ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রাঙামাটিতে পর্যটন কর্মশালায় সমস্যা আর আশাবাদের আলোচনা

পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে আপার সম্ভাবনা থাকারও পরও দীর্ঘদিন পর্যটন খাতে পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন না হওয়ার কারনে বাকী দুই জেলা থেকে বর্তমানে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে রাঙামাটির পর্যটন শিল্প। এই শিল্পের সাথে জড়িদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পর্যটন সচেনতামুলক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ট্যুরিজম বোর্ডের সহকারী পরিচালক ফজলে করিম নুর সহ হোটেল মালিক সমিতি, রাঙামাটি বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি সভাপতিসহ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, রাঙামাটিকে পর্যটন শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। রাঙামাটিতে উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এক হয়ে কাজ করলে পুরোন সুনাম আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তরুন সাংবাদিক জিয়াউল হক বলেন, পর্যটকরা সারাদিন লেকে ঘোরার পর সন্ধ্যায় অনেকটা অলস হোটেল রুমে সময় কাটায়। পর্যটকদের রাতের বিনোদনের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই শহরে। যদি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি ইনিস্টিউটের মাধ্যমে সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে প্রস্তাব রাখা হয়। সাথে সাথে পর্যটকবাহী পিকনিক বাসে যেভাবে মাইক বাজানো হয় সেই বিষয়ে ভেদভেদি থেকে একটি বন্ধ করার কোন ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা এবং রাস্তার সেখানে সেখানে বাসগুলো না দাড়িয়ে নির্ধারিত বাস টার্মিনালে রাখার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহন করা হলে কিছুটা শৃঙ্খল আসবে বলে মত প্রকাশ করেন।

তরুন পর্যটন উদ্যোক্তা গর্বার সত্বাধিকারি বাদশা ফয়সাল বলেন, ‘পর্যটকরা লেকে ঘোরার পর শুভলং গিয়ে ঝর্ণার পানি না দেখে হতাশা প্রকাশ করেন । বোট চালকদের প্রশিক্ষন দিতে হবে এবং কিভাবে পর্যটকদের সাথে ব্যবহার করতে হবে তা বুঝাতে হবে। আর শুভলং ঝর্ণার পানি কিভাবে সারাবছর পাওয়া যায় সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, শুভলং ঝর্ণার উপর কিছু পরিবার বসবাস করে তাদের পানির চাহিদা মিটানোর জন্য পানি সংগ্রহ করা। সেগুন গাছের কারনে পানির সল্পতা লক্ষ করা গেছে।

লঞ্চ, বাস ও হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘পর্যটন কর্পোরেশনে ঝুলন্ত সেতুটি বর্ষা মৌসুমে ডুবে থাকে। সেটিকে আরো একটু উপরে তোলা প্রয়োজন। রাস্তাগুলো আরো প্রশস্ত করা দরকার। পর্যটকদের বাসগুলো সেখানে সেখানে না রেখে নির্ধারিত স্থানে রাখার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।

পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপন সৃজন বিকাশ বড়–য়া বলেন, ‘পর্যটকরা পর্যটনে যেতে চাইলে তবলছড়ি থেকে তাকে বাড়তি টাকা দিয়ে টেক্সি রিজার্ভ করে যেতে হয়। এই সড়কটিকে লোকাল করার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, পর্যটকদের কাছে রাঙামাটিকে আর্কষণীয় করে তুলতে সরকারি বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেই অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সনে পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙ্গে গেলেও সেগুলো আগের জায়গা ফিরিয়ে নিতে কোন উদ্যোগ নাই, রাঙামাটি সড়কে গাড়ী নিয়ে চলাচল করতে পর্যটকরা ভয় পায়। কর্মশালায় বক্তারা পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পর্যটন কর্পোরেশনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহবান জানান।

ট্যুরিজম বোর্ডের সহকারী পরিচালক ফজলে করিম নুর বলেন, স্থানীয় সমস্যাগুলো স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে হবে। আজকের সকল বিষয়গুলো লিখিত আকারে ট্যুরিজম বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে।

কর্মশালায় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাঙামাটি থেকে সরাসরি কক্সবাজার বাস সার্ভিস চালু, অক্সিজেন বাস কাউন্টারে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থাসহ যাত্রীর সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের সাথে যোগযোগ করা। পর্যটকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে রির্জাভ বাজার পার্কের পাশে অবস্থিত টয়লেটটি ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়ার ব্যাপারেও কথা হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশ ট্যুারিজম বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button