করোনাভাইরাস আপডেটপাহাড়ের অর্থনীতিব্রেকিংরাঙামাটিলিড

রমজানের প্রভাব রাঙামাটির বাজারে

ধারণা করা হয়েছিলো, অন্যান্য বছরের মতো এবার অন্তত করোনাকেন্দ্রিক মৃত্যুভয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়তি নেবেন না বিক্রেতারা। কিন্তু আশায় গুড়েবালি। রমজান শুরুর একদিন আগে রাঙামাটির বাজারের যে চিত্র দেখা গেলো,তা বেশ হতাশারই।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে করোনা’র সাধারণ ছুটিতে সবজির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মুদি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম উর্ধমুখি। পবিত্র রমজানে মুড়ির চাহিদা বেশি থাকায় সেটাকে কেন্দ্র করে মুড়ির দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

রাঙামাটির সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ টাকা দরে। সাধারণ ছুটি শুরুর আগ মুহুর্তে ১৮ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করা হলেও সে সময় এক দফায় আলু বিক্রি করা হয় ২৫ টাকা কেজি দরে। তারপর আবার সেই আলুর দাম কমেছিলো কেজিতে ২-৩ টাকা। এখন আবার ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রমজান মাসের আগে থেকে অন্য বছর গুলোতে যে বেগুন শত টাকার উপরে বিক্রি হতো, এই বছর তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে। তেমনি ভাবে টমেটোর দামও কম, প্রতিকেজি ২৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেড়শ প্রতিকেজি ৩০টাকা, শসা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পুঁইশাক প্রতিকেজি ২০টাকা, লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫ টাকা, বরবটি প্রতিকেজি ৫০টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ২৫টাকা, কড়লা প্রতি কেজি ২৫টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সতেজ থাকা না থাকার উপর এইসব সবজির দাম ৪-৫ টাকা উঠা নামা করছে। তেমনি ভাবে বাজার ভেদেও কয়েকটাকা কম বেশি দামে পণ্যগুলো বেচাকেনা হচ্ছে।

অপরদিকে হঠাৎ উর্ধমুখি হয়ে উঠেছে মুদি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ৬০ টাকার মুড়ি লাফিয়ে লাফিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। তবে অভিযোগ আছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাজার মনিটরিং করতে আসলে মুড়ির দাম কমে, আবার চলে গেলে বেড়ে যায়। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ৪৫টাকা কেজি দরে ডেকে ডেকে বিক্রি হচ্ছিল সে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে।

প্রতি কেজি চিকন মসুর ডাল ১২০-১৩০টাকা, মোটা মসুর ৯০-১০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মটর ৪৬-৪৭টাকায়, চনা ৭৫-৮০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে, চিনি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০টাকায়, সয়াবিন তৈল বিক্রি হচ্ছে প্রতিলিটার ১০৫-১০৭টাকায় ব্র্যান্ড ভেদে।
সয়াবিন তৈল ছাড়া বাকি পণ্যগুলো গত সপ্তাহের তুলনায় ৫-১০টাকা বা কোন কোন ক্ষেত্রে আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যেসব দোকান চট্টগ্রাম থেকে পণ্য এনে রাঙামাটিতে খুচরা দোকানিদের কাছে ও নিজেরা বিক্রি করে তাদের কাছে পণ্যের দাম কিছুটা কম থাকতেও, ক্ষুদে দোকানীদের কাছে এইসব পণ্যের দাম কিছুটা বেশি।

চালের বাজার ও মুদি দোকানের মতো উর্ধমুখি, ৫০কেজি প্রতিবস্তা ইরি চাল(মোটা চাল) ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা দেড় থেকে দুই মাস আগে ৫-৬শত টাকা কম দামে বিক্রি হতো। মানভেদে ২৩শত টাকা থেকে ২৫শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সিদ্ধ প্রতিবস্তা ১৭শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এগুলোর দামও মাস দেড়েকের ব্যবধানে বেড়েছে ২-৩ শত টাকা করে।

যেখানে মুদি দোকানের পণ্য উর্ধমুখি সেখানে মাছের দাম নিম্নমুখি। বাজারে আগে যে কেঁচকি ২৫০-২৮০টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন তা ক্ষেত্র বিশেষে ১শত থেকে দেড়শত টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি ভাবে চাপিলাও পাওয়া যাচ্ছে ৮০থেকে ১৫০টাকা কেজিতে। যে পাবদা মাছ ৮শত থেকে হাজার টাকায় কেজিতে বিক্রি হতো সে পাবদা ২৮০-৩০০টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে বাজারে প্রায় মাছের দামই নিম্নমুখি।
আবার ব্রয়লার মুরগীর দাম ৯০-১২০ টাকার মধ্যে উঠা নামা করছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা সুমন জানান, কয়েকদিন ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও অন্যবছর গুলোর রমজান মাসের তুলনায় এখনো কম। তেমনি ভাবে সবজির বাজারও ক্রেতাবান্ধব। মাছের দামও কম। দাম যাতে আর না বাড়ে সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি আশা করছি।

আরেক ক্রেতা মো: ইসমাইল জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু অন্যপণ্যগুলোর দামও স্বাভাবিক আছে বলা যাবেনা,উর্ধমুখিই। বিশেষ করে মুড়ির দামটাই বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

তবে আশাবাদের কথা শোনালেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর(এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ। তিনি বললেন, করোনার কারণেও যেনো কেউ বাড়তি দাম না নিতে পারে,সেইজন্য আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। এখন যদি কেউ পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি দাম নেয়ার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =

Back to top button