর তো আছেই।

এই ভাবেই রাঙামাটি সরকারি কলেজের মাঠে সবুজের পাশ থেকে উঁকি দিচ্ছে চারটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। যার রেশ রয়েছে জেলা এলজিইডিঅফিসের সামনেও। আর তার কিছুদূর এলেই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পেছন থেকে একটি কৃষ্ণচূড়া উঁকি দিতে দেখা গেলেও, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশ মুখ ধরে সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে আছে আরও চারটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। যা লাল সবুজের খেলা করে চলেছে বাতাসের প্রতিটি দোলাই।

তারপর জনকোলাহলে কৃষ্ণচূড়ার কিছুটা দেখা না মিললেও ফিসারি বাঁধের প্রবেশ মুখে আর মাঝ অংশে দেখা মিলবে আরো দুটি কৃষ্ণচুড়া। তার কিছুটা পথ পারি হলে দোয়েল চত্তর থেকে দেখ মিলবে রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের সৌরভ ছড়ানো আরও দুইটি কৃষ্ণচূড়ার। তারপর তেমন একটা কৃষ্ণচূড়ার দেখা না মিললেও রাঙামাটি শিশু একাডেমির সামনে এবং পিছনের অংশে থাকা আরো তিনটি কৃষ্ণচূড়া আর রক্তিম বর্ণ ধারণ করে সৌরভ ছড়িয়ে যাচ্ছে অন্তত তিন দশকের বেশি সময় ধরে। যার সৌরভ উপভোগ করে প্রতিদিন শত শত পথচারি। তেমনি ভাবে জেলা সমাজ কল্যাণ অফিসের আঙিনায় তিনটি, রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে দুইটি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বাসভবনের সামনে একটি ও জেলা প্রশাসক বাংলো এবং পার্কে প্রায় চারটি কৃষ্ণচূড়া গাছ তার সৌরভ ছড়িয়ে যাচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কৃষ্ণচূড়ার আরও প্রায় ২০/৩০টি গাছ তারাও নিজের সৌরভ ধারণ করেছে এই মওসুমে। কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া (Delonix regia)। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জন্মায়। সৌন্দর্য্যবর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদের উচ্চতা কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাকা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। বাংলাদেশে বসন্ত কালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০টি উপপত্র বিশিষ্ট। কৃষ্ণচূড়া জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close