রাঙামাটি

যৌবন ফিরেছে সুবলং ঝর্ণায়

শুভ্র মিশু

বর্ষায় যৌবন ফিরেছে সুবলং ঝর্ণায়। তিনশ ফুট উচ্চতার শুভলং ঝর্ণার রূপ দেখতে প্রতিবছর রাঙামাটিতে আসা হাজারো পর্যটক সুবলং যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে নানা প্রাকৃতিক কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়ে ঝর্ণাটিতে পানি থাকে না, বর্ষার বৃষ্টিতেই ঝর্ণাটি তার আপন রুপ ফিরে পায়।

রাঙামাটি সদর হতে সুবলং ঝর্ণার দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় এবং পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণের পাশাপাশি ঝর্ণাটি ভ্রমণ করা যাওয়ায় দেশজুড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে পরিচিত সুবলং ঝর্ণাটি। বেশ কয়েকবছর ধরে প্রাকৃতিক এই ঝর্ণাটি বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্যান্য সময় আর তার রুপ দেখাতে পারে না। আগে শুকনো মৌসুমে ঝর্ণায় খুব সামান্য পরিমাণে হলেও পানি থাকতো কিন্তু বর্তমানে সেটাও থাকছে না । এতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ঝর্ণাটি দেখতে গিয়ে হাতাসা নিয়ে ফিরে।

তবে বর্ষা মৌসুমে সুবলং ঝর্ণাটি প্রতিবারের মতো এ-ই বছরও যৌবনে ফিরেছে।

যার কারণে ঈদের ছুটিতে যারা রাঙামাটি আসবেন তারা ঝর্ণাটির অপরূপ সৌন্দর্য্যে দেখতে পারবেন এবং ঝর্ণার পানিতে নিজেকে সিক্ত করতে পারবেন বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সুবলং ঝর্ণা বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত উঁচু পাহাড়ি ঝর্ণা । ঝর্ণাটির জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আঁছড়ে পড়ে কাপ্তাই হ্রদের জলে গিয়ে মিশে যায় । এটি বৃহত্তর রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলাধীন ১নং শুভলং ইউনিয়নের চিলারডাক নামক স্থানে কাপ্তাই হ্রদের কোল ঘেঁষে কর্ণফুলী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত সুবিশাল জলরাশির ঝর্ণা । নৌ-পথে সুবলং বাজার যাওয়ার আগে এই অপরূপ ঝর্ণাটির দেখা মিলে ।

সুবলং ঝর্ণা বা জলপ্রপাত শুভলং ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য রাঙামাটি সদরের রিজার্ভ বাজার ও বনরুপার সমতাঘাট থেকে বিভিন্ন ইঞ্জিনচালিত বোট, ছোট – বড় লঞ্চ ও স্পিডবোট ভাড়া পাওয়া যায় । এজন্য আপনাকে অবশ্যই বুঝেশুনে দরদাম করে নিতে হবে । প্রয়োজনে এখানকার স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিতে পারেন । সুবলং ঝর্ণায় রাত্রী যাপনের জন্য নেই কোনো রিসোর্ট । ঝর্ণায় প্রবেশ করতে দর্শনার্থীদের টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হয় ।

ঢাকা থেকে সুবলং ঝর্ণায় ঘুরতে আসা পর্যটক জসিম উদ্দীন জানান, কয়েক বছর আগে গ্রীষ্মে এসেছিলাম এই ঝর্ণায় তখন পানি ছিল না, এইবার এসে দেখলাম ঝর্ণায় প্রচুর পানি আছে, অনেক ভালো লাগছে।

সুবলং ঝর্ণার ইজারাদার জয় চাকমা জানান, বর্ষায় ঝর্ণাটি আপন রূপে ফিরতে শুরু করেছে। আশা করছি পর্যটক সমাগম বাড়বে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আনোয়ার জানান, সুবলং ঝর্ণায় গিয়ে যাতে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে না হয় সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল বোট সেখানে সব সময় টহলে রয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − eleven =

Back to top button