রাঙামাটিলিড

যে বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক, ওঠে না পতাকা

আরমান খান, লংগদু ॥
কাগজে কলমে শিক্ষক আছেন দুজন। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তিনি আছেন সাময়িক বরখাস্ত। অন্যজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত আসেন না বিদ্যালয়ে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসলেও নিয়মিত পাঠদান হয়না। ওঠানো হয় না জাতীয় পতাকা। অ্যাসেম্বলি কী তাও জানে না ছাত্র-ছাত্রীরা।

সরেজমিনে এমনি এক বিদ্যালয়ের দেখা মিলেছে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইয়ারিংছড়ি গ্রামে। গ্রামের নামেই বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘‘দক্ষিণ ইয়ারিংছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় জাতীয় পতাকা টানানো হয়নি। ভবনের চারপাশে আবর্জনায় ভরপুর। অফিস রুমের টেবিলে ভাঁজ করা জাতীয় পতাকা। একটি শ্রেণি কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছে একজন তরুণ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এলাকার দুজন তরুণকে নিয়োগ করেছে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য। মুলত এই দুই তরুণ মিলে কোনোমতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছে।

ভলেন্টিয়ার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছুটিতে আছেন। আজ শুধু আমি একা আছি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হওয়ায় তিন শ্রেণির (৩য় থেকে ৫ম) সবাইকে নিয়ে এক কক্ষে পড়ানো হচ্ছে। এখানে শিক্ষক সংকট থাকায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পড়ানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধ ও বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা তেমন একটা আসে না। বুধবার স্থানীয় বাজারে হাটবার থাকায় অনেকেই হাটে চলে যায়। আর বৃহস্পতিবার হলে শিক্ষার্থীরা মনে করে আজ হাফ স্কুল। শিক্ষার্থীরা আরো জানায় বাংলা আর ইংরেজি ছাড়া অন্য বিষয়ে তেমন পড়ানো হয় না।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, গত চারমাস আগে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারি শিক্ষক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এখন দুজন শিক্ষক থাকলেও একজন শিক্ষক মামলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত আছেন। আমরা কমিটির সদস্যরা মিলে স্থানীয় দুজন তরুণকে সামান্য কিছু সম্মানী দিয়ে ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। শিক্ষক সংকটের কারণে এখানে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইমাম উদ্দিন জানান, আমার জানামতে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। একজন শিক্ষক নিয়মিত আছেন। যিনি আছেন তিনি তার দায়িত্ব পালন করবেন। যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চেষ্টা করবো ডেপুটেশনে একজন শিক্ষক দেওয়ার জন্য।

পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার পরেও কিভাবে শিক্ষকরা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান? এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এখানে জেলা পরিষদের ইচ্ছায় সব হয়। আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না। শিক্ষকরা জেলা পরিষদের সুপারিশ নিয়ে বদলি হয়ে সুবিধামতো এলাকায় চলে যান।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 14 =

Back to top button