বান্দরবানলিড

রথ বিসর্জনে বান্দরবানে শেষ হলো প্রবারণা উৎসব

বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানে মধ্যরাতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। জেলা জুড়ে উদযাপিত হলো এই উৎসব। মারমা তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরসহ পূণ্যার্থীরা গান-বাজনা আর বাহারি পোশাকে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় নেমে এসে এ উৎসবকে বরণ করে নেয়। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুইদিন ধরে বান্দরবানের বিভিন্ন ক্যাংয়ে দিনব্যাপী ছোয়াইং দান (খাবারপ্রদান), সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও রাতে মারমা পল্ল¬ীতে ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির উৎসবে মেতে উঠেছিলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মধ্যরাতে সাংগু নদীতে ময়ূরসদৃশ রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই প্রবারণা উৎসব। এসময় ‘ছংরারাসিহ্ওয়াগ্যোয়াইলাহ্রাথা পোয়েঃলাগাইমে’… (সবাই মিলে মিশে রথ যাত্রায় যাই) এ বিশেষ মারমা গান গেয়ে মহারথ নিয়ে সাংগু নদীর তীরে পৌঁছে রথযাত্রা। পাংখো নৃত্যের তালে তালে রথে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং নগদ অর্থদানে অংশ নেয় শতশত মারমা তরুণ-তরুণী ও পূণ্যার্থীরা। এর আগে ‘সত্য-সুন্দর ও ন্যায়কে বরণ এবং অশুভকে বর্জন’ বাণীকে বুকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে উদযাপিত হয় ফানুস উৎসব।

ফানুস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সৌরভ দাশ শেখর, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াছির আরাফাত, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত কান্তি দাশ, সদস্য মো.মহিউদ্দিন।

এসময় উৎসবে সহ¯্রাধিক রং বেরংয়ের ফানুস ও আতশবাজির ঝলকে রঙিন হয়ে ওঠে বান্দরবানের আকাশ। জাতিগত ভেদাভেদ দূরে সরিয়ে সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব দৃশ্য। উপস্থিত সবার মুখে উচ্চারিত হতে থাকে ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

প্রবারণা উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি থেওয়াংহ্লাএমং জানান, এবারের প্রবারণা উৎসব অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানে আনন্দের জোয়ার বইছে। সকল সম্প্রদায়ের মানুষের এ উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে। আশা করছি এ বন্ধন অটুট থাকবে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তিনমাস ধর্মীয় কাজ (বর্ষাবাস) শেষে ও শীলপালনকারীরা প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে বিহার থেকে নিজ নিজ সংসারে ফিরে যান। এই কারণেই এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button