ব্রেকিংরাঙামাটি

রাঙামাটিতে আশ্রয়ণের ঘর পাবে ৭০৬ পরিবার

রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাবে ৭০৬টি পরিবার। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫৮টি ও দ্বিতীয় ধাপে ২৬৮ ঘর নিমার্ণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের আয়োজনে ‘প্রধানমন্ত্রীর দশটি বিশেষ উদ্যোগ ও তথ্য অধিকার আইন’ বিষয়ে অংশীজন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এতথ্য তুলে ধরেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শিল্পী রানী রায়।

সভায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মীর হোসেন আহসানুল কবীরে সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মামুন। সভায় শিল্পী রানী রায় বলেন, ১৯৯৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রধানমন্ত্রী যখন কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান তখন দেখেন প্রচুর লোক গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তিনি তখন তাদের ঘর নিমার্ণ করে দিতে প্রকল্প হাতে নেন। আর সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৫৯টি ঘর নিমার্ণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রাঙামাটিতে ৭০৬টি ঘর নির্মাণ করা হবে রাঙামাটিতে। আগার্মী ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের আওয়ায় সারা দেশের সাথে রাঙামাটির ২৬৮টি ঘর উদ্বোধন করবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৬০টি, কাপ্তাইয়ে ৩০টি, লংগদুতে ৩৪টি, বাঘাইছড়িতে ৩৫টি, নানিয়াচরে ২৮টি, বরকলে ১৯টি, রাজস্থলিতে ৬২টি ঘর।

তিনি আরও জানালেন, এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে শুধু গৃহহীনদের ঘর নিমার্ণ করা হবে না। এর মাধ্যমে এই গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আয়বদ্ধক করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগাতে তাদের ঋণ প্রদান করা হবে যাতে করে তারা উপার্জন করে তারা খেতে পারে আর এটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য।

কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য:
কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে রাঙামাটির ডেপুটি সির্ভিল সার্জন ডা. নিতীশ চাকমা জানান, দেশে প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। আর পার্বত্য অঞ্চলে এই কার্যক্রমকে বেগবান করতে প্রতি ইউনিয়নে চারটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাঙামাটিতে ১০৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে আর নতুন করে স্থাপনের জন্য কার্যক্রম চালমান রয়েছে ২৬টির। আমাদের পরিকল্পনা আছে ২শ’টি কমিউনিটি ক্লিনিক রাঙামাটিতে স্থাপনের। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩২প্রকারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম প্রদান করা হয়ে থাকে।

শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি:
রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নতুন বছরে রাঙামাটির ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে বই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাঙামাটির কোন বিদ্যালয়ে যদি শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার কারণে বই না দেয় তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন আমরা ব্যবস্থা নিব। বিদ্যালয়গুলো কাউকে ছাড়পত্র দিলে তাকে বই দেয়া হয়েছে না হয়নি সেটা লিখেদিবেন ছাড়পত্রে। সে ছাত্র যদি বই না পাই তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠান বই দিবে আর পেলে দিবে না। কিন্তু ভর্তি হয়নি এই অজুহাতে কাউকে বই দেয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি:
রাঙামাটি জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২৩টি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। যার মধ্যে রাঙামাটিতে আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় আমরা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করছি ১২ কোটি টাকা। ১৪৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিমাসে ১২ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ২৩ হাজার ৭০১ জনকে বয়স্ক ভাতা, ১৩ হাজার ৭৯৪ জনকে বিধবা ভাতা, ৭ হাজার ২০৯ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে রাঙামাটিতে। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মাধ্যমে আমরা ১০ হাজার ৬০জন প্রতিবন্ধীকে রেজিষ্ট্রেশন করেছি। আমরা চেষ্টা করছি, তাদের সবাইকে ভাতার আওতায় নিয়ে আসতে।

নারীর ক্ষমতায়ন:
রাঙামাটি জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোসনে আরা বেগম জানান, রাঙামাটিতে এবছর ৩৮টি সমিতিকে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা বার্ষিক এককালীন অনুদান প্রদান করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ‘জয়ীতা সম্মাননা’ দেয়া হচ্ছে প্রতিবছর। ৭ হাজার ১ শতজনকে মাতৃকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও নারীদের ক্ষমতায়নে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প: রাঙামাটিতে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কর্মকর্তা মিথুন চক্রবর্তী জানান, জেলায় এখনো পর্যন্ত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওয়ায় ৫৩ হাজার ৭২ জন উপকার ভোগী হয়েছেন।

এছাড়াও সভায় ডিজিটাল বাংলাদেশ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, পরিবেশ সুরক্ষা, বিনিয়োগ বিকাশসহ তথ্য অধিকারবিষয়ক বিষয়ের ওপর আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক কৃপাময় চাকমা, আঞ্চলিক তথ্য অফিস চট্টগ্রামের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক নিউটন, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে প্রমুখ।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button