নীড় পাতা / পার্বত্য পুরাণ / রাঙামাটিতে বাংলাদেশ ভারত সাংস্কৃতিক উৎসব ‘দ্বিবন্ধন’

রাঙামাটিতে বাংলাদেশ ভারত সাংস্কৃতিক উৎসব ‘দ্বিবন্ধন’

সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়ের এই শুভক্ষণে দুই বাংলা এক হয়ে একই মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার প্রয়াসে প্রথমবারের মতো নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ভারত সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৮ “দ্বিবন্ধন”

কাঁটাতারের বেড়া বাঙালী সংস্কৃতিকে দুটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ডে বিভক্ত করলেও দুই বাংলার নাড়ির বন্ধন অবিচ্ছেদ্য। দেশ বিভাগের পর থেকেই বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে এক বন্ধুর পথ পরিক্রমণ করে চলেছে। কিন্তু অভিন্নহৃদয় দুই বাংলা শত অভাবে সংকটে তাদের গৌরবময় সংস্কৃতির অস্তিত্বকে কখনোই বিপন্ন হতে দেয়নি।
অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও শুধু প্রবল ইচ্ছাশক্তি,সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ আর মমত্ববোধ এই মহাযজ্ঞ সাধনে বোধকরি আয়োজকদের প্রেরনা যুগিয়েছে।
রাঙামাটীবাসীকে এমন একটি উঁচু মার্গের অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য আয়োজকদের কুর্নিশ জানাই।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাঙামাটির কৃতিসন্তান রাঙ্গামাটি পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র জনাব আকবর হোসেন চৌধুরী স্বাধীনতার মাসে স্বাধীনতার রূপকার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করেন এবং এই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উভয় বাংলার হৃদয়ের সহজাত সংগ্রামী মনোভাব তার সুদীর্ঘ কালের ঐতিহ্যময় ধারাটিকে নূতন যুগের নূতন পটভূমিতে সাফল্যের সাথে প্রবহমান রাখতে সক্ষম হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কবি ও গীতিকার হাসান মাহমুদ মনজু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তৎকালীন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারতীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে সকল যোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও শহীদ যোদ্ধাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমীর শিশুশিল্পীরা এবং পশ্চিম বাংলা ভারত থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ তাঁদের অপূর্ব নৃত্যকলা সঙ্গীত এবং কবিতায় মোহাবিষ্ট করে রাখেন কানায় কানায় পরিপূর্ণ রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মিলনায়তন। ভারত থেকে আগত শিল্পীরা হলেন,শুভদীপ সেন,অমব্রীজ সরকার,মানসী চক্রবর্তী,শাওলী দত্ত,শর্মিলা ঘোষ,সুমনা বায়েন, ত্রয়ীশ্রী অধিকারী,কবি বেণু বিনোদ সাহু,কবি প্রভাস চন্দ্র শেঠ।

আবহমানকাল ধরে বাঙালি জাতি তার স্বপ্ন ও সাধনা, তার ভাবনা বলয়ের গৌরব ও উৎকর্ষতা বিন্দু বিন্দু সফল করেই গড়ে তুলেছে একটি উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ধারা। শিক্ষা ও সভ্যতার আলোকতীর্থে স্নাত হয়ে তা জন্ম দিয়েছে মার্জিত ও পরিশীলিত জীবনবোধ।

আরো দেখুন

পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১

বান্দরবানে একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার রাজু (৩৪) …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seventeen + eighteen =