অরণ্যসুন্দরীব্রেকিংলিড

রাইন্যা টুগুন: প্রকৃতির অভয়ারন্যে স্বপ্নের চাষাবাদ…..

জুমের ধান কাটা হয়ে গেলে ওই জায়গাকে বলা হয় রাইন্যা, আর টুগুন মানে চূড়া। রাইন্যা টুগুন শব্দের সার্বিক অর্থ দাড়ায় জুমের চূড়া।
জীব এবং জন বৈচিত্র্যকে ভালোবেসেই, সাথে রেখেই যে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায় তার আদর্শ রূপ রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট। ছোট বড় বেশকিছু টিলা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। টিলা গুলোর নামও চমৎকার। ফুরোমন,ফালিট্যাংগা চুগ,কেওক্রাডং,চিম্বুক । পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিচিত উঁচু পাহাড়ের নামে নামকরণ করা হয়েছে এইসব টিলার। এক এক টিলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা, কোনটার তীর ঘেঁষে রয়েছে বোট ঘাট, কোনটা নির্ধারিত হয়ে আছে হেলিপ্যাডের জন্য আর কোনটার চূড়ায় বসবে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা। আর প্রত্যেক টিলা জুড়ে রয়েছে গাছ গাছালির রাজত্ব। প্রায় ২০০ প্রজাতীর বনজ,ফলজ,ঔষধি এবং ফুলের গাছপালা রয়েছে এই রিসোর্ট জুড়ে।

রিসোর্টে পা রাখতেই ফুলের গালিচা আর সাথে নাম জানা না জানা পাখির কিচিরমিচির স্বাগত জানাবে আপনাকে। কাছেই কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান হওয়াতে অনেক দূর্লভ পাখির আনাগোনা দেখা যায় হরহামেশাই। দেখা মেলে বন মোরগেরও। চারপাশে কাপ্তাই হ্রদ বেষ্টিত এই রিসোর্টের মূলমন্ত্রই হচ্ছে পরিবেশ এবং প্রানী বৈচিত্র এবং জন জীবনকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সার্বিকভাবে জীব জনবৈচিত্র্য সংরক্ষন।
কামিলাছড়ি এলাকার প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই রিসোর্টটি শহর রাঙামাটি থেকে নৌপথে দূরত্ব সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আর সড়কপথে রাঙামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কের পাশেই অর্ধকিলো ভেতরে। কাপ্তাই বাঁধ এলাকা থেকে দূরত্ব মাত্র ৩.৫০কিমি।
কর্পোরেট মিটিং,বার্ষিক বনভোজন অথবা নির্জনে একান্তে প্রকৃতির কোলে নিজেকে খুঁজে পেতে রাইন্যা টুগুনের জুড়ি নেই।
কোন টিলায় চড়তে হবে কাঁচা রাস্তা দিয়েই আবার কোন টিলায় উঠতে থাকছে ছোট ছোট ইটের সিঁড়ি। বাঁশের কুঁড়েঘরে বাঁশের আসবাবে পারবেন গা এলিয়ে দিতেও। লেকের কোল ঘেষে দোল খাবেন কাঠের দোলনায়। লেকের শান্ত জল স্নিগ্ধ বাতাসে মুগ্ধ আপনার ঘোর ভাঙাবে নাম জানা না জানা কোন রঙিন ডানার সুরেলা কন্ঠী পাখি।

ঠিক মধ্যবিন্দুতে রয়েছে রিসোর্টের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট। নাম ভু ইম। খিয়াং শব্দ ‘ভু ইম’র অর্থ রান্নাঘর। পেয়ে যাবেন দেশি বিদেশী স্থানীয় সব খাবার। তবে অর্ডার করে যেতে হবে আগে। আর বনভোজনে যেতে চাইলে আপনি চাইলে ওখানে যেয়ে রান্না করতে পারবেন, তবে খুব কঠোর ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে প্যাকেটজাত খাবারের উপর। শুধুমাত্র পরিবেশের সুন্দরতা রক্ষার জন্যই। এমনটাই জানা গেলো রিসোর্টটির স্বত্বাধিকারী ললিত সি চাকমার সাথে কথা বলে। স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থ্যা সাস’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা এই রিসোর্টটি নিয়ে কথা হচ্ছিলো সংস্থার প্রধান ললিত সি চাকমার সাথে। পাহাড়ে পর্যটন সম্ভাবনা যুগোপযোগী ভাবনা নিয়ে ভাবতে গেলে যে নামটি আসবে সবার আগে। কথা বলেই জানা গেলো পাহাড় পরিবেশ প্রকৃতি নিয়ে ভাবনার কথা,স্বপ্নের কথা। জানা গেলো রাইন্যা টুগুন নিয়ে পরিকল্পনার কথা। রয়েছে সীমাবদ্ধতাও। আর্থিক সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে ২০০৯ সালে বোনা এই স্বপ্নের বীজ এগুচ্ছে অনেকটা থেমে থেমেই। সরকারী এবং বেসরকারী অথবা ব্যাক্তি মালিকানার সাহায্য সহযোগিতায় হয়তো এই পাহাড়েই গড়ে উঠতে পারে একটি অন্যতম ইকো ট্যুরিজম ক্ষেত্র। উন্নয়নের দাঁড় খুলতে পারে স্থানীয় জনগণেরও। হাল ছাড়ার পাত্র নন ললিত সি চাকমা। কারণ তিনি স্বপ্নভূক মানুষ। রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট তার স্বপ্নের চারণভূমি। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই রিসোর্ট থেকে। পাহাড়ের পর্যটন শিল্প নিয়ে নিরেট ভাবে ভাবতে পারা একজন স্বপ্নভূক মানুষের সৃষ্টিশীলতা স্পষ্টই দৃশ্যমান সেখানে……..

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button