নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাঙামাটিতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
parbatyachattagram

বিশেষ আইনশৃংখলা সভায়

রাঙামাটিতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃংখলাবাহিনীগুলোর নিয়ন্ত্রনকারি মন্ত্রনালয় হিসেবে পরিচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপালনকারি সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার পার্বত্য খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি সফর করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটিতে পার্বত্য তিন জেলার স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করা শীর্ষ জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তা,আইনশৃংখলাবাহিনীর শীর্ষ দায়িত্বশীলদের সাথে এক বিশেষ আইনশৃংখলা সভা শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ২০০৮ সাল থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গী স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দিলেন।

বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে রাত দশটা অবধি টানা চারঘন্টার সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বারো মিনিটের বক্তব্যই জানান দিচ্ছে,পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কি ভাবছে সরকার। মন্ত্রীর সেই বক্তব্যই তুলে ধরা হলো আমাদের পাঠকদের জন্য।

শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘আপনার নিশ্চয়ই জেনেছেন, আজকের এই সভাটির মূল কারণটা কি। হঠাৎ করেই আমরা লক্ষ্য করেছি,এই তিন পার্বত্য জেলায় রক্তপাত শুরু হয়েছে। নির্বিঘ্নে নির্বিচারে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা,নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মচারিদেরও হত্যা করা হয়েছিলো এবং একটি ভীতির জায়গায় পরিণত করার জন্য কিছু কর্মকান্ড পরিচালিত করেছিলো কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠি।’

মন্তী বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে আসছি,বাংলাদেশে আমরা কোন সন্ত্রাসী,কোন জঙ্গী থাকতে দেবোনা। এই তিন জেলার বেলায়ও আমরা একইরকম দৃঢ়তার সাথে এগোতে চাই। যেকোন মূল্যে এই তিন জেলায়ও আমরা কোন সন্ত্রাসী আস্তানা করতে দিবনা। আমরা এই সন্ত্রাসীদের,জঙ্গীদের,চাঁদাবাজদের এই জায়গা থেকে বিতাড়িত করব।’

তিনি জানান, ‘ তিনজেলার তিন সংসদ সদস্য আমার সাথে কথা বলেছেন, আপনাদের মন্ত্রীও আমাকে সবসময়ই বলে আসছেন,‘ আপনার আইনশৃংখলাবাহিনীকে একটু সক্রিয় করেন, আমার এলাকায় খুনখারাপি বেড়ে যাচ্ছে।’

এই প্রেক্ষিতে আমরা আইনশৃংখলাকাজে নিয়োজিত সবাইকে নিয়ে, তিন পার্বত্য জেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি,আইনশৃংখলারক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীসহ সকল বাহিনীকে নিয়ে এই সভা করেছি,মূলত আমাদের জানার জন্য,আমাদের সবলতা বা দুর্বলতা কোথায় কোথায়, এই সন্ত্রাসীরা কোথা থেকে মদদ পায়, কিভাবে তারা নির্বিচারে মানুষ খুন করছে তারই একটি ইতিহাস শুনেছি আজ। শুনে আমরা ব্যথিত হয়েছি এবং আমি মনে করছি,এইভাবে নির্বিচারে রক্তপাত যদি চলতে থাকে,তবে এই জনপদে যে শান্তির সুবাতাস বইছিলো, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে যে শান্তিচুক্তি করার কারণে এখানে শান্তির সুবাতাস বইছিলো তা ধরে রাখা যাবেনা। সেই সুবাতাস ধরে রাখার জন্য আমরা আজকে অনেক দীর্ঘক্ষন মিটিং করলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম,আমরা কোনক্রমে এখানে খুন খারাবি,চাঁদাবাজি,অস্ত্রবাজি করতে দেবনা। আমাদের দুর্বলতাগুলোও আমরা জেনে নিয়েছি, র‌্যাব,বিজিবি,পুলিশ,আনসার বাহিনীর প্রধানরা এখানে ছিলেন,সেনাবাহিনী,গোয়েন্দাবাহিনীর দায়িত্বশীলরাও ছিলেন। আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা যারা এখানে আছেন,তারা আমাদের সবগুলো বিষয় জানিয়েছেন,আমরাও শুনেছি। এর ভিত্তিতে আমরা এ্যাকশন প্ল্যান করে এই এলাকাকে শান্তি ও নিরাপদ এলাকায় পরিণত করার কাজ করব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সন্ত্রাস ও জঙ্গীই নয়,মাদকও আমরা নিমূল করব। সারাদেশের মতো এখানেও আমরা জিরোটলারেন্স নীতিতে সন্ত্রাস,জঙ্গী ও মাদক নির্মূলে কাজ করব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা এখানে এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই,যাতে পাহাড়ী বাঙালী সবাই একসাথে চলবে,কোন সংঘাত সহিংসতা থাকবেনা। এখানকার মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয় মানুষ। তারা মিলে মিশে চলছে,সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তির্ণ সীমান্ত অরক্ষিত,এই সীমান্ত কিভাবে সুরক্ষার আওতায় আনা যায় এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা এখানে পাশ্ববর্তী যে দুটি দেশের সাথে বর্ডার আছে,সেখানে আমাদের বিজিবিকে আরো শক্তিশালী করছি,বিজিবির জন্য বর্ডার রোডের কাজ শুরু হয়েছে,সারাদেশের সমস্ত বর্ডার রোড শেষ করব। শুধু তিন জেলায় নয়, সারাদেশেই কাজ শুরু হয়েছে বর্ডার রোডের। বর্ডার রোড হলেই তিন পার্বত্য জেলায় অনতিক্রম্য এলাকাসমূহে, যেখানে তাৎক্ষনিক আমাদের আইনশৃংখলাবাহিনী যেতে পারেনা, সেখানে তাৎক্ষনিক যদি আমাদের আইনশৃংখলাবাহিনী যেতে পারে, তবে সন্ত্রাসের হোলিখেলা,অস্ত্রবাজি,চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এই জায়গায় শান্তির জন্য যা যা করা দরকার করব। লোকবল বাড়াচ্ছি, বর্ডার রোড করছি, জলযান ও মোটরভেহিকেল বাড়াব, অন্যান্য যানবাহনও বাড়াব, যেনো নিরাপত্তাবাহিনী যেকোন ঘটনা ঘটলেই সাথে সাথেই যেতে পারে। আমরা এটাও বলেছি, আমরা হেলিকপ্টার কিনেছি, পুলিশ এবং বিজিবিকে হেলিপ্টার কিনে দিব। পুলিশ ও বিজিবি যেনো তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যেতে পারে সেটা আমরা নিশ্চিত করছি। কাজেই আমরা আমাদের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আমরা বলতে চাই, দুর্গম বলে আর কোন এলাকা থাকবে না। সবখানেই আমরা সড়ক,যোগাযোগ ও হেলিকপ্টার যোগাযোগ নিশ্চিত করব। যাতে করে এই জায়গায় শান্তি ফিরে আসে।’

 

‘আমরা এই জায়গায় শান্তির জন্য যা যা করা দরকার করব। লোকবল বাড়াচ্ছি, বর্ডার রোড করছি, জলযান ও মোটরভেহিকেল বাড়াব, অন্যান্য যানবাহনও বাড়াব, যেনো নিরাপত্তাবাহিনী যেকোন ঘটনা ঘটলেই সাথে সাথেই যেতে পারে। আমরা এটাও বলেছি, আমরা হেলিকপ্টার কিনেছি, পুলিশ এবং বিজিবিকে হেলিপ্টার কিনে দিব। পুলিশ ও বিজিবি যেনো তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যেতে পারে সেটা আমরা নিশ্চিত করছি।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোন অভিযান চলবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত আছেই। আমি আবারো বলছি, এই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করার সবই করব আমরা। যেকোন ভাবেই শান্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসব।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রতি নিজের ও তার সরকারের পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তিচুক্তি অনুযায়ী, শান্তিচুক্তিকে অনুসরণ করেই আমরা শান্তি নিয়ে আসব। শান্তিচুক্তির শর্ত অনুসারেই এখান থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে,কিন্তু প্রয়োজনবোধে শান্তির প্রয়োজনে একই জায়গায় শান্তির জন্য পুলিশ বা বিজিবি মোতায়েন থাকতে পারে । আমরা যখনই যা প্রয়োজন হবে করব। ক্যাম্প প্রত্যাহার হয়েছে বলে আপনার ভাববেন না যে নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। প্রয়োজনবোধে সেই জায়গায় একটির জায়গায় দুটি পুলিশ ক্যাম্প করে দেবো,সেখানে না হলে তার পাশেই। সেখানে প্রয়োজনবোধে বিজিবি,র‌্যাব,আনসার কাজ করবে।’

‘শান্তিচুক্তি অনুযায়ী, শান্তিচুক্তিকে অনুসরণ করেই আমরা শান্তি নিয়ে আসব। শান্তিচুক্তির শর্ত অনুসারেই এখান থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে,কিন্তু প্রয়োজনবোধে শান্তির প্রয়োজনে একই জায়গায় শান্তির জন্য পুলিশ বা বিজিবি মোতায়েন থাকতে পারে । আমরা যখনই যা প্রয়োজন হবে করব। ক্যাম্প প্রত্যাহার হয়েছে বলে আপনার ভাববেন না যে নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। প্রয়োজনবোধে সেই জায়গায় একটির জায়গায় দুটি পুলিশ ক্যাম্প করে দেবো,সেখানে না হলে তার পাশেই। সেখানে প্রয়োজনবোধে বিজিবি,র‌্যাব,আনসার কাজ করবে।’

পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পনের কোন সুযোগ দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করব। তিনি সুন্দরবন মুক্ত করেছেন ও উত্তরাঞ্চলের চরমপন্থীরা অস্ত্র সমর্পন করে সারেন্ডার করেছে, এরকম যদি তারাও (পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা) নিজেদের ভুল স্বীকার করে সারেন্ডার করতে চান,তবে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে সেই ঘোষণাও দিয়ে দিব।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চুরির মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেলেন বাদী !

রাঙামাটিতে মিথ্যা চুরির মামলায় বাদীর কারাদ- দিয়েছেন আদালত। জেলার কাউখালী থানার আর্দশগ্রাম নিবাসী আবুল কাসেমের …

Leave a Reply