ব্রেকিংরাঙামাটি

রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০

রাঙামাটি শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধ্বসে গতরাতে এবং আজ এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সকালে শহরের যুব উন্নয়ন,ভেদভেদী,শিমুলতলি,রাঙাপানিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড় ধ্বসের খবর আসতে থাকে। সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ১১ জনের মৃতদেহ এসেছে। এরা সবাই বিভিন্নস্থানে বাড়ীর উপর পাহাড়ধ্বসের ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতরা হলেন- রুমা আক্তার,নুরিয়া আক্তার,হাজেরা বেগম,সোনালি চাকমা,অমিত চাকমা,আইয়ুশ মল্লিক,লিটন মল্লিক, চুমকি দাশ এবং আরো তিনজনের নাম তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি।

এই সময়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় মাটিচাপা পড়ে উনু চিং মারমা এবং নিকি মারমা মারমা নামের দুইজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাইখালি ইউপি চেয়ারম্যান ছায়ামং মারমা। কাপ্তাই উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় গাছ চাপা পড়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং ইকবাল নামের এক ব্যক্তি কর্ণফুলি নদীতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

একই সময় রাঙামাটি শহরের মানিকছড়িতে সেনাক্যাম্পের পাশে পাহাড় ধ্বসে দুইজন সেনাকর্মকর্তা ও ২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৫ সেনা সদস্য।

কাউখালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম জানিয়েছেন, সেখানে কাশখালিতে একই পরিবারের ৩ জন, ঘিলাছড়িতে স্বামী ও স্ত্রী, বেতবুনিয়ায় ৪ জন, সুগারমিল আদর্শগ্রামে ১ জন,ঘাগড়ায় ২ জন সহ মোট ১২ জন মারা গেছেন।

এদিকে প্রবল বর্ষনে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে মাটিচাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ। ফায়ারসার্ভিসের রাঙামাটি টীমকে সহযোগিতা করতে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকেও বাড়তি ইউনিট আসছে বলে জানিয়েছেন ফায়ারসার্ভিস কর্মকর্তারা। রাঙামাটি শহরে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ রশীদ জানিয়েছেন, এটা একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। অনেক স্থানেই এখনো মানুষ মাটি চাপা পড়ে আছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

