ব্রেকিং নিউজ
নীড় পাতা / ব্রেকিং / যে পথ ধরে এলো বাবা দিবসের ভাবনা
parbatyachattagram

বাবা,যেনো সত্ত্বায় মিশে থাকা একটি নাম, একটি শব্দ। সন্তানের প্রতি অদম্য ভালোবাসার বুনো প্রকাশ যেনো বাবাতেই দেখা মিলে সবচে তীব্র। জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সারাবিশ্বে পালিত হয় বাবা দিবস। সেই হিসেবে আজ বাবা দিবস পালিত হবে সারা পৃথিবীতেই। নানান আয়োজনে পালিত এই দিনটিতে প্রতিটি সন্তান যেনো বাবার জন্য বাড়তি কিছু করার চেষ্টায় মুখিয়ে থাকে। যদিও বাবার জন্য,বাবাকে ভালোবাসার জন্য কোন দিন লাগেনা,তবুও একটা বিশেষ দিন সবার বাবার জন্যই যেনো। কিন্তু কি করে এলো এই দিনটি ? চলুন পেছনে ফিরে দেখি-

সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান সোনোরা লুইস ডডের মা। ডডের বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন সবে যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন। ডডের বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। তারপর থেকেই সে দেখছে তাদের ছয় ভাই-বোনকে মানুষ করার জন্য তার বাবা রাত-দিন কি কঠিন পরিশ্রমই না করছেন।

বাবার আদর-স্নেহের ছায়াতলে থেকে তারা তাদের মায়ের অভাব বুঝতেই পারেনি। বাবাই একইসঙ্গে মা ও বাবা’র ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

তারপর ১৯০৯ সাল। ডডের বয়স তখন ২৭ বছর। সে দেখলো মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সারাবিশ্বে মা দিবস পালিত হয়। কিন্তু বাবাকে ভালোবাসা জানানোর কোনো বিশেষ দিনক্ষণ নেই। তখন তার মাথায় বুদ্ধি এলো। ডড ভাবলো মা দিবসের মতো ‘বাবা দিবস’ থাকলে বাবাদের প্রতি প্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর সুযোগ ঘটবে।

ডডের এমন ভাবনাকে কেউ-ই গুরুত্ব দিতে চাইলো না। উল্টো হাস্য-রসিকতা করে উড়িয়ে দিলো। তাতে ডড কিন্তু মোটেও দমে যায়নি। তার আগ্রহ আরো প্রবল হয়ে উঠলো। বাবার প্রতি তার ভালোবাসার দৃষ্টান্ত সে স্থাপন করবেই। কারণ বাবাই তার সব। তারপর থেকে সে প্রকাশ্যে বাবা দিবস পালনের পক্ষে জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালালো।

প্রচেষ্টা বৃথা গেলো না ডডের। পরের বছর ১৯১০ সালে ডডের নিজ শহর ওয়াশিংটনের স্পোকান শহরে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পালিত হলো ‘বাবা দিবস’। ১৯১৬ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এ দিবসকে সমর্থন করেন। তাদের জাতীয় আইনসভাতেও স্বীকৃতি পায়। সেই থেকে পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি সন্মান জানাতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ পালিত হয়। আবারও বলছি, বাবা-মা’র জন্য কোনো বিশেষ নয়- তবুও একটি বিশেষ দিনে বিশেষভাবে স্মরণ করলে ক্ষতি কি?

বাবা দিবস পালনের রীতি নীতি যেখানে যেমন

দিবস ও বিষয় এক হলেও আবেগ, অনুভূতি প্রকাশের রীতি নীতি একেক দেশে একেক রকম। তোমাদের জন্য জানিয়ে দিলাম তারই কিছু তথ্য।

বাংলাদেশ: আমাদের দেশে বাবা দিবস পালনের প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দিবসটি পালনের প্রচলনও বাড়ছে।

শহরে আধুনিকমনস্ক তরুণ-তরুণীরা এই দিবসটি পালন করে নিজেদের মতো করে। তবে ঘটা করে পারিবারিক আয়োজন খুব একটা হয়না এখানে। তবে বাবাকে ঘিরে নানান আয়োজন চোখে পড়ে ইদানিং। কারণ আমরা বাঙালিরা বাবাকে খুব বেশি ভালোবাসি প্রতিদিন প্রতিক্ষণ।

ভারত : ভারতে জুনের তৃতীয় রোববার পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণে ভারতে বাবা দিবস পালিত হয়। এই দিন বাবার সঙ্গে কাটায়, বাবাকে শুভেচ্ছা জানায় কার্ড, ফুল বা অন্যকিছু দিয়ে। পরিবারের সবাই মিলে পিকনিক বা সিনেমা দেখাটাও বেশ প্রচলিত।

আমেরিকা: ১৯৭২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন বাবা দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করলে প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালিত হয়। আমেরিকার পরিবারের সদস্যদের কাছে এই দিনটি পুনর্মিলনীর মতো। বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল, কার্ড, চকোলেট, নেকটাই আমেরিকানদের পছন্দের তালিকায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রোববার বেশ ঘটা করেই বাবা দিবস পালন করে। বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে তারা কার্ড, ফুল, নেকটাই বা হাতে বানানো কিছু উপহার দেয়। তাছাড়া এ দিন পরিবারের সবাই একসঙ্গে সময় কাটায়। অনেকেই এদিন বাবার সঙ্গে পিকনিক, মাছ শিকারে বা রেস্টুরেন্টে খেতে যায়।

শুধু এইসব দেশেই নয়, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নিজ নিজ রীতিতে পালন করা হয় বাবা দিবস। ধনী কিংবা দরিদ্র,মহৎ কিংবা অপরাধী,প্রতিটি বাবার সন্তানই দিনটিতে চেষ্টা করেন প্রিয় বাবার জন্য কিছু করার। বাবার প্রতি এই মমত্ব,ভালোবাসার যে কোন ব্যাখ্যা নেই,থাকেনা কোনদিন !

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খাগড়াছড়িতে ডাকাতিকালে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

খাগড়াছড়িতে ডাকাতিকালে প্রতিবন্ধী এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খাগড়াছড়ি সদর থানার …

Leave a Reply