  1. পাহাড়ের উপর গজব নেমে এসেছে। ১- কিছুদিন আগে ঘুর্নিঝড় মোরায় গাছ ভেংগে ২ জন নিহত। ২- রাঙ্গামাটিতে স্মরনকালের সবচেয়ে ভয়াবহ টানা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। ৩- ঘুর্নিঝড়ের চেয়ে বেশি বেগে বাতাস। (যা রাঙ্গামটিতে প্রায় কখনোই হত না।) ৪- গতকাল ও আজ পাহাড়ে টানা বর্ষনে মোট প্রায় ১০০+ জন নিহত। যার মধ্যে আনুমানিক ২০+ আর্মি সদস্য।(ফোনে প্রাপ্ত তথ্য) , এই গুলো শর্টকাটে লিখে দিলাম। আমার এলাকা ঘাগড়ায়। যেখানে বাচ্চারা বন্যার কথা শুধু বইয়ে পড়েছে। আজ ঘাগড়ার অর্ধেক পানির নিছে। ভাবতে পারেন? পাহাড়ে বন্যা? অবাক হচ্ছেন? আরো হবেন। পাহাড়ের এই অবস্থার একমাত্র কারন পার্বত্যবাসী নিজেই। নিজের পায়ে কিভাবে কুড়াল মারতে হয় তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। , আগামী কয়েকদিন পর রাঙ্গামাটির আবহাওয়া জলবায়ুর এমন পরিবর্তনের কারন হয়তো গবেষনার বিষয়বস্তু হবে। আজ তার কারন ও ফলাফল বলে দিচ্ছি। , বাংলাদেশের বনভূমি এখন ৯.৭১%, সরকারি হিসেবে ১১.০৫%। (যেখানে একটা দেশের গড় প্রয়োজন ১৭ ভাগ বনভূমি।) এর এক বিশাল অংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাংগামাটি ৩টির মধ্যে একটি পার্বত্য জেলা। রাঙ্গামাটি পুরোটাই বেঁচে আছে তার ভূপ্রকৃতির জন্য। রাশি রাশি গাছ আর প্রকৃতির ঢেলে সাজনো সবুজ রঙের চাদরে ঢাকা বাংলার সুইজারল্যান্ড। কিন্তু আসলে কি তাই? , বিগত কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে কেটে পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক গাছ হাওয়া হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে এই নিয়ে একটা পোষ্ট দিতে চেয়েছিলাম। এক বড় ভাই বাধ সাধলো। কারন স্টাটাস এখন নেতাদের চক্ষুশূল হওয়ার একমাত্র উপায়। আজ বলছি। । যেই পাহাড়ে বাস করে পাহাড়িরা গর্বের সাথে বলে আমরা পাহাড়ি। যেই পাহাড়ের জুম চাষ, তাদের জুম্মজাতী বলে পরিচয় দিয়েছে সেই পাহাড়ের বুকে ছুরি চালাতে তারা একবারো ভাবে নাই। একের পর এক বাগান সাফ করে ফেলেছে অর্থের মোহে পড়ে। সমতলের মানুষের যোগসাজসে সমতলের ব্রিক ফিল্ডের চাহিদার টানে নিজের মাতৃভুমি থেকে অনবরত গাছ কেটে পার্বত্যবাসীরাই তুলে দিয়েছে সমতল বাসীর হাতে। বিনিময়ে পেলো পাহাড় চাপায় মৃত্যু। না, তারা মরছে না। যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে। মরছে তারাই, যারা এসবের কিছুই জানে না। বিশ্বাস করতে পারবেন না, একরাতে পুরা একটা পাহাড় মরুভুমি হতে দেখেছি। সরকার ২০২২ সালের আগে গাছ কাটা নিষিদ্ধ করেছিলো। তারপরও বন্ধ হয়নি ধ্বংসযজ্ঞ। গাছ কাটার ফলে পাহাড়ের মাটির দৃঢ়তা শক্তি কমে গেছে। সাথে আবহাওয়ার ভারসাম্য হয়েছে নষ্ট। পাহাড়ের স্বাভাবিক CO2 এর মাত্রা বেড়ে পাহাড় হয়েছে উত্তপ্ত। ফলে বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে হচ্ছে পাহাড়ধ্বস। ধ্বসের মাটি নদী খাল ভরাট করে পানি আটকে বন্যার সৃষ্টি করেছে। ফলে মাটি আরো নরম হয়েছে। জনজীবন হয়েছে দুর্বিষহ। পাহাড়ে নেমে এসেছে এক ভয়ংকর তাণ্ডবলীলা। , সময় এখনো আছে পার্বত্যবাসী। পাহাড় আমাদের মা। পাহাড় বাঁচাতে হলে তার গাছ বাঁচাতে হবে। এখনো অনেক গাছ রয়ে গেছে। দয়া করে আর কাটবেন না। আপনি নেতা, আপনি কর্মী, দিনশেষে আপনি একজন পাহাড়ি। আপনার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অবশ্যই পরিচয়দানকারী পাহাড়কে বাঁচাতে হবে। একবার ভাবুন। পাহাড়ই যদি না থাকে তাহলে পাহাড়ি জনগন যাবে কোথায়। জুম হবে কোথায়? সমতলের ওরা চুষে নিবে। কিন্তু পাহাড় কেটে আপনার লাশ বের করতেও আসবে না। আপনাকেই ঠিক করতে হবে আপনি কিভাবে বাঁচবেন। সবাই মিলে একসাথে রক্ষা করি প্রানের পাহাড়। জাহান্নামে যাক টাকার রাজত্ব। জয় আমাদের হবেই। (বিঃ দ্রঃ এখানে পাহাড়ি/পার্বত্যবাসী বলতে পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষ্কেই বুঝিয়েছি। এখানে কোন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় কে আলাদা করে বুঝানো হয় নি।)

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: